২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ প্রধানমন্ত্রী দাসিয়ারছড়া যাচ্ছেন

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার সদ্যবিলুপ্ত কুড়িগ্রামের ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে ছিটবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। দীর্ঘ ৬৮ বছর ১১১ ছিটমহলের মানুষ তাদের রাষ্ট্রীয় পরিচয় ফিরে পাওয়ায় ছিটবাসীর মধ্যে বর্ণিল আনন্দ বিরাজ করছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে কুড়িগ্রামের সরকারী কলেজ মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন। তার এ ভাষণ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সব ছিটমহলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এছাড়া বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে মালিকানা স্বত্ব ও বিশেষ খতিয়ানে কলমী নক্সার লিপিবদ্ধ কাজ। খবর স্টাফ রিপোর্টারের।

কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ায় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে আনন্দে উদ্বেলিত সাবেক ছিটবাসীরা। বাংলাদেশে যুক্ত হওয়া মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সাজিয়েছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহলকে। তোরণে তোরণে ছেয়ে গেছে গোটা শহর। তার সফরকে সফল করতে চলছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনের আনন্দ মিছিল, সভা-সমাবেশসহ ব্যাপক প্রস্তুতি।

৬৮ বছর অন্ধকারে থাকা মানুষগুলোর মাঝে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতের আলো জ্বালিয়ে উন্নয়নের মূলস্রোতে নিয়ে আসার সূচনা করবেন। ঘোষণা করবেন ইন্দিরা-মুজিব দাসিয়ারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের। ছিটবাসীর চাওয়া-পাওয়া নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করবেন তিনি।

সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার আলতাব হোসেন জানান, সদ্যবিলুপ্ত ১১১টি ছিটের মধ্যে সর্ববৃহৎ কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়া। সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ছিটমহলের মানুষগুলো এই প্রথম কোন সরকারপ্রধানের সান্নিধ্য পাবে। এটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ জাফর আলী জানান, আমরা তার নিকট কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের দাবি করব।

লেগেছে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা লালমনিরহাট থেকে জানান, স্বপ্নে ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার ছোঁয়া তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। যার প্রমাণ মিলবে আজ স্যাটেলাইট ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সহায়তায় ১১১টি সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর সঙ্গে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী দাসিয়ারছড়া ছিটমহল পরিদর্শনের আনন্দ উপভোগ করবেন।

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি (বিলুপ্ত) বর্তমানে সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহল উন্নয়ন কমিটির সভাপতি (বাংলাদেশ) মোঃ মইনুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনাকে বরণ করতে বঞ্চনাগঞ্জনার শিকার সাধারণ মানুষগুলো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ইতিহাসের পাতায় শেখ হাসিনা ছিটমহলের মানুষের যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু-ছিটমহল-শেখ হাসিনা একই বৃত্তে গাঁথা ফুল।

এদিকে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর প্রতিটি সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহলে স্থাপনে দিনরাত কাজ করছেন সরকারের নিয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মালিকানা স্বত্ব ও বিশেষ খতিয়ানে কলমী নক্সার লিপিবদ্ধ কাজ শুরু আজ ॥ স্টাফ রিপোর্টার পঞ্চগড় থেকে জানান, বৃহস্পতিবার থেকে বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে শুরু হচ্ছে জমির মালিকানা স্বত্ব ও বিশেষ খতিয়ানে কলমী নক্সার লিপিবদ্ধ কাজ। উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি ১৫ নবেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার অভ্যন্তরে ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলে জমির মালিকানা স্বত্ব নির্ধারণে কলমী নক্সা তৈরি এবং রেকর্ড অব রাইটস ফর্মে দখলের ভিত্তিতে মালিকানার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। যেসব উপজেলায় ছিটমহল রয়েছে সেসব উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রধান করে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি জমির মালিকানা নির্ধারণে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির যাবতীয় কর্মকা- তদারকি করবেন।