২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশীদের নিরাপদ রাখায় পুলিশকে ধন্যবাদ বার্নিকাটের

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ধর্মনিরপেক্ষতায় উল্লেখযোগ্য রেকর্ড রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিফেন্স মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। তিনি আরও বলেন, সহিংস চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ বেশ দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া গত দুই সপ্তাহের হুমকির মুখেও বিদেশীদের নিরাপদ রাখার জন্য বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বার্নিকাট। বুধবার রাজধানীর মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সংগঠিত অপরাধ’- শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মার্শা বার্নিকাট। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর ফাতেমা বেগম। এতে পুলিশ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনের শিক্ষক ও ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে গত দুই সপ্তাহের হুমকির মুখে বাংলাদেশের সকল বিদেশীকে নিরাপদ রাখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করায় পুলিশ ও সকল নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ আপরাধের কাছে বিশ্বের সকল দেশই অরক্ষিত। জনগণের নিরাপত্তার জন্য এটি একটি প্রতিবন্ধকতা। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। এটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নষ্ট করে ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সঙ্গবদ্ধ অপরাধ চক্র আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি বিকল্প শাসন প্রণয়নকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তাই সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।

মার্শা বার্নিকাট বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সহিংস চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে বেশ দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে। এই বছরের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এই সহিংস চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের সর্বজনীন হুমকিকে চিহ্নিত করতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও অন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা এবং এটি একটি বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতা। এই ধরনের হুমকি কার্যকরভাবে চিহ্নিতকরণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অপরাধী চক্র আজকে এমন ধারা বিস্তার ও বহুমুখীকরণ করছে যা পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন দেশের শাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিস্তার অন্যদেরও পথ দেখায়। উদাহরণস্বরূপ অন্যথায় আইনতসিদ্ধ পণ্য যেমন সিগারেটের চোরাচালানের পথ ধরে মাদক ব্যবসা, সরকারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, বন্যপ্রাণী পাচার, অস্ত্র পাচার, মানব পাচার, অর্থ পাচার ও চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেতে পারে। যার ফলাফল বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্ষমতার ওপর থেকে আস্থা হারাতে পারে। যেসব নাগরিক তাদের সরকারের ওপর থেকে বিশ্বাস হারায় তারা এই সহিংস চরমপন্থীদের দলের নিয়োগের শিকারে পরিণত হয়। এটি প্রতিনিয়ত খারাপ আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশকেই এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও এর উন্নয়নে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এবং ধর্মনিরপেক্ষতায় উল্লেখযোগ্য রেকর্ড রয়েছে। এইসব কারণে সব ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠনগুলোর কাছে বাংলাদেশ বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। আপনারা এই লড়াইয়ে কোনভাবেই একা নন, আমরাও আপনাদের পাশে রয়েছি।

বহুজাতিক সংগঠিত অপরাধ দমন করতে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য, বহুমুখী সহযোগিতা ও সরকারী-বেসরকারী প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে সরকার, শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সুশীল সমাজ, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন ও উদ্ভাবনী সহযোগিতাও প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অপরাধ বিশেষজ্ঞরা যোগ দিয়েছেন।