১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে

  • শুদ্ধাচার সেমিনারে গওহর রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তিপর্যায়ে অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের পাশাপশি প্রতিটি নাগরিককেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কানির্ভাল হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়, “জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন : নির্বাচিত উত্তম চর্চা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেন ভূইয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতু ওয়াতানাবে, জাইকার প্রতিনিধি হাতায়েদা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মঈন উদ্দিন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রকল্পের পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন খান বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রিপরিষদের সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূইয়া বলেন, দুর্নীতি বলতে শুধু আর্থিক বিষয়কেই বোঝায় না বরং যারা সঠিকভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে না তারাও দুনীতি করেন। জাতীর জনক বঙ্গবদ্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না তারাও দুর্নীতি করেন। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রত্যয় আছে। একজন ভাল গবর্নর তৈরি করার জন্য এই পদক্ষেপটি নেয়া। অনেকে মনে করেন এই চিন্তাটি পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আমরা পেয়েছি কিন্তু না এটা আমাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা।

শুদ্ধাচার চর্চা নিয়ে তিনি বলেন, এটি শুরু হয়েছিল ৩ বছর আগে তখন অনেক নেতিবাচক কথা এসেছে। এখন আমরা আশার কথা শুনছি। তবে এটা শুধু মন্ত্রিপরিষদের দায়িত্ব নয়, সবাই মিলে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্নীতি নির্মূল ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। রাষ্ট্র আইনকানুন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে তাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, সমাজ তা প্রতিপালন করে সেইসঙ্গে সমাজের নীতিচেতনা ও মূল্যবোধও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয়। এই সম্পর্কের জটাজালে ব্যক্তিমানুষের নৈতিকতা ও শুদ্ধতার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠা যেমন প্রয়াজন, তেমনি তার যুক্তরূপ প্রতিষ্ঠানগত শুদ্ধাচার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠাও জরুরী। এই কৌশলটির চূড়ান্ত লক্ষ্য ব্যক্তিমানুষের শুদ্ধাচার, অন্য কথায় চরিত্রনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা কিন্তু এর হাতিয়ার হিসাবে প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র, বেসরকারী ব্যবসা খাত ও সুশীল সমাজের যেসব প্রতিষ্ঠান শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে প্রতীয়মান হয়, তাদের উন্নয়ন বিবেচনা করা হয়েছে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতির উন্নয়ন সাধন, ক্ষেত্রবিশেষে আইন ও পদ্ধতির পরিবর্তন এবং নতুন আইন ও পদ্ধতি প্রবর্তন, লোকবলের দক্ষতার উন্নয়ন এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে এ দলিলটিতে।