২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গৃহবধূর বাড়িতে হামলা মায়ের কোল থেকে নবজাতক ছিনতাই ॥ পরে উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর, ১৪ অক্টোবর ॥ এখানে এক অসহায় মায়ের কোল থেকে তার সদ্যজাত সন্তানকে ছিনতাই করা হয়েছে। ঘটনার একদিন পর সদর থানা পুলিশ অবশ্য ছিনতাইকৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু নবাগত সন্তানটি অবৈধÑ এমন একটি উড়ো কথা এলাকায় ছড়িয়ে দেয় শাহ আলম নামে এক ধূর্ত লোক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিছুটা ভুল বুঝেই স্থানীয় জনতা গৃহবধূর বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাংচুর করে। পুলিশ হামলায় জড়িত তিনজনকে আটক করেছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর গ্রামে ১০ মাস আগে এক গৃহবধূকে শাহ আলম নামে লঞ্চের এক কুলি ধর্ষণ করলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার ভোরে ওই গৃহবধূ একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। এ সময় চন্দনী বেগম নামের এক প্রতিবেশী নবাগত সন্তানকে জোর করে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। বুধবার দুপুরে ঐ সন্তানকে উদ্ধার করেছে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। নিজের বুকে সন্তান ফিরে পেয়ে খুশি হলেও পিতৃপরিচয় নিয়ে শঙ্কিত ঐ গৃহবধূ।

পুলিশ, স্থানীয়, পারিবারিক ও ঐ গৃহবধূ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর গ্রামে আয়নাল ফকিরের মেয়ের সঙ্গে একই গ্রামের রজ্জব আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর সেই ঘরে তিন ছেলে সন্তান হয়। স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় ঐ গৃহবধূ সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সন্তানদের ভরণ পোষণ করে সে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সন্তান জন্মানোর তিন মাস আগে পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন টুকু মোল্লা, মেম্বর তাহেরসহ স্থানীয় লোকজন নিয়ে ঐ গ্রামের রহিম হাওলাদারের বাড়িতে সালিশ বসে। সালিশে শাহ আলম ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে। সন্তানের ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শাহ আলম অবৈধ সন্তান বলে এলাকাবাসীকে উস্কে দেয়। এতে স্থানীয়রা গৃহবধূর ঘরবাড়িতে ভাংচুর করে। এ সুযোগে প্রতিবেশী সিকিম আলীর স্ত্রী চন্দনী বেগম গৃহবধূর কোল থেকে নবজাতক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

গৃহবধূ বুধবার সকালে মাদারীপুর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণাকে জানায়। তিনি মাদারীপুর থানায় জানালে ওসি মোঃ জিয়াউল মোর্শেদ ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্ত চন্দনী বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। চন্দনী বেগমের স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী পুলিশ সদর উপজেলার মস্তফাপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পুলিশ এ ঘটনায় চন্দনী বেগম ও তার ছেলে বাবলু গৌড়াসহ ৩ জনকে আটক করেছে।

গৃহবধূ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দশ মাস এই সন্তান পেটে ধরেছি। খেয়ে না খেয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্ট করে সন্তান পেটে ধরেছি। কিন্তু সেই সন্তান জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্ষক শাহ আলম অবৈধ সন্তান অপবাদ দিয়ে লোকজনকে উস্কে দেয়। এ সময় প্রতিবেশী চন্দনী বেগম আমার কোল থেকে আমার সন্তানকে ছিনিয়ে নেয়’।

মাদারীপুর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহ্মুদা আক্তার কণা বলেন, ‘মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে অন্যত্র দেয়া অপরাধ। তাই এ ঘটনা শোনামাত্রই সদর থানার ওসিকে জানানো হয়। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফেরত দিয়েছে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, ‘তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’