২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝড়ের কবলে সৌদি রাজপরিবার

  • উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াই

সৌদি আরবে রাজপরিবারে এক রাজনৈতিক ঝড় বইছে। বয়োবৃদ্ধ বাদশাহ সালমানকে সরিয়ে উত্তরসূরি হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন যুবরাজ (ক্রাউনপ্রিন্স) এবং তার ডেপুটি (বাদশাহর ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমান)। অন্যদিকে, পরিবারের কয়েকজন অন্য সদস্য এ লড়াইয়ে নেমেছেন তৃতীয় সিনিয়র প্রিন্সের পক্ষে। তাদের দাবি তৃতীয় প্রিন্সের পক্ষে তাদের দাবি তৃতীয় প্রিন্সের পক্ষে পরিবারের মধ্যে রয়েছে আরও ব্যাপক সমর্থন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

পারিবারিক বিষয় গোপন রাখতে অভ্যস্ত তেল সমৃদ্ধ এ দেশটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ বিতর্ক সাধারণ অস্পষ্ট থাকে বহিরাগতদের কাছে। কিন্তু সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব প্রকাশিত হয়ে পড়েছে অস্বাভাবিকভাবেই। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ও তার ডেপুটি মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যকার মানসিক উত্তেজনার বিষয়টি গুঞ্জনে পরিণত হয়েছে প্রায় সমগ্র আরব বিশ্বে। রাজপরিবারে ভিন্ন মতাবলম্বীরা প্রসঙ্গটি অনলাইনে প্রচার করা শুরু করেছেন এবং তা পাঠ করেছেন হাজার হাজার পাঠক। উত্তরাধিকার প্রশ্নে উদ্বেগ দানা বাঁধা শুরু হয় সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে। বাদশাহ সালমান (৭৯) ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানসহ (৩০) তখন ওয়াশিংটন সফর করছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা উৎসুক ছিলেন যুবক ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য। কিন্তু তাদের মধ্যে একটা উদ্বেগ ছিল যে এমবিএস হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠতে পারেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের। নায়েফকে আল কায়েদাবিরোধী নির্ভরযোগ্য একজন মিত্র বলে মনে করে ওয়াশিংটন। মোহাম্মদ বিন সালমানের সমর্থকদের যুক্তি হচ্ছে- বাজে উচ্চাকাক্সক্ষী পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে তিনি একজন উচ্চাকাক্সক্ষী মাধ্যম। তিনি মনে করেন, কয়েক দশকের বয়োবৃদ্ধ নেতাদের কারণে দুর্ভোগ পেয়েছেন যারা তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন পরিবর্তনের। যুবক প্রিন্স রক্ষণশীল সৌদ পরিবারের চেয়ে অর্থনীতির আরও বহুমুখীকরণ, আরও বেশি বেসরকারীকরণ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্মুক্ত মডেলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ভবিষ্যত গড়ে তোলার ব্যাপারে কথা বলেন। তিনি তার আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা গড়ে তোলার জন্য শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কনসাল্টিং ফার্ম নিয়োগে সমর্থন ব্যক্ত করেন। একজন সাবেক উচ্চপদস্থ সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, তার দৃষ্টিভঙ্গি খুবই চমৎকার। বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ প্রাসাদ ঝড়ের সূচনাস্বরূপ হয়ে ওঠতে পারে। কর্মকর্তাটি সম্প্রতি দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে। সমালোচকরা পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, মোহাম্মদ বিন সালমান একজন আবেগপ্রবণ ও অদক্ষ ব্যক্তি। তিনি ইয়েমেনে ব্যয়বহুল কিন্তু ব্যর্থ যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। ভিন্নমতাবলম্বীদের যুক্তি হচ্ছে যে, ইয়েমেন যুদ্ধ সেখানে আল কায়েদার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে, নতুন করে শরণার্থী চাপের সৃষ্টি হয়েছে এবং সৌদি আরবের সীমান্তে বিদ্রোহীদের উপস্থিতির সূচনা হয়েছে।