২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জহির খানের অবসর

জহির খানের অবসর
  • আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এ ভারতীয় পেসার, শচীন-ধোনির ;###;বন্দনা, বিসিসিআইয়ের সম্মান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ যুগে যুগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের পেস আক্রমণ নিয়ে সমালোচকরা কটাক্ষ করেছেন। তবে দুয়েকজন ছিলেন যারা নিজেদের যোগ্যতা, সামর্থ্য দিয়ে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন। চেতন শর্মা, কপিল দেব আর জাভাগাল শ্রীনাথের পর আর সেভাবে কেউ ভারতীয় দলের পেস আক্রমণকে ভীতিকর করে তুলতে পারেননি কেউ। কিন্তু জহির খান আসার পর তিনি ভারতের পেস বিভাগকে নতুন করে বিশ্ব ক্রিকেটে সমীহ করার মতো একটা অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০০ ওয়ানডে, ৯২ টেস্ট আর ১৭ টি২০ খেলা জহির অবশ্য দীর্ঘদিন ফর্মহীনতায় দলে আর ফিরতে পারেননি। শেষদিকে ইনজুরিও দানা বেঁধেছিল তার শরীরে। তবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। তরুণ উদীয়মানদের উঠে আসায় লড়াইয়ে অবশ্য আর জিততে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়ই বলে দিলেন মহারাষ্ট্রের এ বাঁহাতি পেসার। ৩৭ বছর বয়সী জহিরের ক্যারিয়ারে ইতি টানার পর তার সাবেক সতীর্থ লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকর ও বর্তমানে স্বল্পপরিসরের দলনেতা মহেন্দ্র সিং ধোনি স্তুতিবাক্য উচ্চারণ করেছেন জহিরের। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) কর্মকর্তারাও এ পেসারের বিদায়ের পর সম্মান জানিয়ে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তাকে।

যখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হলেন সৌরভ গাঙ্গুলী, ভরসার নাম হয়ে উঠলেন জহির। সৌরভের পর ভারতের কা-ারী ধোনির ব্রহ্মাস্ত্রে পরিণত হলেন এ বাঁহাতি। জহিরের দুর্দান্ত নৈপুণ্যেই ২৮ বছর পর ২০১১ সালে আবার ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সেবার সর্বাধিক উইকেট (২১ উইকেট) শিকারী ছিলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের সেরা বোলারদের কাতারে নিজেকে অধিষ্ঠিত করতেও সময় লাগেনি তার। ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের মধ্যে উইকেট শিকারে দ্বিতীয় এবং সার্বিকভাবে চতুর্থ অবস্থানে তিনি। ৯২ টেস্টে শিকার করেছেন ৩২.৯৪ গড়ে ৩১১ উইকেট। পেসারদের মধ্যে তার ওপরে শুধু কপিল ৪৩৪ উইকেট নিয়ে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের ইতিহাসে পেস বোলারদের মধ্যে শ্রীনাথ ও অজিত আগারকারের পরই তার স্থান এবং সার্বিকভাবে এ ফরমেটেও চার নম্বরে। ২০০ ওয়ানডেতে ২৯.৪৩ গড়ে ৮২ উইকেট। এর মধ্যে ২০১১ বিশ্বকাপের দুর্দান্ত নৈপুণ্যটার কথা যুগ যুগ ভুলতে পারবে না গোটা ভারতের মানুষ। স্পিননির্ভর ভারতীয় দলও যে পেস আক্রমণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভয়ের মধ্যে রাখতে পারে সেটার প্রমাণ হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে গতির আতঙ্ক নিয়ে এসেছিলেন জহির। ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (ওয়ানডে ও টেস্ট) অভিষেকের পর এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন গাঙ্গুলী ও সৌরভের অজস্র সাফল্য পাওয়ার মূল পথিকৃৎ।

জহিরের নাম ভুলে যেতে সময় লাগেনি। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন। আর গত বছর ওয়েলিংটনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন টেস্ট। ওই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছিলেন ফুরিয়ে যাননি। তবে জহিরকে থামিয়ে দিল ইনজুরি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেকে আর প্রমাণ করতে পারেননি, বয়সটাও বেড়ে গিয়েছিল। ৮ দিন আগেই নিজের ৩৭তম জন্মদিন পালন করেছেন। এরপরই বুঝে গেছেন আসলে লড়াইটা চালিয়ে যাওয়ার সময় এখন আর নেই। সময় হয়ে গেছে বিদায়ের! এ বিষয়ে জহিরের কোচ বলেন, ‘এখনও জ্যাক ১২৫-১৩০ কিলোমিটার বেগে বল ছুড়তে পারে। কিন্তু নিজের সেরাটা দেয়ার জন্য সেটা যথেষ্ট নয় বলেই সে সরে দাঁড়াল।’ বৃহস্পতিবার সব ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন জহির। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আসন্ন মৌসুম সামনে রেখে অনুশীলন করছিলাম। বুঝতে পারছিলাম আমার কাঁধটা আসলে দৈনিক ১৮ ওভার বোলিং করার মতো যথেষ্ট সমর্থন দিতে সক্ষম নয়। আর এটা বোঝার পরই আমি উপলব্ধি করলাম সময় হয়ে গেছে অবসর নেয়ার। এরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আমি আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটে বিদায় জানাচ্ছি। আমি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) নবম আসর খেলেই ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়াতে চাই।’ অর্থাৎ আগামী বছর শুধু আইপিএল টি২০ খেলবেন জহির।

তারপর সবধরনের ক্রিকেট থেকেই বিদায় নেবেন। ১৭ আন্তর্জাতিক টি২০ খেলে ১৭ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। জহিরের অবসর ঘোষণার পর কিংবদন্তি শচীন বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা ঠা-া মস্তিষ্কের পেসার হিসেবে মনে করি তাকে। আমি আশা করি তিনি তার পরবর্তী জীবনটাও অনেক ভাল কাটাবেন।’ ধোনি বলেন, ‘টিম ইন্ডিয়ার অধিকাংশ সেরা সাফল্যগুলো পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে জহিরের অবদান ছাড়া।’ বিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে জহিরের দুর্দান্ত অবদানের জন্য বিসিসিআই তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। তিনি দারুণ আত্মপ্রত্যয়ী ও নিবেদিতপ্রাণ একজন ক্রিকেটার হিসেবে ভারতের ক্রিকেটকে প্রচুর অর্জন এনে দিয়েছেন। উপমহাদেশে একজন ফাস্ট বোলার হওয়া খুব চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু তিনি এর ব্যতিক্রম। ভবিষ্যতে তার জন্য শুভ কামনা।’