২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মা সেতু এলাকায় ‘সচিব সভা’ বসছে কাল ॥ ব্যাপক প্রস্তুতি

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ থেকে ॥ মাওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় আগামীকাল শনিবার বসছে গুরুত্বপূর্ণ ‘সচিব সভা’। প্রথা ভেঙ্গে রাজধানীর বাইরে এই সভার আয়োজন ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করতে যাচ্ছে। শুধু সভাই নয়, সচিবগণ পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকাও ঘুরে দেখবেন। শরতে পদ্মাতীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করবেন। সেভাবেই কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এই নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এখন হরদম ব্যস্ততা। সভায় প্রায় ৭২ সচিবের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সচিব সভার সব প্রস্তুতিই এখন সম্পন্ন। সভা ঘিরে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা।

সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জনকণ্ঠকে জানান, সচিব সভা পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেতু বিভাগ আনন্দিত। সেই অনুযায়ী সেতু বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, সভাপ শুধু ইতিহাস নয়, পদ্মা সেতুর অগ্রগতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সচিব সভাস্থল মাওয়ার পার্শ্ববর্তী শ্রীনগর উপজেলার দোগাছির পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১ ঘুরে এসে বৃহস্পতিবার রাতে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল হাসান বাদল জানান, রাজধানীর বাইরের এই সচিব সভা দেশের অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও সমন্বয় দরকার। আর এ সেতু নির্মিত হলে তার যে ইতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে, তাও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স¤পৃক্ত। তাই পদ্মাপারে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সচিব সভা হলে স্বাভাবিকভাবেই সচিবদের স¤পৃক্ততা আরও বাড়বে এবং প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন স¤পর্কে সবাই সচেতন হবেন। এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন স¤পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশাবাদ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ থেকে বাসে চড়ে সচিবরা আসবেন সভাস্থলে, ফিরবেনও বাসে। সাধারণত সচিব সভায় অংশ নেন সরকারের সব সচিব। এত দিন এ সভা হয়ে আসছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। এবারই প্রথম সচিবালয়ের বাইরে পদ্মা সেতুর নির্মাণস্থলে সভা হতে যাচ্ছে। সভা শেষে সচিবরা পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এর আগে বিএনপি সরকারের সময় চট্টগ্রামে মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিব সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তবে তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে এর আগে এইচ এম এরশাদের শাসনামলে নাটোরে অবস্থিত উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক হয়েছিল। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও সেখানে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক হয়।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসাইন জানান, পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও সমন্বয় দরকার। আর এ সেতু নির্মিত হলে তার যে ইতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে, তাও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স¤পৃক্ত। তাই পদ্মাপারে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সচিব সভা হলে স্বাভাবিকভাবেই সচিবদের স¤পৃক্ততা আরও বাড়বে এবং প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন স¤পর্কে সবাই সচেতন হবেন। এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন স¤পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশাবাদ সৃষ্টি হবে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সচিবরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ থেকে বাসে চড়ে রওনা দেবেন পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায়। এক ঘণ্টার বাস ভ্রমণ শেষে সকাল সাড়ে ৮টায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মাওয়া প্রান্তে অবস্থিত ‘সার্ভিস এরিয়া-১’ এ উপস্থিত হবেন তাঁরা। সকাল ৯টায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প স¤পর্কে নানা তথ্য সচিবদের সামনে উপস্থাপন করবেন প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম। প্রকল্প স¤পর্কে ধারণা নেয়ার পর সকাল ১০টায় সচিবরা বসবেন মূল সভায়, যা ‘সচিব সভা’ নামে পরিচিত। সভায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পদ্মা সেতুর প্রত্যাশিত প্রভাব পর্যালোচনা করবেন সচিবরা। এ ছাড়া বরাবরের মতো সার্বিক প্রশাসনিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করবেন তাঁরা।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত সভা করে সব সচিব মিলে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিস্থিতির অগ্রগতি দেখতে সরেজমিন পরিদর্শন করবেন প্রকল্প এলাকা। এক ঘণ্টা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকাল ৩ টায় বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে মাওয়া ত্যাগ করবেন সচিবরা। বিকাল ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় ফিরবেন। এদিকে এই সভায় মধ্যাহ্নভোজে পদ্মার ইলিশ ছাড়াও বিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার থাকছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চীনের উচ্চ পর্যায়ের ৩০ প্রতিনিধি

মাওয়ায় ॥ পদ্মা সেতুর কাজ সরেজমিন পরিদর্শনে চীনের উচ্চ পর্যায়ের ৩০ প্রতিনিধি এখন মাওয়ায়। বিশেষ নিরাপত্তায় বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে এই দলটি। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন মূল সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজের কোম্পানির চেয়ারম্যান মি. লি মিং। সেতুটির কাজের খুঁটিনাটি খোঁজ-খবর নিতে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা দিবে দলটি। পদ্মা সেতুতে প্রথমবারের মত চীনের উচ্চ পর্যায়ের এই দল সফর করছে। দলটি পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে বৃহস্পতিবারই বৈঠক করেছে। কোম্পানিটির বিভিন্ন সেক্টরের প্রধানগণ এই দলে রয়েছে। তারা স্ব স্ব সেক্টরের অগ্রগতি ও সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধান দিবেন বলে সূত্রটি জানায়। পদ্মা সেতুর মূল পাইলিং কাজের ব্যাপারে এই টিম প্রস্তুতি তদারকি করবে।

এছাড়া টানা তিনদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে একাধিক বৈঠক হবে। বিশেষ বৈঠক হবে শুক্রবার ও শনিবার। পরে রবিবার সকালের ফ্লাইটে তারা চীন ফিরে যাবেন।

নির্বাচিত সংবাদ