২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাদেনের পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকার কথা জানত ইসলামাবাদ- নতুন বিতর্ক

লাদেনের পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকার কথা জানত ইসলামাবাদ- নতুন বিতর্ক

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল পাকিস্তান? নাকি আল কায়েদাপ্রধান নিজেই লুকিয়ে ছিল সে দেশে? এতদিন পাকিস্তানের দাবি ছিল, ওসামা হত্যার আগে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানত না। সাবেক পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী চৌধুরী আহমেদ মুখতারের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে। সূত্র : ওয়েবসাইট।

ওসামা বিন লাদেনের পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকার খবর সে দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা জানতেন, সংবাদ মাধ্যমে মুখতারের এই মন্তব্যের জেরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে সাবেক পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভূমিকা। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে হয়ে উঠেছে যে, বাধ্য হয়ে ইতোমধ্যেই সরকার মুখতারের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ মুখতারের কাছে এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা তলব করেছেন। জানা গেছে, মুখতার ইতোমধ্যেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, অস্বস্তি এড়াতে তড়িঘড়ি করে সাবেক পাক অভ্যন্তরীণবিষয়ক মন্ত্রী রেহমান মালিক দাবি করেছেন, মুখতার কখনও বিদেশমন্ত্রী ছিলেন না। তাঁর মতে, মুখতার প্রশ্নকর্তার ভাষা এবং প্রশ্ন না বুঝেই এমন মন্তব্য করেছেন। এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘ওসামা যে পাকিস্তানে ছিল, কেউই সে কথা জানতেন না।’ মুখতার মিথ্যে কথা বলছেন বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফের ঘনিষ্ঠ রশিদ কোরেশি। তাঁর কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করি না মুখতার এ কথা বলেছেন। যদি তা সত্যিই হয়, তবে বুঝতে হবে মুখতারের কোথাও একটা গণ্ডগোল হয়েছে।’ তাঁর মতে, এই মন্তব্যে গোটা দেশ আহত। এর পরেই কোরেশি সংযোজন করেন, ‘ওসামাকে হত্যা করার আগে সে কোথায় ছিল তা পাক প্রেসিডেন্ট জানতেন, এমন মন্তব্য মুখতার করেছেন বলে আমি শুনিনি।’ ঘটনাচক্রে ওসামা হত্যার সাড়ে চার বছরের মধ্যে এই প্রথম পাকিস্তান থেকে এমন মন্তব্য উঠে এলো। যেখানে বলা হলো, পাকিস্তান সচেতনভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বাকি বিশ্ব থেকে লুকিয়ে রেখেছিল ওসামাকে এবং এমন একজন এই মন্তব্য করলেন, যিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ইউসুফ রাজা জিলানির মন্ত্রিসভায় মুখতার সেরা পাঁচের মধ্যেই ছিলেন। কাজেই উড়িয়ে দেব বললেও মন্তব্যটাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছে না সে দেশের সরকার। ওসামা হত্যার পর পরই রেহমান মালিক এ ঘটনায় পাক সরকারের কোন ভূমিকা বা সহযোগিতার কথা স্বীকার করেনি। তিনি বলেছিলেন, ‘যে ভাবে এ দেশে ওসামা নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল, আমরা তা ধরতে পারিনি।’ ৫০০ শতাংশ নিশ্চিত বলে দাবি করে তিনি বলেছিলেন, ‘কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না।’ পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেছিলেন, আইএসআই বা সেনা তাঁর কাছে কোনকিছুই গোপন করেনি। পাকিস্তান আজ পর্যন্ত এই মতে ভর করেই হেঁটে এসেছে। মুখতারের নয়া মন্তব্য তাই বেশ প্যাঁচেই ফেলেছে পাকিস্তানকে।

নির্বাচিত সংবাদ