২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে বিনামূল্যে চিকিৎসা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বহির্বিভাগে দু’শতাধিক রোগীর বিনামূল্যে চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগ-২-এর ৪০৪ নম্বর কক্ষে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগ ও কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগের উদ্যোগে এ সেবা প্রদান করা হয়। বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা ও চশমার পাওয়ার নির্ধারণ করা হয়।

বুধবার ফিতা কেটে ও অটো রিফ্লাকটোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে রোগীর চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে ফ্রি ভিশন স্ক্রিনিং ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মোঃ আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পরিচালক ডাঃ মোঃ নাজমুল করিম, উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ মোখলেস-উজ-জামান, চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ নাজনীন খান, সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ছানোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক ডাঃ মোঃ বেলাল এইচ সরকার, সহকারী পরিচালক ডাঃ পবিত্র কুমার দেবনাথ, ডাঃ সোনিয়া আহসান, ডাঃ মেহজাবিন হকসহ রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীবৃন্দ। ফ্রি ক্যাম্পের সমাপ্তি ঘোষণা করেন চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম।

উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান বলেন, চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। চক্ষু পরিচর্যা বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানের অভাব ও অসচেতনতার কারণে দেশের অনেক মানুষ চোখের নানাবিধ সমস্যায় ভুগছে। অনেকে অন্ধত্ব বরণ করেছে। চোখের যতœ ও সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করা অপরিহার্য। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক এনায়েত হোসেন বলেন, বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে ০.৭৫ জন অন্ধত্বের শিকার। দেশে প্রায় ১৩ লাখ শিশু দৃষ্টিত্রুটি ও ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬শ’ শিশু ক্ষীণদৃষ্টি সমস্যায় আক্রান্ত। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে তাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ৩৩৬ জন এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধযোগ্য শিশু অন্ধত্ব ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। একটু সচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিতকরণ ও চিকিৎসা রোধ করতে পারে শিশু অন্ধত্ব।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে বিশ্বে ২৮৫ মিলিয়ন মানুষ কমবেশি দৃষ্টিহীনতার সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে ১৯ মিলিয়ন শিশু রয়েছে। পৃথিবীতে ৩৯ মিলিয়ন মানুষের অন্ধত্বের সমস্যা রয়েছে। অন্ধত্বের শিকার মানুষদের ৯০ শতাংশই নিম্ন আয়ের দেশগুলোর। দৃষ্টিহীনতার শিকার ৮০ শতাংশই চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ ও আরোগ্যযোগ্য।

বিএসএমএমইউর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধির পরিদর্শন ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের ৫ম তলায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল অফিসার কার্ললেস প্যাট্রিক রাবি পরিদর্শন করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির প্রধান গ্রন্থাগারিক ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান খান, আইটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সায়েদুর রহমান, সহকারী গ্রন্থাগারিক আশরাফ উদ্দিন আহাম্মদ প্রমুখ। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।