২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়া রুশ বাহিনীর পরীক্ষাগার

  • ত্বরিত অভিযানে পাশ্চাত্যকে পুনরুজ্জীবিত শক্তি দেখালেন পুতিন

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির ভি. পুতিনের অধীনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যে রূপান্তর ঘটেছে, সিরিয়াতে দু’সপ্তাহের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পশ্চিমা গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের তা গভীরভাবে অনুধাবনের সুযোগ দিয়েছে। এসব হামলা রাশিয়ার নিজ সীমান্তের বাইরে অভিযান চালানোর সামর্থ্য এবং এর নতুন নতুন অস্ত্র ও কৌশল প্রকাশ্যে সবার সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

রুশ হামলায় কখনও যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি এমন বিমান এবং ৯০০ মাইলেরও বেশি দূরের ক্যাস্পিয়ান সাগর থেকে ছোঁড়া জাহাজভিত্তিক এক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এসব বিমানের মধ্যে রয়েছে সুখোই সু-৩৪ জঙ্গী বিমান যাকে ন্যাটো ফুলব্যাক বলে থাকে। আর ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রযুক্তিগত সামর্থ্যরে দিক দিয়ে আমেরিকান ক্ষেপণাস্ত্রকে ছাড়িয়ে যায় বলে কোন কোন বিশ্লেষকের ধারণা। রুশ জেটগুলো সিরীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে অগ্রসরমান সিরীয় স্থলসৈন্যদের সমর্থনে হামলা চালায়। সেগুলো উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো প্রদেশে ইরানের নেতৃত্বে শীঘ্রই পরিচালিত হতে যাচ্ছে এমন অভিযানে সমর্থন যোগাতে পারে। ঐ সময়ে আমেরিকান কর্মকর্তাদের মতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সাবেক সোভিয়েত সীমান্তের বাইরে রাশিয়ার এ প্রথম সামরিক অভিযানের আগে মাসের পর মাস ধরে উদ্ভাবিত সূক্ষ্ম পরিকল্পনাই প্রতিফলিত হয়। সামগ্রিকভাবে ঐসব অভিযানে রাশিয়ার বাজেটের ওপর চাপ সত্ত্বেও কয়েক বছর ধরে দেশটিতে চলমান এক আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াই প্রতিফলিত হয়। একে কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা স্বল্প মাত্রায় নজরে পড়া এবং এখনও অসম্পূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। তার এটি রাশিয়ার প্রতিবেশী ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ করার মতোই পাশ্চাত্যে ভীতিভাবের সঞ্চার করেছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন্সের জন্য তৈরি করা এক রিপোর্টে বিশেষজ্ঞ গুস্টাভ গ্রেসেল যুক্তি দেখান যে, পুতিন ১৯৩০-এর দশকের পর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তন এনেছেন। অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর এক সাবেক অফিসার গ্রেসেল বলেন, রাশিয়া এখন এমনই এক সামরিক শক্তি, যা পাশ্চাত্য সমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এর যে কোন প্রতিবেশীকে সহজেই পরাজিত করতে পারবে।

এখনকার কথা বলতে গেলে, রাশিয়ার জঙ্গী জেটগুলো প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের বিরোধী বিদ্রোহী সৈন্যদের ওপর দৈনিকই প্রায় ততবার আঘাত আনছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন চলতি বছর প্রতি মাসে ইসলামিক স্টেটের ওপর যতবার বিমান হামলা চালিয়ে এসেছে। সিরীয় অভিযান এখন অপেক্ষাকৃত সীমিত থাকলেও তা পুতিনের শাসনাধীন ক্রমশ সংঘাতমুখী ও জেদি রাশিয়ার জন্য কার্যত এক পরীক্ষাস্থলে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সম্ভবত ঐ অভিযানের লক্ষ্য হলো সোভিয়েত পরবর্তী কয়েক দশকের অবক্ষয়ের পর দেশের সামরিক শক্তির পুনরুজ্জীবন ও বিশ্বকে সেই শক্তির নাগালের ভিতর আনার সামর্থ্য সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠানো। রবিবার পুতিন নিজেও এ আভাসই দিয়েছেন। পুতিন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, রাশিয়ার হাতে সম্ভবত এসব অস্ত্র রয়েছে বলে ওয়াকিফহাল হওয়া বিশেষজ্ঞদের জন্য এক বিষয়, আর রাশিয়ার হাতে অবশ্যই বাস্তবে এগুলো রয়েছে বলে প্রথমবারের মতো দেখতে পাওয়া তাদের জন্য আরেক বিষয়। আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প এগুলো তৈরি করছে, এগুলো উন্নত মানের এবং এগুলোর কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার মতো সুশিক্ষিত লোকজন আমাদের রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এখন এটিও দেখেছেন যে, আমাদের দেশ ও আমাদের জনগণের স্বার্থে রাশিয়া এখন এগুলো ব্যবহার করতে প্রস্তুত। রাশিয়া ২০১৪ সালে দ্রুত ও অনেকাংশে রক্তপাতহীন এক অভিযান চালিয়ে ক্রিমিয়া দখল করে। এ ঘটনা কার্যত নিঃশব্দেই ঘটে। আর রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জড়িত হলেও তা গোপনই রাখা হয় এবং সময়ে সময়ে এতে রাশিয়ার সরাসরি জড়িত থাকার কথা সরকারীভাবে অস্বীকারও করা হয়। কিন্তু সিরিয়াতে প্রকাশ্যেই বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে এবং মস্কোস্থ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে সেই তৎপরতার ভিডিওচিত্র গ্রহণ করে প্রচার করছে, পেন্টাগন ১৯৯১-এর পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যেমনটি করেছিল।

নির্বাচিত সংবাদ