২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কারচুপি শিল্প সুদিন হারাচ্ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ একদিকে অভাব প্রয়োজনীয় পুঁজির, অন্যদিকে নেই দক্ষ জনবল, ফলশ্রুতিতে সুদিন হারিয়েছে রাজধানীর এমব্রয়ডারি আর কারচুপি শিল্প। মিরপুর, মোহাম্মদপুরের অনেক কারখানাতেই সীমিত আকারে চলছে পোশাকে পুঁথি, চুমকি বসানোর কাজ, যার কোনটিতেই নেই তিন থেকে চারজনের বেশি কারিগর।

মহাজনরা বলছেন, দাম বেশি হওয়ায় দেশীয় কারচুপির চাহিদা কমে যাওয়ার সঙ্গে বাজারে অবাধে প্রবেশ করছে কমদামী ভিনদেশী পোশাক, যে কারণে এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।

ছোট্ট এক একটি ঘর, যার মেঝেতে পাতা কয়েকটি কাঠের ফ্রেম। ফ্রেমগুলোর চার পাশে সুতা দিয়ে টান টান করে আটকানো বাহারি নক্সার শাড়ি, লেহেঙ্গা, পাঞ্জাবি কিংবা কামিজ। প্রত্যেকটি পোশাকের দু’পাশে পিঁড়িতে বসে একমনে পুঁথি, চুমকি, জরি আর কাঁচ বসাচ্ছেন কারিগররা, যার আক্ষরিক নাম কারচুপি। দেশে এক সময় এসব কাজের কদর ছিল অনেক, কিন্তু কালের বিবর্তনে সোনালি অতীত হারিয়েছে এ কুটির শিল্পটি। এক সময় যেসব কারখানায় কাজ করতেন ৩৫ থেকে ৪০ জন কারিগর, এখন তা নেমে এসেছে তিন-চারজনে।

দূরবস্থার উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, বিনিয়োগের জন্য অর্থের যোগানই বড় সমস্যা মহাজনদের কাছে। সঙ্গে রয়েছে ভারত-পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কম মূল্যে পোশাক আমদানির বিষয়টি। এ খাতের উন্নয়নে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা কারখানাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় আনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতার জন্য সরকারী উদ্যোগ দরকার বলেও মনে করে মালিকপক্ষ।