২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গানে গানে বাউল সাধক লালন ও আব্বাসউদ্দীন স্মরণ

গানে গানে বাউল সাধক লালন ও আব্বাসউদ্দীন স্মরণ
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গানে গানে স্মরণ করা হলো আধ্যাত্মবাদী বাউল সাধক চূড়ামণি ফকির লালন শাহ ও কালজয়ী সঙ্গীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীনকে। সঙ্গীতজগতের এ দুই মহিরুহের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে বুধবার এ সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করে বাংলাদেশ লোক সঙ্গীত পরিষদ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীন ও ড. নাশিদ কামাল। পরিষদের সভাপতি সঙ্গীতশিল্পী অধ্যাপক ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা। বক্তারা বলেন, ফকির লালন সাঁই ছিলেন একাধারে বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক ও দার্শনিক। এছাড়াও তিনি অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আব্বাসউদ্দিন আহমদের পরিচিতিও দেশজুড়ে। আধুনিক গান, স্বদেশী গান, ইসলামি গান, পল্লীগীতি, উর্দুগান সবই তিনি গেয়েছেন। তবে পল্লীগীতিতে তার মৌলিকতা ও সাফল্য সবচেয়ে বেশি।

দ্রুত দাদরা তালে লালনের ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ পাবি’ ও কাহারবা তালে আব্বাসউদ্দীনের ‘নাও ছাড়িয়া দে পাল উড়াইয়া দে’ এই দুটি গানের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্মরণানুষ্ঠানের সূচনা ঘটে।

‘যেখানে সাঁইর বারামখানা, মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার, গুরুপদে নিষ্ঠা মন যার হবে, আমার ঘরখানায় কে, তিন পাগলে হলো মেলা, ও মন গুরু ভজরে সাঁইজির অমীয় বাণীর কথা ও সুরের এমন গানে মিলনায়তন হয়ে ওঠে লালনময়। মুহুর্মুহু করতালি ও আনন্দ উল্লাসে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানায় মিলনায়তন পরিপূর্ণ লালনভক্তরা। পিনপতন নীরবতায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো সাঁইয়ের সুরে অবগাহন সুরে সাঁইজির প্রেমে হারিয়ে যান লালনভক্তরা।

অন্যদিকে মরমী শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের মরমী গানের পরিবেশনায় সুরের অনুরণন তৈরি হয় লোকসঙ্গীত পিয়াসীদের হৃদয়ের তন্ত্রীতে। লালনের পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে পরিবেশিত হয় মরমী শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের ‘আমার হাড় কালা করলিরে, আমায় এতো রাতে কেন ডাক দিলি, ওরে ও পরানের মাঝি, ঐ না রূপে নয়ন দিয়ে, থাকতে পার ঘাটাতে, ও যার আপন খবর, ফাঁন্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে, নাও ছাড়িয়া দে পাল উড়াইয়া দে ইত্যাদি গানগুলো। প্রতিটি পরিবেশনার পরই মিলনায়তন প্রকম্পিত করতালিতে শিল্পীদের আন্তরিকতা মিশ্রিত অভিনন্দন জানায় আব্বাসউদ্দীনের ভক্তানুরাগীরা।

লালন ও আব্বাসউদ্দীনের গানের একক পরিবেশনায় অংশ নেনÑ সোমা সরকার, আব্দুল আজিজ, ফাইরুজ নাওয়ার কাঁকন, অনঙ্গ মোহন রাজবংশী, নাসরীন হায়াত, তাবাসসুম রিয়া, হরিমঙ্গল দাশ, নাসরিন ফেরদৌস চমন, সেলিনা আলম, সাবিনা ইয়াসমিন, রিয়াদ হাসান, মফিজুর রহমান বিরহী, লুৎফুন নাহার মনিরা ও ড. আবুল কালাম আজাদ।

কপিরাইট অফিস সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার দাবি ॥ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কপিরাইট অফিস রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত বিশিষ্টজনরা। বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। যৌথ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়াজন করে বাংলাদেশ কপিরাইট এ্যান্ড আইপি ফোরাম, বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড এ্যাসোসিয়েশন (বামবা), মিউজিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইবি), বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

ক্ষমতার ধারাভাষ্যে ‘যা নেই ভারতে’ নাটকের ১২ তম মঞ্চায়ন ॥ কুরুবংশের রানী তথা হস্তিনাপুরির রাজবাড়ির বধূরা কেউ স্বেচ্ছায় মাল্যদান করেনি। ভীষ্ম যুদ্ধ করে তাঁর ভাই বিচিত্রবীর্যের হাতে তুলে দেন দুই নারী অম্বিকা ও অম্বালিকাকে। কারণ তিনি বিবাহ করবেন না। কিন্তু ভাই তরুণ বয়সে মারা যান। দেখা দেয় অস্তিত্বের সঙ্কট বংশরক্ষায়। ভীষ্ম অম্বিকাকে অনুরোধ করেন পুত্রসন্তান ধারণ করতে। অম্বিকার আকাক্সক্ষা তিনি ভীষ্মের সন্তানের মা হতে চান। ভীষ্মের বক্তব্য তিনি প্রতিজ্ঞাভ্রষ্ট হবেন না। নারীকে সেই পুরুষের ইচ্ছার কাছে নতজানু হতে হয়। পুরুষের আদেশে, তার বিছানায় যাকে পাঠানো হবে তাকেই গ্রহণ করতে হবে। ব্যাসদেবের সঙ্গে অম্বিকার বলপূর্বক মিলন হয়। সে মিলনে ব্যাসদেবের প্রতি না তাকানোয় জন্ম হয় অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের। অম্বালিকার সঙ্গে মিলনে জন্ম নেন পা-ু। দাসীর গর্ভে জন্মান বিদুর। ব্যাসদেব এদের সবার পিতা। ‘যা নেই ভারতে’ নাটকের গল্প এভাবে এগিয়েছে মহাভারতের মূল কাহিনীর প্রেক্ষাপট নিয়ে। কণ্ঠশীলনের ৭ম প্রযোজনায় নাটকটির ১২তম মঞ্চায়ন হয় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায়। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে বর্তমান সময়কে ধারণ করে নাটকটি রচনা করেছেন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা মনোজ মিত্র এবং নির্দেশনা দিয়েছেন মীর বরকত।