২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাতক্ষীরায় প্রভাবশালীদের নামে খাস পুকুর ও গরিবের জমি

  • ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা আর ব্যক্তিস্বার্থের কারণে তালা উপজেলার জাতপুর গ্রামের কয়েকটি অসহায় পরিবারের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি রেকর্ড হয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে। আর সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত পুকুর রেকর্ড করা হয়েছে ব্যক্তি নামে। সরকারী পুকুর ব্যক্তির নামে রেকর্ডের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার ভূমি আপীল করলেও সে আপীল খারিজ করে ব্যক্তি নামে রেকর্ড বহাল রাখার অভিযোগ উঠেছে তালা উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সামছুর রহমানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার বিচার ও প্রতিকার প্রার্থনা করে এলাকার ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ বৃহস্পতিবার সকালে তালা উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের সামনে ঝাঁটা নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে লিখিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিকার ও বিচার প্রার্থনা করে সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সামসুর রহমান সরকারী পুকুর ব্যক্তিনামে রেকর্ড করার কথা স্বীকার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে জনকণ্ঠকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মাঠ পর্চা থাকায় তিনি ব্যক্তিনামে রেকর্ড করে মাঠপর্চা বহাল রেখেছেন বলে জানান।

সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ সামছুর রহমানের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে সরকারী পুকুর ভূমিদস্যুদের পক্ষে রায় দেয়ার অভিযোগসহ অসহায় দরিদ্রদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভূমিদস্যুদের নামে রেকর্ড করার প্রতিবাদ জানাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অভিযোগ নিয়ে আসেন জাতপুর গ্রামের দরবেশ বিশ্বাসের পুত্র মোঃ আবুল হোসেন, একব্বার বি মাঃ আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, আরজেদ আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ফয়েজ উদ্দিনের কন্যা করিমোন্নেসাসহ অনেকে। এ সকল পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই কেউ ভূমিহীন দিনমজুর, কৃষক, কেউ শ্রমিক ও গৃহিণী। এদের অভিযোগ, তালা সেটেলমেন্ট অফিসে চলমান ৩১ ধারার শুনানি চলাকালে তালা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ সামছুর রহমান একটি ভূমিদস্যু চক্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে অসহায় দিনমজুর কৃষকদের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করছেন। সম্প্রতি ওই সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা জাতপুর গ্রামের একটি সরকারী পুকুর (আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস, আমজাদ হোসেন গংয়ের) পক্ষে রায় দিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আবুল হোসেনের অভিযোগ, ওয়ারিশ সূত্রে ও এওয়াজ সূত্রে এবং খরিদসূত্রে মালিক হওয়ার পরও জমিতে বসবাসরত অবস্থায় আপীল কর্মকর্তা শামসুর রহমান তার বসতবাড়ি ও কবরস্থান প্রতিপক্ষের নামে রেকর্ড করেছেন। একই অভিযোগ বিধবা আনোয়ারা বেগমের। পেশায় দিনমজুর আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, পৈত্রিক ও ওয়ারেশ সূত্রে পাওয়া তাদের জমি অন্যের নামে রেকর্ড করা হয়েছে। ৩১ ধারায় অভিযোগ দেয়ার পরও তিনি বিচার পাননি। এসব ঘটনায় বর্তমানে তারা শঙ্কিত ও আতঙ্কিত উল্লেখ করে প্রতিকার ও বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।