২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুত কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সোলার বিদ্যুত কেনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। সরকারের নানামুখী উদ্যোগের পরও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ ঘটছে না। নতুন এ উদ্যোগে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদনে আগ্রহীরা উৎসাহী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুত ক্রয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রতিদিন চাহিদা থাকার প্রেক্ষিতে প্রথমে সব থেকে কম দামে উৎপাদিত বিদ্যুত ক্রয় করা হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বেশি দামের বিদ্যুত ক্রয় করে পিডিবি। তবে সোলার বিদ্যুতের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধি-বিধান থাকবে না। উদ্যোক্তা সরবরাহ করতে পারলেই পিডিবি তা ক্রয় করবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, বিদ্যুত কেনার ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুত প্রাধান্য পাবে। অন্য জ্বালানিতে পর্যাপ্ত বিদ্যুত উৎপাদন হলেও সৌরবিদ্যুতকে প্রাধান্য দেয়া হবে। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের একটি মূল্যকাঠামো নির্ধারণ করা হবে। তবে বিদ্যুত গ্রিড পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নিতে হবে উদ্যোক্তাকে। সঞ্চালন ব্যবস্থা উদ্যোক্তাদের নির্মাণ করতে হবে।

বর্তমানে সরকার অনুমোদিত সৌর প্রকল্পের প্রতি ইউনিট দাম ১৪ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুতের চেয়ে এই দাম বেশ কম। ডিজেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ে গড়ে ২২ টাকা আর ফার্নেস অয়েলে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম ১৮ টাকা প্রতি ইউনিট। উপরন্তু এসব বিদ্যুত কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট রয়েছে। ভাড়ায়চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুত না নিলেও তার ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। সরকার সম্প্রতি সোলার বিদ্যুত প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিদ্যুত সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করছে। কোন উদ্যোক্তা বিদ্যুত দিতে পারলেই কেবল তাদের টাকা দেয়া হবে। কেন্দ্রের জন্য কোন ক্যাপাসিটি পেমেন্ট থাকবে না।

বিভিন্ন জ্বালানি দ্বারা উপাদিত বিদ্যুত রেশনিং করে কিনে পিডিবি। এ ক্ষেত্রে গ্যাসচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র প্রাধান্য পায়। চাহিদা না থাকলে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়। নতুন উদ্যোগটি কার্যকর হলে সৌরবিদ্যুত কিনতে বিতরণ কোম্পানিগুলো বাধ্য থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব দিক বিবেচনায় নিলে সোলার বিদ্যুতের দাম তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুতের থেকে বেশ কম হবে। সৌরবিদ্যুতে জ্বালানি খরচ শূন্য। এছাড়া বিদ্যুত কেন্দ্রে কোন পরিবেশ দূষণ হয় না। তবে সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে জমির প্রাপ্যতা। সৌরবিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে বিপুল পরিমাণ জমির প্রয়োজন হয়। এক মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য তিন একর জমির প্রয়োজন হয়। এভাবে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ৯০০ বিঘা জমির প্রয়োজন হয়। মোট বিনিয়োগের বেলায় দেখা অন্য ১০০ মেগাওয়াট তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় ৬০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজন হয় এক হাজার কোটি টাকা। বাড়তি বিনিয়োগ এবং জমির অপ্রাপ্যতার জন্য সৌরবিদ্যুতের বিকাশ ঘটছে না। তবে রাতের বেলায় সৌরবিদ্যুত গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে অন্য জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে। উদ্যোক্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ খাতে সরাসরি সরকারী ভর্তুকি রয়েছে; বাংলাদেশে যা নেই। এখানে ভূমি ক্রয়ে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। সৌরবিদ্যুতের জন্য একটি মূল্যকাঠামো নির্ধারণের পরামর্শ দেন। উদ্যোক্তারা বিদ্যুত দিতে সক্ষম হলে তা অবশ্যই কিনতে হবে। এমন নীতিমালা থাকা দরকার। বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, কাপ্তাইয়ের জলবিদ্যুত ব্যতীত নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে সোলার হোম সিস্টেমসহ সৌরবিদ্যুতের অবদান ১৬৮ মেগাওয়াট। ২০২১ সালের মধ্যে সরকার সৌরশক্তি থেকে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত পেতে চায়। তবে এই পরিকল্পনায় ছিল ২০১৫ সালের মধ্যে অন্তত ৫০০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুত উৎপাদন হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) সূত্র জানায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালাকে যুগোপযোগী করতে পর্যালোচানা চলছে। এই নীতিমালা বিশ্বের প্রচলিত বিভিন্ন পন্থা দেখে তৈরি করা হচ্ছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সুস্পষ্ট করা হবে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে একটি মূল্যকাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দেশের সকল জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট সীমা থাকলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে তা নেই।