২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপির লাইফ সাপোর্ট খুলবে কি?

  • খালেদার লন্ডন মিশনের সফলতা নিয়ে সংশয়ে দল

মোয়াজ্জেমুল হক ॥ প্রায় এক মাস সময়ের কাছাকাছি হতে চলেছে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে রয়েছেন। এ সফর তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের মিশন হিসেবেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিবেচিত হচ্ছে। এ সফরে তিনি বিদেশী কোন প্রেসক্রিপশন নিয়ে আসছেন না পলাতক জীবনে থাকা আইএসআই আশীর্বাদপুষ্ট তাঁর প্রিয়পুত্র তারেক জিয়ার অপরিপক্ব রাজনৈতিক বুদ্ধি-পরামর্শ নিয়ে ফিরছেন তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনার ডানার বিস্তৃতি ঘটেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেত্রী লন্ডন সফরে গেছেন। তিনি দলের চেয়ারপার্সন। আর পুত্র তারেক জিয়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। দল চালাতে মা ও ছেলে অসীম ক্ষমতার অধিকারী। আবার দু’জনের মধ্যে মায়ের চেয়ে ছেলে যে একটু বেশি ক্ষমতাধর তা বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন। বেগম জিয়ার লন্ডন সফর প্রক্রিয়া শুরুতেই এক ধরনের গোলক ধাঁধায় ছিল। ফিরে আসার বিষয়টি এখনও অঘোষিত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, লন্ডনে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের ক্লিয়ারেন্স পেলে এ মাসের শেষ নাগাদ দেশে ফিরবেন বলে দলের বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন মহলে জল্পনা-কল্পনা চলছে বেগম জিয়া লন্ডনে বসে কি করছেন? নতুন কি পরিকল্পনা নিয়ে তিনি দেশে ফিরছেন? সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কোন্ পথে এগোবেন? এসব নিয়ে নানা জিজ্ঞাসা চাউর হয়ে আছে। এদিকে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশে বিএনপির রাজনীতি এখন আর মাঠে নেই। রয়েছে লাইফ সাপোর্টে। পত্রিকা ও টিভিতে মধ্যম পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য প্রদান সর্বস্ব হয়ে আছে দলটির রাজনৈতিক কর্মকা-।

বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট যে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়েছে তার শেষ দেখেছে দেশের মানুষ। কিন্তু ব্যর্থতার চরম গ্লানি নিয়ে আন্দোলন থেকে তারা রণে ভঙ্গ দিয়েছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের বহুন নেতা ও কর্মী নাশকতা, ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন হত্যা, অস্ত্র ও বোমাবাজির এবং আরও নানা ধরনের মামলার আসামি হয়ে একদিকে যেমন জেলের বাসিন্দা হয়েছেন, তেমনি অনেকে জামিনে এসে আদালতের আঙ্গিনায় ঘুরে বেড়ানোর কাজেই ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোটসহ দলের শরিকভুক্ত দলগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কাজেই এখন মরিয়া। জামায়াত যুদ্ধাপরাধের দল হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। ইতোমধ্যে জামায়াতের শীর্ষ আধ্যাত্মিক নেতা গোলাম আযমসহ অনেকের বিরুদ্ধে মামলার চূড়ান্ত রায় হয়ে গেছে। দু’জন ফাঁসিতে ঝুলেছে আজীবন জেলে থাকার রায় পেয়েছেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ক’জন।

এ ছাড়া দেশে বিভিন্ন নামে যেসব জঙ্গী সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে এদের মেরুদ-ও ভেঙ্গে দিয়েছে সরকারের কঠোর তৎপরতা। জোটের নেতৃত্বে থেকে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থা অনেকটা দেউলিয়াপনায় পৌঁছে যাওয়ার পর তাদের সব দিক দিয়ে সরকার কাবু করে ফেলায় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেকটা অসহায় অবস্থায় পুত্রের সঙ্গে সাক্ষাতের নামে লন্ডনে গেছেন। তারেক জিয়া তার কাছে প্রিয় হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের কাছে তার জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। বেগম জিয়ার সঙ্গে লন্ডন মিশনে রয়েছেন তার তিন উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মিন্টু তনয় ঢাকার মেয়র পদে প্রার্থী হয়ে পরাজয় বরণকারী তাবিদ আউয়ালও রয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বেগম জিয়াকে সাহস যোগাতে ব্যস্ত সময় যেমন দিচ্ছেন, তেমনি আর্থিক পর্যায়ের সব সুযোগ সুবিধাও প্রদান করে যাচ্ছেন। লন্ডনেও তিনি সমাবেশ করেছেন। সেখানেও বর্তমান সরকারের বিষোদগারসহ আগামীতে দলের জন্য নানা স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বিএনপি রাজনীতিতে অর্থের কোন অভাব নেই। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই ক্ষমতায় থাকাকালে বলে দিয়েছেন, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম।’ যা সকলের কাছে প্রবাদের মতো হয়ে আছে।

দলের বিক্ষুব্ধ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, অনেকটা মাজা ভেঙ্গে যাওয়ার পর দলকে কিভাবে সোজা করা যায়, সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা যায়, শীর্ষ পর্যায়সহ জেলা ও থানা পর্যায়ে নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটানোসহ নানা বিষয়ে বেগম জিয়ার লন্ডন সফরের বিষয়টি অন্তর্নিহিত।