২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারায়ণগঞ্জে কলেজ ছাত্রী হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে কলেজ ছাত্রী হাবিবা আক্তার শম্পা হত্যা মামলায় নিহতের খালাতো ভাই তৌহিদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড ও কলেজ ছাত্রীর মাকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় আরও তিন বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মিয়াজী শহিদুল আলম চৌধুরী এ আদেশ দেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নিহত শম্পার খালাতো ভাই তৌহিদ বর্তমানে পলাতক রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান রায়ের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ আবদুর রহিম জানান, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী নাসির উদ্দিনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম তার বোনের ছেলে তৌহিদকে এক লাখ টাকা ধার দেন। তাসলিমা টাকা ফেরত চাইলে তৌহিদ টালবাহানা শুরু করে। ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তৌহিদ তাসলিমার বাড়িতে এসে খাওয়া দাওয়া করে এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমা ও তর মেয়ে হাবিবা আক্তার শম্পাকে কুপিয়ে ঘরের দরজায় বাইরে দিয়ে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরের দিন সকালে তাসলিমা ও হাবিবার সাড়া শব্দ না পেলে আতœীয় স্বজনদের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ তালা ভেঙ্গে ভেতর থেকে হাবিবার লাশ ও তাসলিমাকে মুমুর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে। হাবিবা আক্তার শম্পা কদম রসুল ডিগ্রি কলেজের এইচ এস সি ২য় বর্ষের ছাত্রী। এ ঘটনায় হাবিবার বাবা বাদী হয়ে তৌহিদকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তৌহিদকে গ্রেফতারের পর সে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে তৌহিদ উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে পলাতক হয়। পুলিশ এ মামলায় তৌহিদকে অভিযুক্ত করে আদালতে টার্জশীট প্রদান করে। আদালত ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেন।