২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে পোকার আক্রমণে দিশেহারা আমনচাষী

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ জেলার দশটি উপজেলাসহ কৃষি অঞ্চলের ১১ জেলায় রোপা আমনের ক্ষেতজুড়ে নানারোগ বালাইয়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষককে এসব রোগবালাই দমনে এখন হিমশিম। খোলপঁচা ও পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমণ কিছুটা কমলেও হঠাৎ করে কারেন্ট পোকার আক্রমণ কৃষকদের দিশেহারা করে তুলেছে। দ্রুত এসব পোকার দমন করা না গেলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

ভুক্তভোগী একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন বীজ রোপণের শুরুতে একাধিকবার বৈরি আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই চাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। বর্তমানে অধিকাংশ রোপা আমন ক্ষেতে শীষ বের হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ পূর্বে ক্ষেতে খোলপঁচা ও পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ রোগ থেকে রেহাই পেতে তারা কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কোন সুফল পাচ্ছেন না।

এর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় দিশেহারা হয়ে তারা (কৃষক) পুনরায় জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। জেলার গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামের কৃষক শাহানুর ব্যাপারী জানান, তিনি ৪০ শতক জমিতে রোপা আমনের আবাদ করেছেন। ধানের ফলন ভাল হলেও গত কয়েকদিন পূর্বে থোড় ধানে খোলপঁচা ও পাতা ঝলসানোসহ কারেন্ট পোকা আক্রমণ করছে। ধানের গোছার মাঝখান থেকে শীষ কেটে দেয়ায় ওই শীষ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন ডিলার ও খুচরা দোকানে ভেজাল কীটনাশক দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কীটনাশক ছিটিয়েও কোন প্রতিকার মিলছে না। গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, রোগ প্রতিরোধে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে চাষীদের নিয়ে বালাইনাশক ব্যবহারের কর্মশালা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে চাষীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

বাউফলে লতা পোকার আক্রমণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল থেকে জানান, বাউফলে আমন ধানের ক্ষেতে লতা পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। এই পোকা রোধ করতে না পারলে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এ উপজেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অতি বর্ষণের ফলে বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তার ওপর লতা পোকার আক্রমণ মরার ওপর খড়ার ঘায়ে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন মদনপুরা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, লতা পেকার আক্রমণে আমন ধানের পাতা বিবর্ণ (ধূসর ও হলদে) হয়ে গেছে। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মেশিন দিয়ে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন।