২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমার অনুপ্রেরণা সানিয়া ॥ মালিক

আমার অনুপ্রেরণা সানিয়া ॥ মালিক

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পাঁচটা বছর টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে কাটাতে হয়েছে। তবে এর মধ্যে ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেটে যাওয়া-আসার মধ্যেই ছিলেন। মাঝে টানা দুই বছর ওয়ানডেও খেলার সুযোগ পাননি। খুব বাজে ও কঠিন সময় গেছে তাঁর। তবে ফেরার পর থেকেই যেন নিজেকে অন্যভাবে চেনাচ্ছিলেন। রানের মধ্যেই আছেন তিনি। সেজন্য এবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজেও ঠাঁই করে নিয়েছেন। প্রথম সুযোগেই ক্যারিয়ার সেরা ২৪৫ রানের বিশাল ইনিংস খেলে ফিরে এসেছেন দুর্দান্তভাবে। পাকিস্তানী অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকের এ ফিরে আসার রহস্য কি? এর মধ্যে কোন গূঢ় তত্ত্ব নেই। তিনি নিজেই জানালেন সহধর্মিণী সানিয়া মির্জার সাফল্যই তাঁর অনুপ্রেরণা, আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে উজ্জীবিত করার মূল চালিকাশক্তি। সম্প্রতি শোয়েবের স্ত্রী ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া দারুণ ফর্মে আছেন। জিতে চলেছেন একের পর এক শিরোপা। আর সানিয়ার এমন সাফল্য মালিককেও ফর্মে ফেরার পেছনে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। সেটা নিজেই দাবি করলেন মালিক।

২০১০ সাল পর্যন্ত মাত্র ৩২ টেস্ট খেলেই থেমে গিয়েছিলেন। এরপর ওয়ানডে ও টি২০ খেলেছেন ঠিকই কিন্তু টেস্ট দলে আর ফেরা হয়নি। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন মালিকের টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। কারণ এর মধ্যে তিনি ২০১৩ পর্যন্ত নিয়মিত ওয়ানডে খেলে দুই বছরের জন্য বাদ পড়েছিলেন। কিন্তু এই সময়ও ক্ষুদ্রতম ফরমেট টি২০ ক্রিকেটে ঠিকই খেলছিলেন পাকিস্তানের হয়ে। কিন্তু চলতি বছরটা তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের। মে মাসে ঘরের মাটিতে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে প্রত্যাবর্তন করা ওয়ানডেতেই ১১২ রানের শতক হাঁকিয়ে শেষ হয়ে যাননি সেটার প্রমাণ দিয়েছেন। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে একের পর এক দারুণ কিছু ইনিংস খেলে যাচ্ছিলেন তিনি। এরপর একই উদাহরণ দেখালেন টেস্ট ক্রিকেটেও। আগে ২০০১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ৯ বছরে মাত্র ৩২ টেস্ট খেলে যা করতে পারেননি, দীর্ঘ ৫ বছর পর ফিরে সেটাই করেছেন। ৩২ টেস্টের ক্যারিয়ারে তাঁর ছিল মাত্র দুটি সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ১৪৮। ২০১০ সালে বহুল বিতর্কিত ইংল্যান্ড সফরে বার্মিংহাম টেস্ট খেলেছিলেন। এরপর সেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই ফিরলেন। এবার মরুদেশ আরব আমিরাতের আবুধাবীতে। ফিরলেন বিপুল বিক্রমে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পেলেন এবং প্রথমবার করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের পক্ষে ৪০তম ডাবল এটি টেস্টে।

এ বছর দুই ফরমেটে ফিরেই এমন সাফল্য পাওয়ার পেছনে মূল কারণটা কি? জীবনসঙ্গিনী সানিয়ার সাফল্য তাঁকে উজ্জীবনী শক্তি জোগাচ্ছে এমনটা অনেকেই বলাবলি করছিলেন। ভারতীয় টেনিস সেনসেশন সানিয়া চলতি বছর মযর্দার দুই গ্র্যান্ড সøাম আসর উইম্বলডন ও ইউএস ওপেনের দ্বৈতে শিরোপা জিতেছেন। এবার নিজের অনুপ্রেরণার পেছনে স্ত্রী সানিয়ার অবদানের কথাই জানালেন শোয়েব নিজে। তিনি বলেন, ‘ডাবল সেঞ্চুরি সবদিন আসে না। সাধারণত সানিয়া যেদিন টেনিসে জেতে সেটা আমাকে প্রচুর অনুপ্রেরণা জোগায়। আমাকে উদ্বুদ্ধ করে ক্রিকেটে ভাল কিছু করার জন্য।’ মালিকের দুর্দান্ত ইনিংসটাই পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫২৩ রানের বিশাল সংগ্রহ এনে দিয়েছে। মরু শহরের বুকে তীব্র গরম আবহাওয়ায় ৬৪৭ মিনিট ক্রিজে থেকে এমন একটি ইনিংস খেলা সত্যিই খুব কঠিন। এ বিষয়ে মালিক বলেন, ‘এটা সত্যিই অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু ফেরার পর থেকে আমি প্রতিটা ইনিংস খেলার সময় সবকিছুকে হাসিমুখে বরণ করে নিচ্ছি।’ ২০১০ সালে সানিয়াকে বিয়ে করার কারণে দু’দেশের মধ্যে এটা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে দল থেকেই বাদ পড়েন মালিক। বিয়ের কিছুদিন পরই ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল পাকরা, ওই সফরেই শেষ টেস্ট খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই সানিয়াই আবার তাঁকে ফেরার শক্তিটা যুগিয়েছে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ডাবলসে এক নম্বর এখন সানিয়া। মালিক বলেন, ‘আমি তাঁর জন্য গর্ববোধ করি। আমি তাঁর ম্যাচগুলোর প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করেছি মোবাইলে। আর সেও সবসময় আমাকে বলে ক্রিকেট তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খেলা।’