২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম নেই চাঁপাইয়ের চরাঞ্চলে

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ জেলাজুড়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে। জেলার ৪৮ ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ২৫টি ইউনিয়নে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও তার কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা শহর হতে বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনার কোন কার্যক্রম নেই কয়েক বছর ধরে। ফলে প্রায় ৮টি চরাঞ্চলের মানুষ কোন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। এমনকি জন্ম নিয়ন্ত্রণের কোন সামগ্রী তাদের হাতে না পৌঁছার ফলে চরাঞ্চলে জনসংখ্যার দ্রুত বাড়ছে। ২৫ ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো প্রতিদিন অফিস টাইমে নিয়মিত খোলা রাখার নিয়ম থাকলেও তা বন্ধ থাকে। এসব কেন্দ্রে চলছে চরম অরাজকতা। সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন একটি চরাঞ্চলের ইউনিয়ন শাহজাহানপুর। দ্বিতল ভবন। একাধিক সুদৃশ্য বড় বড় রুম। কিন্তু সপ্তাহের একদিনও খোলা থাকে না। ভবনের নিচতলা এখন ব্যবহার হচ্ছে গোয়ালঘর হিসেবে। সরেজমিনে গিয়েও পাওয়া যায় তালাবদ্ধ। ডাক্তার দূরের কথা পাওয়া যায়নি কোন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকেও। তাই এটি রূপ নিয়েছে পরিত্যক্ত ভবনে।

গবাদি পশু রেখেছে স্থানীয়রা। গরুর গোবর মেলে রাখা হয়েছে বারান্দায়। স্থানীয়দের অভিযোগ সারা মাস ভবনটি তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে। ফলে পরিবার পরিকল্পনার অফিসটি কোন কাজেই আসছে না। সরকার ডাক্তার, কর্মচারী, মাঠ কর্মীদের বেতন ভাতা দিচ্ছে কিন্তু জনসাধারণ সেবা পচ্ছে না। ইউনিয়নের এসব কেন্দ্রে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি মা ও শিশুদের চিকিৎসা দেবার কথা। এজন্য প্রতি মাসে বড় অঙ্কের বহু ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা ভাগ বাটোয়ারা করে থাকে। এসব কেন্দ্রে স্বাস্থ্য বিভাগের কোন ডাক্তার নেই। তবে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ডাক্তার রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এসব বিভাগের উপ-পরিচালক ও থানা বা উপজেলা কর্মকর্তাদের মনিটারিং করার কথা তাদের। তারা জনবল স্বল্পতার অজুহাত খাড়া করে তা করে না। শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মতো একই অবস্থার মধ্যে রয়েছে জেলার ২৫টি কেন্দ্র। তার মধ্যে আলাতুলি ইউনিয়ন কল্যাণ কেন্দ্রটি কয়েক বছর আগে পদ্মাগর্ভে বিলীনের পর ইউনিয়নজুড়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের নেই কোন কার্যক্রম।