২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দলের সেরা পারফরমার হতে চান মোসাদ্দেক

দলের সেরা পারফরমার হতে চান মোসাদ্দেক
  • প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সঙ্গে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘আমার ইচ্ছাটা হলো, চেষ্টা থাকবে ঘরোয়া লিগে যে পারফর্মেন্স ছিল তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সুযোগ পেলে ভাল খেলব ইনশাআল্লাহ। দলের সেরা পারফরমার হতে চাই’-এ আশা নিয়েই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সঙ্গে বুধবার আফ্রিকা মিশনে গেলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ঘরোয়া লীগে যে সবচেয়ে বেশি ডাবল (তিনটি ডাবল) শতক হাঁকানোর রেকর্ড আছে, নৈপুণ্য দেখিয়েই চলেছেন; তা আফ্রিকা সফরেও দেখাতে চান। দক্ষিণ আফ্রিকার আইরিন ভিলেজার্স ও জিম্বাবুইয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত কিছু করে দেখাতে চান মোসাদ্দেক।

বুধবার রওনা দিয়ে বৃহস্পতিবারই দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে যাওয়ার কথা ‘এ’ দলের। দক্ষিণ আফ্রিকায় আইরিন ভিলেজার্সের বিপক্ষে ১৯, ২৭ ও ২৯ অক্টোবর যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় একদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এর মাঝে ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচও হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রস্তুতি ম্যাচগুলো শেষে জিম্বাবুইয়েতে গিয়ে জিম্বাবুইয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে ২, ৪ ও ৬ নবেম্বর যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় একদিনের ম্যাচ খেলবে শুভগত হোমের দল। ৯-১২ ও ১৫-১৮ নবেম্বর যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচও খেলবে ‘এ’ দল।

ঘরোয়া ক্রিকেটে এবারের জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) সিলেটের বিপক্ষে বরিশালের হয়ে অপরাজিত ২০০ রান করেছেন মোসাদ্দেক। এর বাইরে ২০১৪-২০১৫ মৌসুমে রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ২৫০ ও চট্টগ্রামের বিপক্ষে ২৮২ রান করছেন। এখন আফ্রিকা সফরে ‘এ’ দলের সঙ্গে গেলেন মোসাদ্দেক। সিরিজটাকে কিভাবে দেখছেন? প্রশ্নটি করতেই জানালেন, ‘আসলে এর আগে আমি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে খেলেছি। ওখানকার (বাইরের) উইকেট সম্পর্কে একটু হলেও ধারণা আছে। মাঝখানে আমার একটা গ্যাপ ছিল। বাইরে কোথাও সফরে যেতে পারি নাই। তো মনে হচ্ছে একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ ডিফিকাল্ট উইকেট, আবহাওয়া ডিফিকাল্ট থাকবে। ঘরোয়া লিগের মতো এমন উইকেট পাব না, একটু ডিফিকাল্ট কন্ডিশন থাকবেই। তো এটা মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে আমারই। তারপরও আমার চেষ্টা করতে হবে ওই কন্ডিশনে ভাল খেলা।’ এর আগে অনুর্ধ-১৯ দলে খেলেছেন। ওটার অভিজ্ঞতা কি কাজে লাগবে? মোসাদ্দেক বললেন, ‘অনুর্ধ-১৯ দলে আমি ইংল্যান্ড সফর করেছি। অস্ট্রেলিয়াতে সফর করেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করেছি। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াতে ওখানকার ঠা-া আবহাওয়ার উইকেট যেমন থাকে, পেস বোলারদের উইকেট। তো ওইরকমই পেয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমার প্রথম সফর। এই সফর নিয়ে নতুন করে একটা পরিকল্পনা আছে।

এ্যাটলিস্ট টিমের বেস্ট পারফরমার যেন হইতে পারি। এ রকম একটা টার্গেট আমার মধ্যে আছে।’ এ দলে পারফর্ম করা মানে জাতীয় দলে ঢোকার একটা পথ। আপনার কাছে কি মনে হয়, কতটুকু চ্যালেঞ্জ? মোসাদ্দেক বললেন, ‘আসলে আমি সরাসরি যদি জাতীয় দল নিয়ে চিন্তা করি আমার জন্য ভুল হবে। চিন্তা থাকবে আমি যে সফরটাতে যাচ্ছি, সে সফরটা ভাল করা। সফরটাতে ভাল করলে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় দলে চলে আসব। এটার জন্য নির্বাচকরা আছেন। উনারা ভাল বলতে পারবেন। আমার কাজ পারফর্ম করা, আমি সেটা করতে থাকি। বাকিটা উনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। আমি আমার ন্যাচারাল ক্রিকেটটা খেলব, সেটা যে ফরম্যাটেই হোক। সেটা টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি২০ হতে পারে। আমি আমার ন্যাচারাল থেকে বের হব না। আমি ওটাই করছি।’

সাব-কন্টিনেন্টের ব্যাটসম্যানরা স্পিনে খুব ভাল খেলে। যতটুকু দেখেছি আপনি স্পিনে ভাল খেলেন। ওখানে তো পেস এ্যান্ড বাউন্সি উইকেটে থাকবে। সেখানে মানিয়ে নেয়ার ব্যাপারে, বা সার্ভাইভ কিভাবে করবেন? মোসাদ্দেক বললেন, ‘স্পিনে আমি খুব ভাল কিন্তু পেসে যে আমি খুব খারাপ সেটা বলব না।

আমার যে সব জায়গায় ল্যাকিংস আছে সেসব জায়গায় হয়ত মাস্টার হতে পারব না, তবে ম্যানেজ করার মতো ক্ষমতা আমার রাখতে হবে। তো আমি সেটার ওপরই প্র্যাকটিস করতেছি। এ্যাটলিস্ট আমি যেন ম্যানেজ করতে পারি এবং ওটা থেকে বের হয়ে আসতে পারি। আমি যখন ওটা হ্যান্ডেল করতে পারব তখন আমার জোনের যে স্পিনারগুলো আছে তখন আলটিমেটলি চলে আসবে; তখন আমি আমার মতো খেলতে পারব।’