২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষুদে লেখকদের সৃজনশীলতায় শুরু দেয়াল পত্রিকা উৎসব

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তাঁরা সবাই খুদে লেখক। ঝরঝরে গদ্যের টানে কেউ লিখেছেন গল্প। দোলায়িত ছন্দের তালে কারও কলম থেকে সৃষ্টি হয়েছে কবিতা। মননের ভাবনাতাড়িত হয়ে কেউ বা লিখেছেন প্রবন্ধ কিংবা নিবন্ধ। কেউ বা পালন করেছেন সম্পাদনার গুরু দায়িত্ব। রং-তুলির স্পর্শে আবার অনেকেই এঁকেছেন স্বদেশের ছবি। এমন রকমারি বিষয়কে সমন্বিত করে পূর্ণতা পেয়েছে একেকটি দেয়াল পত্রিকা। সেসব পত্রিকা এখন শোভা পাচ্ছে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণজুড়ে। সেই সূত্রে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পড়ুয়া লেখক-সম্পাদক ও আঁকিয়েদের ভিড় জমেছে এই আঙিনায়। চারপাশে চোখে পড়ে খুদে লেখকদের সৃজনশীলতা উদ্দীপ্ত প্রকাশ। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে স্নিগ্ধ হয়ে উঠে সকলের প্রিয় শাহবাগের এই বিশেষ প্রাঙ্গণটি।

‘মুক্ত প্রকাশ, মুক্ত বিকাশ’ স্লোগানে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো অষ্টম জাতীয় দেয়াল পত্রিকা উৎসব ও প্রতিযোগিতা। দেশের শতাধিক স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চার দিনের এ উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ দেয়াল পত্রিকা পরিষদ। ঢাক-ঢোলের বাজনার তাল এবং দেয়াল পত্রিকার লেখিয়েদের আনন্দধ্বনির মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন নন্দিত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। পরিষদের সভাপতি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এবং গণগ্রন্থাগারের মহাপরিচালক আশিষ কুমার সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার আখন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় সঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায়। এরপর আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ধানম-ির শাখার শিক্ষার্থী তাসনিম হাসান খান।

সভাপতির অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী দেয়াল পত্রিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ উৎসব আনন্দের। এর মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে খুদে লেখকদের সৃষ্টিশীলতা। একইসঙ্গে সৃজনশীলতার ভেতর দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের প্রতিবাদ ও স্বপ্ন। তাদের প্রতি অবজ্ঞারও প্রতিবাদ আছে দেয়াল পত্রিকায়। এ উৎসব প্রতিবাদ করছে বিরূপ পরিবেশেও হারিয়ে যায়নি দেয়াল পত্রিকা। নানামুখী প্রযুক্তির চাপে আবদ্ধ হয়েও টিকে আছে দেয়াল পত্রিকা। এ ধরনের উৎসব আয়োজনের কিশোর-কিশোরীদের সজীব ও সতেজ করে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে আমরা দেয়াল ভাঙতে চাই। বাইরের দেয়াল ও মনের ভেতরের দেয়ালটা ভেঙে ফেলতে হবে। কারণ, যতদিন যাচ্ছে বড় পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। আর সেই ছোট দেয়ালে আমাদের কিশোরদের আটকে রাখছি। তাদের ভাবনাকে প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছি না। এমনকি গণমাধ্যমেও অবজ্ঞার শিকার হচ্ছে তারা। তাদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন খুব একটা চোখে পড়ে। এমনকি তাদের পত্রিকার সাময়িকীগুলোর জায়গাও এখন সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কিশোরদের মননকে উদ্দীপ্ত করে সজীব করে রাখতে হবে। কারণ, এরাই হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, উৎসবে উদ্বোধক হিসেবে আমন্ত্রণ পাওয়াটা আমার জন্য চমকপ্রদ ঘটনা। কারণ, আমার ধারণা ছিল যে দেয়াল পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। ফেসবুকের এ যুগে এসব সৃজনশীল কাজ আর হয় না। কিন্তু এখানে এসে আমার ভুল ভেঙ্গেছে। আমি নিজেও স্কুলজীবনে দেয়াল পত্রিকায় লিখেছি। কিন্তু স্কুলের পর দেয়াল পত্রিকা আমার জীবন থেকে হারিয়ে যায়। যা আবার ফিরে পায় শান্তিনিকেতনে, তবে তা ভিন্নরূপে। দেয়াল পত্রিকা পাঠ্যাভাস, রুচিবোধ, সাংস্কৃতিকবোধ ও সহনশীলতাবোধ তৈরিতে সাহায্য করে। প্রযুক্তির এ সময়ে এখন আর কারও সহনশীলতা নেই। সেই সহনশীলতা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন বাড়াতে হবে। আর সময়ের উজান স্রোত ঠেলে এমন উৎসবের আয়োজন খুবই অর্থবহ। এর মাধ্যমে একটা সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে উঠবে। সবার সামনে প্রকাশিত হবে তাদের ভাবনাগুলো।

গণগ্রন্থাগারের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণজুড়ে সাদা কাপড়ে আবৃত বোর্ডের উপর ঠাঁই পেয়েছে দেশের ৩৩ জেলার শতাধিক স্কুলের শিক্ষাথীদের মননের প্রয়াসে গড়া দেয়াল পত্রিকাগুলো। উৎসব প্রাঙ্গণ ঘুরতে ঘুরতে চোখ পড়ে পনেরো-ষোল শিরোনামের দেয়াল পত্রিকাটিতে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ধানম-ি শাখার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রকাশ এই পত্রিকাটি। নামকরণ প্রসঙ্গে পত্রিকাটির সহকারী সম্পাদক ফাহিমা আজাদ বলেন, আমরা ১১ জন কাজ করেছি এই পত্রিকার জন্য। সবার বয়স ১৫ থেকে ১৬। এ কারণেই নাম দিয়েছি পনেরো-ষোল। আমাদের ছোট মনের চিন্তাগুলোকে প্রকাশ করেছি লেখার মাধ্যমে। আমাদের মধ্যে কেউ গল্প কিংবা কবিতা লিখেছে। আমার কেউ বা লিখেছে সাম্প্রতিক বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ। কথা বলতে বলতে নজর পুরো পত্রিকাটির ওপর। চোখটি আটকে যায় সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো শিশু রাজনকে নিয়ে ‘হ্যাঁ’ শিরোনামের জান্নাতুল ফেরদৌসের লেখাটি কবিতাটির উপর। একটু নিচে তাকাতেই দেখা যায়, পত্রিকাটিতে সেঁটে দেয়া হয়েছে অভিবাসী ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী আলোচিত প্রাণ হারানো শিশু আইলান কুর্দির ছবি। এছাড়া ছোট ছোট মনের প্রকাশিত পত্রিকাজুড়ে ঠাঁই পেয়েছে ভ্রমণকাহিনী থেকে শুরু বাল্যবিবাহ, নারী-পুরুষের সাম্য, লোক সংষ্কৃতিসহ বহুমাত্রিক প্রবন্ধ। ঝিনাইদহের সাধুপতিরাম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিছিল শিরোনামের পত্রিকাটিতে মূলত চিত্রকর্মের মাধ্যমে নানা বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে। ছবিতে দেখা মেলে শিশুদের হাতে ধরা অসংখ্য প্ল্যাকার্ড। সেসব প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরা হয়েছে তাদের দাবিগুলো। শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, মুক্ত চিন্তার বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ চাই, শিক্ষা ব্যয় কমাতে-এমন নানা দাবি প্রকাশিত হয়েছে ছবির মাধ্যমে। এছাড়াও উৎসব প্রাঙ্গণে ঠাঁই হয়েছে স্বপ্নপ্রদীপ, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য, গ্যালারি, ছেঁড়াপাতার ইচ্ছেঘুড়ি, দেশ ও তার কথা, ক্রান্তি, প্রতিবাদ, আত্মমগ্ন, সাম্যের ছড়া, মানবতার আর্তনাদসহ মনকাড়া নানা নামের দেয়াল পত্রিকা।

চার দিনের এ উৎসব চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১৮ অক্টোবর সমাপনী দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। সমাপনী দিনে প্রতিযেগিতার বিজয়ীদের মাঝে বিতরণ করা হবে পুরস্কার। দেয়াল পত্রিকাগুলোর লেখার মান ও শিল্প মান বিবেচনায় বিচারকম-লী প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও সাধারণ স্থানসহ ১০টি পত্রিকাকে পুরস্কৃত করবেন।

শুরু হচ্ছে লোকগানের প্রতিযোগিতা বাংলার গান ॥ লোকগানের প্রতিভা অন্বেষণে শুরু হচ্ছে রিয়েলিটি শো ‘আড়ং ডেইরি-চ্যানেল আই বাংলার গান ২০১৫।’ শীঘ্রই প্রযোগিতার জন্য দেশের আট বিভাগে প্রাথমিক বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার চ্যানেল আই ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। একে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং প্রতিযোগিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ডেইরি এ্যান্ড ফুড এন্টারপ্রাইজের পরিচালক তৌফিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন, শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, রিজিয়া পারভীন, সেলিম চৌধুরী, হায়দার হোসেন, শাহনাজ বেলী, জলের গানের রাহুলসহ আরও অনেকে। প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক থাকবেন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু। তাদের সঙ্গে থাকবেন একজন করে অতিথি বিচারক। প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করবেন রেহানা সামদানী। বৃহস্পতিবার থেকে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে ‘অঈইএ স্পেস নাম স্পেস বিভাগ লিখে পাঠাতে হবে ৬৯৬৯ নম্বরে’। প্রতিযোগীর বয়স হবে সর্বোচ্চ ২৫ বছর।

ঘাসফুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নজরুল ইসলামকে সম্মাননা ॥ নানা আয়োজনে উদ্্যাপিত হলো গণমাধ্যম সংস্থা ঘাসফুলের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বৃহস্পতিবার বিকেলে পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের খোলা আঙিনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্মাননা জানানো হয় বিশিষ্ট নগরবিদ, চিত্র-সমালোচক ও ভূগোল বিশারদ অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংগঠনের পরবর্তী আয়োজনে কবি আসাদ চৌধুরীকে সম্মাননা জানানোর ঘোষণা দেয়া হয়।

দশম শিশু চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ॥ শুরু হলো দশম শিশু চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সূচনা হয় জয়নুল আবেদিন আর্ট স্কুল আয়োজিত দুই দিনব্যাপী দশম শিশু চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ২০১৫। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট, বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মারিটি লুনডিমু।