২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজনের ঘাতক কামরুলকে সৌদি থেকে দেশে আনা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে সিলেটে বহুল আলোচিত শিশু সামিউল আলম রাজনকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন বন্দী বিনিময় চুক্তি নেই। তারপরেও শুধুই দুই দেশের মধ্যে পারস্পারিক ও কূটনৈতিক সর্ম্পক ভাল থাকার সুবাদে এটি সম্ভব হয়েছে। সৌদি আরব সরকার আন্তরিকার সঙ্গে আসামি কামরুলকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করেছে। এমনকি দেশে ফেরত আনতে সার্বিক সহযোগিতাও করেছে। এজন্য বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশের তরফ থেকে সৌদি সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। কামরুলকে দেশে ফেরত আনার মধ্যদিয়ে রাজন হত্যা মামলার ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনই গ্রেফতার হলো। পলাতক দুই আসামির মধ্যে কামরুলের ভাই শামীম আহমেদ ও অপরজন পাভেল আহমেদকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বেঁধে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠে। এমন ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর সরকার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দেয়। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকা-ের পর পরই খুনীদের গ্রেফতারে মাঠে নামে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবে পালিয়ে যায় কামরুল ইসলাম। তার পালানোর সঙ্গে তিন পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। রাজন হত্যার ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি আরবের জেদ্দায় বসবাসরত বাংলাদেশীরা সেখানেই কামরুলকে ধরে ফেলেন। পরে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা কামরুলকে সেদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ কামরুলকে জেলহাজতে রাখেন। গত ১২ জুলাই থেকে কামরুল সৌদি আরবের জেলে ছিল।

এরপর থেকেই কামরুলকে দেশে ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেয়। পুলিশের তরফ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গত ২১ জুলাই রেড নোটিস জারি করা হয়। শুরু হয় সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ। সৌদি সরকার আন্তরিকার সঙ্গেই কামরুল ইসলামকে ফেরত দিতে সম্মত হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ অক্টোবর সৌদি আরব যান পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুবুল করিম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উলাহ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার এএফ এফ নেজাম উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০৪০ ফ্লাইটে কামরুলকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন পুলিশের প্রতিনিধি দলটি। এরপর কামরুল ইসলামকে এপিবিএন (আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)-এ নেয়া হয়। সেখানে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মিডিয়া মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ রাজন হত্যার প্রধান আসামি রাজনকে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে। এটি একটি জটিল কাজ ছিল। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের কোন বন্দী বিনিময় বা বন্দী প্রত্যাপর্ণ চুক্তি নেই। দুই দেশের মধ্যে পারস্পারিক ও কূটনৈতিক সর্ম্পক ভাল থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে। কামরুলকে বিদেশ পালিয়ে যেতে যে তিন সদস্যের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই প্রক্রিয়ায় ভারতের জেলে বন্দী নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলার অন্যতম আসামি নুর হোসেনকেও ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, রাজন হত্যার দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার। গত ১৬ অগাস্ট ১৩ জনকে আসামি করে সিলেট আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন তিনি। সিলেটে কামরুল ॥ সিলেট অফিস জানায়, শিশু রাজন হত্যার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট আসার উদ্দেশে ঢাকা থেকে সড়ক পথে তাকে নিয়ে রওয়ানা হয় পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদি থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় পুলিশের ৩ সদস্যের দলটি। ওই দলের সদস্য হচ্ছেন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত সুপার মাহাবুবুল করিম, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোঃ রহমত উল্লাহ এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার এএফএফ নেজাম উদ্দিন। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোঃ রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন শুক্রবার কামরুলকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন ॥ রাজন হত্যা মামলায় ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৬ পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।