২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নৌ চলাচলে বিঘ্ন

  • নরসিংদীর নদীতে অবৈধ ঘের ॥ উচ্ছেদে পদক্ষেপ নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী, ১৫ অক্টোবর ॥ মাছের ঘেরের কারণে নরসিংদীর মেঘনা, হাড়িধোয়া, আড়িয়াল খাঁ ও পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের স্বাভাবিক স্রোতধারায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। নদের মাঝে গাছগাছালির ডালপালা, বাঁশ ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শ’ শ’ ঘের। স্থানীয়ভাবে এই ঘের ‘খেও’ বা খাইর নামে পরিচিত। এসব ঘের মেঘনা, হাড়িধোয়া, আড়িয়াল খাঁ ও ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনাসহ মূল মেঘনা শাখাসমূহে ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচরের সৃষ্টি করেছে। ফলে কয়েক দশকে নদীগুলোর মূল স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়ে আড়িয়াল খাঁ, হাড়িধোয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদ ভরাট হয়ে মরা নদে পরিণত হয়েছে। ভরাট হয়ে গেছে মেঘনার কয়েকটি শাখা। গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে মূল মেঘনারও। শুষ্ক মৌসুমে মূল মেঘনায় নৌযান চলাচল বাধাগস্ত হচ্ছে। শাখাসমূহে কোন নৌযান চলাচল করতে পারছে না ।মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নদীপাড়ের হাজার হাজার মানুষ।

জানা গেছে, নদ-নদীতে এসব মাছের ঘের তৈরির আইনগত কোন ভিত্তি নেই। সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে তৈরি এসব মাছের ঘের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মোটা অঙ্কের আয়ের উৎস। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই ঘের তৈরি করে নদীর পানিতে দূষণ ঘটাচ্ছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক কারণে বেআইনী মাছের ঘের উচ্ছেদে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

মেঘনা তীরবর্তী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময়ে জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন মাছের ঘের তৈরি করত। এখন ঘেরের মালিকানা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাতে। ভাদ্র মাসে মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ হাড়িধোয়া, ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনাসহ মূল মেঘনা ও শাখাসমূহে ঘের স্থাপনের কাজ শুরু“হয়। ঘের মালিকরা আম, জামসহ বিভিন্ন ফলবান বৃক্ষের ডালপালা ক্রয় করে তাতে বাঁশ বেঁধে নদীতে পুঁতে দেয়। এরপর কচুরিপানা আটকে রাখা হয় পানির ওপরে। প্রতি ১-২ মাস পর পর চারদিক থেকে জালের বেষ্টনী দিয়ে মা মাছের বংশ বিনাশ করা হয়। এছাড়া ফাল্গুন-চৈত্র মাসে নদ-নদীর পানি কমে গেলে ডালপালা ও পাতা পচে পানির দূষণ ঘটায়। মেঘনার একই জায়গা দখল করে প্রতিবছর ঘের স্থাপনের ফলে গাছের ডালায়, পলি বালি জমে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। যা মেঘনার গতিপথ পরিবর্তন করে দিচ্ছে। মেঘনার শাখাগুলো ভরাট হয়ে পড়ছে। অথচ কেউ এর প্রতিকার করছে না। মাছের ঘের নদ-নদীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও এ ব্যাপারে স্থানীয প্রশাসন নীরব।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, মেঘনা নদীতে ব্যক্তি মালিকানায় কিছু খাইর দেয়া হচ্ছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এতে নৌ-চলাচল ব্যহত হচ্ছে। লঞ্চ চলাচলে বিঘœ ঘটছে। পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো বন্ধে ৪০ জনকে ইতোপূর্বে নোটিস প্রধান করা হয়েছে কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। তাই আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে।

লক্ষ্মীপুরে ইউপি নির্বাচনে তিন কেন্দ্রে সংঘর্ষ ॥ আহত ২৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর, ১৫ অক্টোবর ॥ রামগতিতে চররমিজ ও চরগাজী ইউপি নির্বাচনে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রেরণ করা হয়েছে।

চরগাজী ইউনিয়নের চরগাজী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, চররমিজের চরগোসাই সরকারী প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হুমায়ুন, নোমান ও নূরউদ্দিন তিন মেম্বার প্রার্থীর সঙ্গে ত্রিমুখী ও পূর্ব চরগাজী এবং পশ্চিম চরগাজী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসব সংঘর্ষ ঘটে। এর মধ্যে পশ্চিম চরগাজীর দু’জন মেম্বারপ্রার্থী কবির ও জহির গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ৯ জনসহ ১৫ জন আহত হয়।

এছাড়া ও চরগাজী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র শেখ ফরিদ ও অজিউল্যা এবং পূর্ব চরগাজীতে দু’জন মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে আরও ১০ জন আহত হয়েছে। মেম্বার প্রার্থীরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে এসব সংঘর্ষ ঘটে।