২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্ণাটকের যক্ষগান শিল্পীরা সাতক্ষীরা মাতালেন

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ ভরত-ধর্মাঙ্গদ যুদ্ধ কাহিনীর লোকনৃত্য পরিবেশন করে সাতক্ষীরা মাতিয়েছে ভারতের কর্ণাটকের যক্ষগান শিল্পীদল। মাথায় শিরোস্ত্রাণ দেহে জমকালো পোশাক নানা রঙে রঞ্জিত মুখম-ল আর অপরূপ অঙ্গসজ্জা নিয়ে দরাজ মিষ্ট কণ্ঠে যক্ষগান আর নৃত্য দিয়ে সাতক্ষীরার সংস্কৃতিমনা মানুষদের বিনোদন ভারতের এ দলটি। বুধবার রাতে সাতক্ষীলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই লোকনৃত্য পরিবেশন করা হয়। লোক শিল্পরূপের শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে তারা অভিনয় করলেন দুই মহাকাব্যের অংশ বিশেষ। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দশকদের ভিড়জমে সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন। মহাকাব্য রামায়ন ও মহাভারতে এর পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে নাট্যগীতি পরিবেশন করেন তারা। ঢোল, মৃদঙ্গ ও মন্দিরা যোগে মঞ্চে বসে গাইছেন নগরাজ রামচন্দ্র যোশী ও তার সঙ্গীরা। আর সম্মুখে নৃত্য দিয়ে সুরের যাদু ছড়ালেন শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে শিল্পকলার অনবদ্য রূপ।

নৃত্যগীতির মধ্য দিয়ে ভরত ধর্মাঙ্গদ শীর্ষক বীরত্ব কাহিনী তুলে ধরেন শিল্পীরা। রাজা ভরত ও যুবরাজ ধর্মাঙ্গদের মুখোমুখি যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা মহর্ষী নারদের পরামর্শক্রমে ভরত তার কন্যার সঙ্গে ধর্মাঙ্গদের বিবাহের প্রস্তাব দেন। এভাবে দুই রাজার মধ্যে মৈত্রী সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর এক পর্যায়ে ধর্মাঙ্গদ পাতালপুরী আক্রমণ করে পাতালপুরীর সম্রাট মহাবলীর সম্মুখীন হন। এবার বিষ্ণু এসে তাদের মাঝখানে দাঁড়ালেন। মহাবলী তার কন্যাকে ধর্মাঙ্গদের হাতে সমর্পণের প্রস্তাব দিলেন এবং রাজকুমার তা সানন্দে গ্রহণ করলেন। এভাবে ধর্মাঙ্গদ বিশ্ববাসীকে তার শক্তি প্রদর্শন করে যুদ্ধাভিযান শেষ করলেন।

এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায় কর্ণাটকের যক্ষগান শিল্পকলার পরিচিতি তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল আহসান বন্ধুদেশ ভারতীয় শিল্পীদের স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা করেন। একই সঙ্গে তিনি সে দেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দুই দেশের সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে এই বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

যক্ষগান দলনেতা শ্রী নগরাজ রামচন্দ্র যোশীর নেতৃত্বে লোকনাট্য নৃত্য গীতি পরিবেশনায় অংশ নেন শ্রী সতীশ গনপতি হেজ, শ্রী মঞ্জুনাথ পরমেশ্বর হেজ, শ্রী বিগনেশ্বর দৈব গোবদা, শ্রী নরেন্দ্র বিশ্বেশ্বর হেজ, শ্রী কৃষ্ণ চিক্ক্য পুজারী, শ্রী আসকার নগরাজ যোশী ও শ্রী অমর নগরাজ যোশী।