১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষক নিয়োগ বিধি

বেসরকারী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে নিয়ম ও নীতিমালার কিছু পরিবর্তন আসছে। এ পরিবর্তন যে একটা ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে সে কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। কেননা বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন অভিযোগ ছিল বিস্তর। এ অভিযোগের মধ্যে মূলত অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ ইত্যাদি। ‘বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এনটিআরসিএ) নামে যে বিধিমালা রয়েছে তা সংশোধন করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য, স্বচ্ছ বিধিমালা প্রণীত হবে বলে আমরা আশা করি। এখনও এ নীতিমালাটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে, যা আইন আকারে প্রণীত হওয়ার অপেক্ষায়। এ ব্যাপারে যে স্বাধীন কমিশন ঘোষণা করা হলো তাতে স্থানীয় কর্তৃত্ব খর্ব হওয়ার পাশাপাশি সরকারী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হলো।

শিক্ষক বাছাই ও নিয়োগের ওপর অনেকটা নির্ভর করে শিক্ষানীতির সাফল্য। প্রকৃত ও সুশিক্ষকই তৈরি করতে পারেন সুশিক্ষার্থী। ভাল শিক্ষার্থীর ওপর নির্ভর করে আগামী দিনে জাতির ভবিষ্যত। সুসভ্য ও উন্নত জাতি গঠনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। সেই মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক বাছাই ও নিয়োগে যদি ত্রুটি এবং অনিয়ম-দুর্নীতি থাকে তবে আশা-আকাক্সক্ষার গুড়ে যে বালি পড়বে তা বলাই বাহুল্য।

এদেশে একটা সময় শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্সপেক্টর ছিলেন। তখন শিক্ষার মানও ছিল বেশ উন্নত। বর্তমান বিশেষত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ সাধারণত স্থানীয় সংসদ সদস্য বা তার নিয়োজিত পছন্দের ব্যক্তিরাই করে থাকেন। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও থাকে তাদের ভূমিকা। এ ক্ষেত্রে অভিযোগের অন্ত নেই। আবার রাজনৈতিক বিবেচনার মধ্যেও সমস্যা আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা-২০০৬’ সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করবেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। শিক্ষক নিয়োগ হবেন মেধার ভিত্তিতে। মেধা তালিকার ক্রমানুসারে বিবেচিত হবেন যোগ্য প্রার্থী। তবে কথা হলোÑ যারা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তাদের ভূমিকাও হতে হবে স্বচ্ছ, থাকতে হবে জবাবদিহির পরিবেশ। তা না হলে ব্যাপারটি বাঘের খাঁচা থেকে সিংহের খাঁচায় আটকের মতো হতে পারে।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা পাঠ্য বিষয়ের শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের অর্থ ও সময় ব্যয় ঠিকই হয় কিন্তু ওই পাঠ্য বিষয়ে সঠিক এবং পূর্ণ অধ্যয়ন থেকে হয় বঞ্চিত। এটা অবশ্যই পরিতাপের বিষয়।

শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ কথা নয়। সবার জন্য শিক্ষা এ মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম রাখার ব্যাপারটাও নিশ্চিত করা আবশ্যক। শিক্ষার মানকে উঁচুতে তুলে ধরাই হওয়া উচিত মূল চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় ও তা অব্যাহত রাখাটাই মূল কথা। আশা করব নতুন বিধিমালায় এ বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে এবং সংশ্লিষ্টরা বাস্তবায়নে হবেন সচেষ্ট।