২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৪ হাজার ৭শ’ পয়েন্টের নিচে পুঁজিবাজারে সূচক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বাড়ছেই। মূলত আস্থার সঙ্কটে থাকার কারণেই প্রতিনিয়তই কমছে বাজারের সূচক। বুধবারের ধারাবাহিকতায় দেশের উভয় বাজারে বৃহস্পতিবার সব ধরনের সূচকই কমেছে। টানা দুই দিনে প্রায় ১শ পয়েন্ট সূচক কমে যাওয়ায় প্রধান বাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জের সূচক ফের ৪ হাজার ৭শ’ পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে। উভয় বাজারেই আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। প্রকৌশল খাতের নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি কেডিএস এক্সেসরিজের লেনদেন শুরুর দিনে খাতটির বেশিরভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য খাতের শেয়ারের দরে কিছুটা মিশ্রভাব দেখা গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সকালে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পরই সূচকের পতন ঘটতে থাকে। এরপরই আবার সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। আবারও পতনের ধারা ফিরে আসে। এভাবে সূচকের ওঠানামা পরে ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্যসূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৬৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ১১৪ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৬৬ পয়েন্টে।

বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরু হওয়া কেডিএস এক্সেসরিজের শেয়ারের দর বেড়েছে ৩২৩.৫০ শতাংশ। আইপিওতে ২০ টাকা বরাদ্দ মূল্যের এ শেয়ারের দর দিনশেষে ৬৪.৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪.৭০ টাকায়। কোম্পানিটির শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে বাজারে অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারের দরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে লাফার্জ সুরমার শেয়ারের দর। এ কোম্পানির শেয়ারে লোকসান ঠেকাতে অনেকেই কেডিএস এক্সেসরিজের শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন। অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারধারীরাও নতুন এ কোম্পানির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে সার্বিকভাবে বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থাসঙ্কট, বাজারে নানা ধরনের গুজব, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানা ইস্যুতে বাজারে প্রভাব পড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪০৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৯৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন এ বাজারে ৩০৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। পুরোদিনে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩২০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৮টির, কমেছে ১৭৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬টির শেয়ার দর।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি হলো- কেডিএস এক্সেসরিজ, লাফার্জ সুরমা সিমেন্টস, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, আমান ফিড, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি, ব্র্যাক ব্যাংক, এমারেল্ড অয়েল এবং সিটি ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসই সার্বিক সূচক ১২৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩১৯ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২২৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৫টি কোম্পানির, দর কমেছে ১৩২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টি কোম্পানির।

সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : কেডিএস এক্সেসরিজ, ইউনাইটেড এয়ার, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এ্যাপোলো ইস্পাত, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, আমান ফিড, বেক্সিমকো লিমিটেড ও বিচ হ্যাচারী।