২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটপাথে জিহাদী বইয়ের ছড়াছড়ি

  • ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রকাশক লেখক

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ জঙ্গীপনায় উদ্বুদ্ধ করতে ফুটপাথে বিক্রি হচ্ছে ইসলামী ভাবধারার আদলে বিভিন্ন প্রকাশনীর বই। এসব বইয়ের প্রকাশক ও লেখক জঙ্গী বিষয়ের ওপর লিখে গেলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। ধরা পড়ছে শুধু জঙ্গী আস্তানা গড়ার কারিগরেরা। তাত্ত্বিক জ্ঞানের কথা বলে শিশু কিশোর থেকে শুরু করে মাঝ বয়সীদেরও জঙ্গীদের ছত্রছায়ায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে। এক্ষেত্রে সামাজিকতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ধর্মীয় বইয়ের কথা বলে ফুটপাথে বিক্রির উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এসব বই। জঙ্গী আস্তানা থেকে উদ্ধার করা জিহাদী বইগুলো মূলত মসজিদ কেন্দ্রিক সাময়িক সময়ের জন্য গেড়ে বসা ফুটপাথেই রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লেখক, প্রকাশক ও পাঠক সকলেই এসব বই থেকে জঙ্গীপনায় মেতে উঠছে। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে আনাচে-কানাচে ছাপাখানা অথবা ফটোস্ট্যাটের দোকানে প্রিন্ট হচ্ছে এ ধরনের বই। জরুরীভিত্তিতে জঙ্গী সদস্যদের ব্রেনওয়াশ করতে বিভিন্ন দেশের বই ভাষাগত পরিবর্তন করে বাংলা ভাবধারায় নিয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, জঙ্গীরা বাজারে বা ফুটপাথের এসব বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দফতর এসব বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। ফলে বাজারে ফুটপাথে এমনকি মসজিদ কেন্দ্রিক অল্প সময়ের ফুটপাথেও কাপড় বিছিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে জিহাদী বই। যা শুধু জঙ্গীদেরই নয়, সাধারণ মানুষকেও ধর্মীয় ভাবধারা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। উল্টোপাল্টা উদাহরণের মাধ্যমে এসব বইয়ে ধর্মকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জঙ্গীদের উদ্বুদ্ধ করতে যেসব বই যত্রতত্র এমনকি জঙ্গীদের আস্তানায় মিলছে এগুলো হলÑ ‘আমি যেভাবে মুসলমান হলাম, নছিম হিজাবীর লেখা প্রত্যয়ের সূর্যোদয়। ইসলামিয়া কুতুবখানা থেকে প্রকাশিত ‘শরাহ মিয়াতে আমিল’, মাওলানা আছেম ওমর-এর লিখিত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আলোকে মাহদি ও দাজ্জাল , শায়খ আবু সুহাইব আবদুল আযীয-এর লিখিত দু’শতাধিক ইমাম ও দায়ীদের ফাতওয়া, শাহ সুলাইমান বিন আবদুল্লাহর লেখা যুগে যুগে শয়তানের হামলা, আল হাফিজ ইবনু কাছির (র:) নাম ব্যবহার করে আল ইমাম আহমদ ইবনু নাসর ও আল খুজাঈ এর লেখা ‘দুতিরাং’ তাহাদের নির্দেশনা থেকে রক্ষা কর’, আত-তাজনিদ পাবলিকেশনের ‘প্রশ্ন-উত্তরে সংশয় নিরসন’, ফতওয়া ও গবেষণা পরিষদের পক্ষ থেকে ‘তাওহীদের সুনির্দিষ্ট বিষয়’ বিষয়ক জঙ্গী সৈন্য বাহিনীর জন্য প্রকাশিত বই, শাইখ আবদুল কাদির বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক লিখিত জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা, বিদেশী বইয়ের অনুবাদ করে মোঃ এনামুল হক লিখেছেন ‘হিসনুল মুসলিম’ কুরআন ও হাদিস থেকে সংকলিত দৈনন্দিন যিকর ও দোয়ার সমাহার বিষয়ে, কুরআন ও ইসরামি ইতিহাসের আলোকে এদেশের মানচিত্র, ঢাকার নাজিরবাজারের মাদ্রাসাতুল হাদিসের প্রিন্সিপাল আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ খান মাদাবি লিখিত ‘সুন্নাতে রাসূল ও চার ইমামের অবস্থান’ বিষয়ে লেখা হয়েছে। এছাড়াও জঙ্গীদের উদ্বুদ্ধ করতে এমনও বই প্রকাশিত হয়েছে যার নাম ‘মানচিত্রে কেমন আমার বাংলাদেশ’।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে জঙ্গীদের আস্তানা নিশ্চিহ্ন করার পদক্ষেপ থাকলেও এলাকা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জঙ্গীরা ঠিকই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপতৎপরতার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘বই-ই জ্ঞানের অন্যতম মাধ্যম, জ্ঞানের আলো ছড়াতে বইয়ের কোন বিকল্প নেই।’ এমন স্লোগান মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্রই রয়েছে। শিক্ষকরা পাঠদানের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বইকে উপযুক্ত যেমন মনে করেন তেমনি জ্ঞান ধারণের জন্য বইয়ের কোন বিকল্প নেই। জঙ্গীরাও বইকে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে জঙ্গীপনায় উদ্বুদ্ধ করতে। তবে জঙ্গীদের এসব বই ইসলামের কথা বলে জিহাদের নামে জাতি ও গোষ্ঠীকে নিঃশেষ করতে চায়। ফলে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণসহ বিস্ফোরক বিষয়েও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জঙ্গীদের আস্তানায়।

মসজিদ কেন্দ্রিক ফুটপাথগুলোতেই এখন ইসলামের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের বিষয় তুলে ধরে প্রকাশিত বইয়ের রমরমা বাণিজ্য চলছে। অথচ এসব বইয়ের পেছনে রয়েছে জঙ্গীপনায় উদ্বুদ্ধকরণের নানা কৌশল। জঙ্গীরা মূলত বইয়ের জ্ঞান ধারণা দেয়ার পরই শুরু করে সামরিক ও বিস্ফোরক প্রশিক্ষণের নানা ধাপ। এসব ধাপের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে জঙ্গীকেন্দ্রিক বই। এসব বইয়ের ওপর মেধা অর্জন ও নানা কৌশলের প্রয়োগ বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে জঙ্গী সংগঠনের সদস্যরা।