১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি
  • মোরসালিন মিজান

সমস্যার অন্ত নেই। সঙ্কট যখন তখন। তবু উৎসবপ্রিয় বাঙালী। ধর্মীয় আচারে কারও মন আছে। কারও নেই একদম। তাতে কী? উৎসব হয়ে ওঠে সবার। এখন যেমন শারদীয় দুর্গোৎসবের হাতছানি। দেশজুড়ে চলছে প্রস্তুতি। বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকায় এর সবচেয়ে বড় আর বর্ণাঢ্য আয়োজন। এখানে প্রস্তুতিও দীর্ঘ। অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রায় শেষ পর্যায় এখন। আগামী ১৯ অক্টোবর মহা ষষ্ঠী। এদিন দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ২০ অক্টোবর মহা সপ্তমী। ২১ অক্টোবর মহা অষ্টমী। নবমী এবং দশমী একইদিনে। ২২ অক্টোবর। এদিন বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব। তার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাবে গোটা শহর। সে লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলেছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রবেশ পথে সুন্দর তোরণ করা হয়েছে। আলোকসজ্জার কাজ মোটামুটি শেষ। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মেঝেতে আলপনা আঁকতে দেখা গেছে। তুলির শেষ আঁচড়ে শিল্পীরা এঁকে নিচ্ছিলেন ফুল লতাপাতা- কতো কী!

ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট শপিংমলেও উৎসবের কেনাকাটা চলছে। বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে তো কেনাকাটার ধুম পড়েছে। এখানে পছন্দের পোশাক কিনতে ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নিজের জন্য কিনছেন। তেমনি কিনছেন পরিবারের সদস্যদের জন্য। বুধবার শপিং করতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এ পর্বটিও শেষ প্রায়। শ্রাবণী রানী নামের এক গৃহিনী জানান, মূল কেনাকাটা আগেই শেষ করেছেন। কিছু কেনাকাটা বাকি ছিল। এ জন্যই আসা। অবশ্য এই অংশটি গ্রামের বাড়িতে পুজো করতে যাবেন বলে মনে হলো। আর যারা ঢাকায় থাকবেন, কেনাকাটা করছেন ধীরে। একটু একটু করে। যে কোন উৎসবে বড় ভিড়টি হয় নিউমার্কেট গাউসিয়ায়। পুজোর বেলায়ও তা-ই। সাধারণ সময়ের ভিড়টি নেই। এখন দ্বিগুণ। বিশেষ করে শাড়ির দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। নিউমার্কেট থেকে ভারতীয় শাড়ি, আর গাউসিয়া থেকে থ্রি-পিস নিয়ে ফিরছিলেন তরুণীরা। ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী বিথীকা জানালেন, দু’টি শাড়ি কিনেছেন তিনি। সাধারণত পরা হয় না। তবে পুজোয় রঙিন শাড়ি পরতে তার ভাল লাগে। শাড়ি পরে জগন্নাথ হলের পুজোম-পে যান প্রতিবছর। এবারও যাবেন বলে জানান তিনি।

নতুন একটি বাংলা মাসের শুরু হলো। সেইসঙ্গে শুরু হলো হেমন্তের। আজ শুক্রবার প্রিয় ঋতুর প্রথম দিন। না, রাজধানী ঢাকায় এই পরিবর্তন চট করে ধরে ফেলার সুযোগ নেই। ধীরে ধীরে সেটি উপলব্ধি করা যায়। উপলব্ধি করা যাবে। অবশ্য এরই মাঝে ঢাকায় পড়তে শুরু করেছে ভোরের শিশির। রাতেও সামান্য ঝরছে। শীত শীত অনুভবও শুরু হয়ে গেছে। সব মেলালে অল্পস্বল্প স্পষ্ট হয় বটে হেমন্ত।

এবার নভেরার পুরনো একটি ভাস্কর্য নতুন করে পাওয়ার গল্প। ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে পথিকৃৎ ভাস্করের একক প্রদর্শনী চলছে। শুরু হয়েছিল ৩৪টি শিল্পকর্ম নিয়ে। এখন যোগ হয়েছে আরও একটি। হ্যাঁ, এই শহরেই ছিল। বহুকাল। দিলকুশার বিসিআইসি ভবনে রাখা ছিল। অথচ কেউ জানতেন না বললেই চলে। মঙ্গলবার ভাস্কর্যটি জাতীয় জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে নতুন অতিথির মুখ দর্শনে যাচ্ছেন নভেরাপ্রেমীরা। শিল্পীর এটি সিটেট ওমেন সিরিজের কাজ। উপবিষ্ট নারী ফর্মটি নিয়ে নভেরা যে বিভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করেছেন, এটি তার প্রমাণ। সিমেন্ট কংক্রিটে গড়া বড়সড়ো গড়ন। বেইসসহ ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। ১৯৫৮ সালের দিকে কাজটি করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ভাস্কর্যটি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। আর তাহলে নভেরাকে আরও একটু জানার সুযোগ হবে। আজ শুক্রবার ছুটির দিন। আগ্রহীরা ঘুরে আসতে পারেন দুর্লভ প্রদর্শনী।