২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

সেই সত্য যা রচিবে তুমি-

রশিদ মামুন ॥ ‘দৃশ্য থেকে দ্রষ্টা অব্দি ধারাবাহিকতা খেয়ে ফেলে/ অবশেষে যথাক্রমে খাবো : গাছপালা, নদী-নালা/ গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাত, নর্দমার জলের প্রপাত/ চলাচলকারী পথচারী, নিতম্ব প্রধান নারী/ উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ী/ আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ/ ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো’ কবি রফিক আজাদের ভাত দে হারামজাদা কবিতার শেষ শব্দগুলো এককালে তীব্র ঝাঁকুনি দিয়েছিল সমাজকে। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে ৭৪ সালে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। তখন পত্রপত্রিকায় একটি সচিত্র খবর ছাপা হয়েছিল। ‘রংপুর স্টেশনে এক লোক বমি করছে আর অন্য একজন তা খাচ্ছে’। কবি রফিক আজাদকে এই ঘটনা নাড়া দিলে তিনি এ নিয়ে কবিতা লেখেন। এই কবিতা লিখেই বিখ্যাত হয়েছিলেন তিনি। কবিতার শেষ দুটি লাইন বহুবার বহুভাবে দেশের চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে মিছিলে সেøাগানে, বক্তৃতায় ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু কবি রফিক আজাদ এই সেদিন বলেছেন, এই কবিতাটা লেখা তাঁর ভুল হয়েছে। কারণ ছবিটি ছিল বানোয়াট ও পরিকল্পিত। সাক্ষাতকারটি ঢাকার একটি পত্রিকায় গত সপ্তাহেই ছাপা হয়েছে। ছবিটি তোলার জন্য ওই মানুষটিকে দেয়া হয়েছিল ১০০ টাকা এবং বমি খাওয়ার ভান করতে বলা হয়েছিল। কবি রফিক আজাদ এখন স্বীকার করেছেন তার জীবনের বড় ভুল ছিল এটা। সেই ছবি এবং খবর বিশ্বাস করা তার ঠিক হয়নি।

১৯৭৪ সালের সঙ্কটের সময় ছেঁড়া জাল পরা দুজন নারীর ছবি ছাপে একটি দৈনিক। ছবিটি তুলেছিলেন প্রয়াত এক ফটো সাংবাদিক। পরবর্তীকালে বিএনপি সরকার তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেছিল। আর দৈনিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন এক রিপোর্টার। ফটোগ্রাফার-রিপোর্টার দুজনই প্রয়াত। বস্ত্রাভাবের কথা তখন বলা হয়েছিল। কিন্তু জাল পরে তো লজ্জা নিবারণ সম্ভব নয়। তাই রহস্যময় এই ছবি নিয়ে সব সময়েই প্রশ্ন থেকে গেছে।

রবীন্দ্রনাথের কথায়, ‘সেই সত্য যা রচিবে তুমি’। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য নারদকে উদ্ধৃত করেই কবিতায় কথাটি বলেছেন। এখন নিজের মনোভূমিভিত্তিক প্রতিবেদনে চলছে রমরমা বাণিজ্য। সত্যের কোন লেশমাত্র নেই সেখানে। সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে ইসলামের ৫ মে ২০১৩-এর আন্দোলনের পর বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রচার করে এই ঘটনায় অন্তত আড়াই আজার মানুষ নিহত হয়েছে। অধিকার নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন কয়েক দিনের মধ্যে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করে ৬১ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু অধিকার যেসব মানুষেকে নিহত দেখিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিল তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্য সকলে এখনও জীবিত রয়েছেন। যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর বলা হলো তাঁকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচারে ক্ষেপিয়ে তোলা হয় কিছু লোককে। দুষ্কৃতকারীরা ওদের নিয়ে মানুষের বাড়িঘরে আগুন লাগায়। ওই সময়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধের দাবিতে মক্কা শরীফের খতিবের মানববন্ধন’ শিরোনামে এক ছবি প্রকাশ করে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ পেয়ে যায় এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। মক্কার গিলাফ পরিবর্তনের জন্যই সেখানে সমবেত হয়েছিলেন তারা। বছরের শুরুর দিকে বিএনপি-জামায়াত জোট টানা অবরোধ করে নির্বিচারে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে। এখন সেই পোড়া মানুষের ছবি দিয়ে উল্টো প্রচার করা হচ্ছেÑ এটি সরকারের দুঃশাসন। সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার পর পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশে আইএস খুঁজছেন। এমনকি যুক্তরাজ্য বলছে, বাংলাদেশে এখনও নাকি বিএনপি-জামায়াতের হরতাল অবরোধ চলছে।

বাঁকা হান্নান শাহ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাত জেগে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় নির্বাচন চূড়ান্ত করে বিএনপি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করতে চায় তাদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে বসিয়ে দেয়া হয়। এরপর দলের হেভিওয়েট নেতারা সব গিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে নিজেদের তরী তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা করেন। অন্তত সম্প্রতি যতগুলো সিটি নির্বাচন হয়েছে তাতে বিএনপির এই অবস্থা দেখা গেছে। আর উইনিয়ন থেকে শুরু করে পৌর আর উজেলায় কারা মনোনয়ন পাবে তা দলের জেলা কমিটি ঠিক করে দেয়। সেখানেও কেন্দ্রের মনোনীতরাই নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে থাকে। এমনটা দেশের বিএনপিই নয়, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও করে থাকে। তাহলে দলীয় প্রতীকে কেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়? সম্প্রতি সরকার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বেঁকে বসেছেন। তিনি বলছেন, না না এটা হবে না। এটা করতে হলে আগে তিনি গণভোট কামনা করছেন। হান্নান শাহ অভিযোগ করে বলেন, সরকার তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে করতে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেনি। আমরা সরকারকে বলব আপনারা এ বিষয়ে গণভোট দিন। এর মানে কি হান্নান শাহরা বৈধ পথে হাঁটতে চান না। সব সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয় নির্বাচনে পরিণত করবেন। কিন্তু তার বৈধতা দেয়া হলে সমস্যা কোথায়?

দুর্বলের উজ্জ্বল ভবিষ্যত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢেউটিনের একটি জনপ্রিয় টিভিসিতে বলা হয়, কেবল মাত্র যারা ওই টিন দিয়ে ঘর বাঁধবেন তাদের ভবিষ্যতই উজ্জ্বল। আর যারা ওই টিন দিয়ে ঘর বাঁধবেন না তারা সব ব ওকার কয় আকারে কা। কিন্তু এইচএম এরশাদ মনে করছেন ওই টিনের ঘর না বাঁধলেও তার দলের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। তবে একই বক্তৃতায় তার দলের বর্তমান অবস্থা দুর্বল বলে মন্তব্য করেন। দুর্বলের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কি করে হয় তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা প্রাসঙ্গিকই বলা চলে। এরশাদ তার ঘরের মানুষদের সঙ্গে বৈঠকে (রংপুরের জাপা নেতা) বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায়। তারা কোন কাজ করে উঠতে পারছে না। সবখানে একটা না পারার ভাব লক্ষ্য করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ কিন্তু উজ্জ্বল। তবে আমরা এখন দুর্বল তাই আমাদের কোন বন্ধু নেই। আমাদের বন্ধু আমরাই। দুর্বলের সঙ্গে কেউ বন্ধুত্ব করে না। আমরা সবল হলে সবাই আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে বলেও এরশাদ ওই সময় বলেন।