১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াত সংশ্লিষ্টরাই ৮৪ ব্লগারের তালিকা দিয়েছিল

  • এদের দুজনকে ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় ॥ স্বাধীন মার্কিন কমিশন রিপোর্টে তথ্য

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ধর্মদ্রোহিতার অপরাধ তদন্তের জন্য সরকারকে ৮৪ ব্লগারের একটি তালিকা দিয়েছিল। এছাড়া হিন্দুর জমি দখলে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই জড়িত থাকেন। সরকারের প্রতি এসব জমি দখলের বিষয়ে তদন্ত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের (ইউএসসি-আইআরএফ) বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেস গঠিত ইউএসসিআইআরএফ বুধবার তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশসহ ৩২ দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর পর্যালোচনা করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিষয়ে ব্লগ লেখার পরে কয়েকজন ব্লগারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সে সময় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ধর্মদ্রোহিতার অপরাধ তদন্তের জন্য সরকারকে ৮৪ ব্লগারের একটি তালিকা দিয়েছিল।

প্রতিবেদনের সময়কালের পরে দু’জন ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারকে ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ব্লগার ও লেখক অভিজিত রায় ও ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শদাতা এই সংস্থার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের জমি দখলের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, হিন্দুরা অনেক প্রজন্ম ধরে যে জমির মালিকানা ভোগ করে এসেছে, সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য তাদের অসামঞ্জস্যভাবে নিশানা বানানো হয়েছিল। কিছু সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা মাঝেমধ্যেই জমি দখলে জড়িত থাকেন। আবার জমি দখল নিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইনী মামলা থেকে রক্ষা করার ঘটনায় যুক্ত থাকেন না। রাস্তা বা শিল্পাঞ্চলগুলোর কাছে জমি দখলের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। কেননা, সেখানে জমির মূল্য বেশি। তবে এটা নির্ধারণ করা কঠিন যে সংখ্যালঘুদের তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য, সংখ্যালঘু হিসেবে তাদের অসহায় অবস্থার জন্য, নাকি সম্পত্তির মূল্যের জন্য তাদেরকে টার্গেট করা হয়ে থাকে।

প্রতিবেদনে পার্বত্য শান্তি চুক্তির অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২ অনুচ্ছেদের মধ্যে ৪৮ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে। পনেরোটি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। আর নয়টি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অঞ্চলে বিদেশী দর্শনার্থী ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংগঠন উভয়ের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় মানুষ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বিবাদের বিষয়ে প্রতিবেদন করার বিষয়টি সীমিত করা।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের দুটি শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। আর শিবিরের বাইরে ২ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। এদের অবৈধ অভিবাসী বলে বিবেচনা করা হয়। ২০১৪ সালের নবেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা থেকে আরও উন্নয়নের জন্য দুটি শরণার্থী শিবিরে স্থানান্তর করা হবে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক কমিশন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও তারা ইঙ্গিত করেছিল এই স্থানান্তর ব্যয়বহুল হবে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভয় ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে ইউএসসিআইআরএফ। ধর্মীয়ভাবে প্রণোদিত হিংসাত্মক ও হয়রানিকর কাজগুলোর জন্য মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ঘন ঘন ও প্রকাশ্যে নিন্দা করতে অনুরোধ করেছে। এছাড়া স্থানীয় সরকারী কর্মকর্তা, পুলিশ অফিসার ও বিচারকদের মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদ-গুলোর বিষয়ে ও ধর্মীয়ভাবে প্রণোদিত হিংসাত্মক কাজগুলোর তদন্ত ও বিচার কিভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সহায়তা দিতে অনুরোধ করেছে। এছাড়া হিন্দু সংখ্যালঘুদের জমি দখলের বিষয়টি তদন্ত ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে এনজিওর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণকারী আদেশ বাতিলের অনুরোধ করেছে।

প্রতিবেদনে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। আর ৬৪ জেলার মধ্যে ১৬ জেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ঘটে। সে সময় বেশিরভাগ সহিংস ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দায়ী করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে এই প্রতিবেদন পেশের জন্য গত এক বছর ধরে কাজ করেছে ইউএসসিআইআরএফ। ২০১৫ সালের এই বার্ষিক প্রতিবেদনে ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪ থেকে ৩১ জানুয়ারি, ২০১৫ পর্যন্ত সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সময়সীমার পরেও সংঘটিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।