২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফ্যাশনেবল জিন্স

  • পান্থ আফজাল

দিন যত যাচ্ছে তত পরিবর্তন ঘটছে সমাজের নানা আঙ্গিনায়। নতুনত্বের আলিঙ্গন ঘটছে পুরোদমে। উচ্ছ্বসিত মন থেকে পুরনো কালি রেখা দূর করায় সচেষ্ট সবাই। নিজের বাহ্যিক আবরণ উজ্জ্বল করা, নিজের ব্যক্তিত্বকে আরও বেশি করে ফুটিয়ে তোলার আয়োজন চলছে চারদিকে। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই এ ধারাটা বেশি লক্ষ্য করা যায়। পুরনোকে ভেঙ্গে নতুনের আবাহনে গা ভাসানোতেই আনন্দ তাদের। তরুণ প্রজন্মের দিকে তাকালে সব সময় একটা চমক লক্ষ্য করা যায়। সেটা পোশাক আশাকে কিংবা চালচলনে যেটাই হোক না কেন। ফ্যাশন ট্রেন্ডের ধারাবাহিক পরিবর্তন তরুণ প্রজন্মকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। নিত্যনতুন ঘারানার পোশাক আন্দোলিত করে তাদের। মাঝে মধ্যেই তারা ফ্যাশন ট্রেন্ডের গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন করে থাকে। আবার পুরনো পোশাককে নতুন রূপ দেয়ার মাধ্যমেও ভিন্নতা আনা হয়ে থাকে। সেটাতেও ভিন্ন ধরনের ফ্লেবার পাওয়া যায়। তেমনি একটি পোশাক হচ্ছে জিন্স। বহুদিন ধরে ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গী জিন্স। কবে থেকে জিন্স এ দেশের ফ্যাশন ট্রেন্ডে যোগ হয়েছে তার সঠিক দিন তারিখ জানা না থাকলেও আজ অবধি জিন্স ফ্যাশন ট্রেন্ডের অন্যতম অনুষঙ্গ। মূলত প্রয়োজনের তাগিদ থেকেই জিন্সের উৎপত্তি। পরবর্তীতে তা ফ্যাশনে রূপ নিয়েছে। জিন্সের ইতিহাস খুবই পুরনো। ধারণা করা হয় শ্রমিকদের কাজের সুবিধার জন্য জিন্সের উদ্ভব। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার স্বর্ণের খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের কাজের সুবিধার জন্য জিন্স পরতে দেয়া হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় জিন্স প্যান্ট বেশ স্থায়ী হয় এবং খনিতে কাজ করার ক্ষেত্রেও সহায়ক। বলা যায় শ্রমিকদের প্রয়োজন মেটাতেই জিন্সের উৎপত্তি। পরবর্তী সময়ে কালের আবহে জিন্স ফ্যাশন ট্রেন্ডে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

আর কিছুদিন পরেই শীত প্রকৃতিকে দোল দিয়ে যাবে। আর সময়টায় জিন্স যেন অবশ্যম্ভাবী। তাই এখন থেকেই চলছে জিন্স প্যান্ট কেনার ধুম। জিন্সের সঠিক ইতিহাস না থাকলেও প্রচলিত রয়েছে লেভি স্ট্রস নামের এক ভদ্রলোক ১৮৫১ সালে জার্মানি থেকে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন শুকনো মালামাল সাপ্লাই দিতেন। এর মধ্যে কাপড়ও রয়েছে। ১৯৫৩ সালে তিনি সানফ্রান্সিসকোতে চলে যান, ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য। ১৮৭২ সালে লেভি স্টসের সঙ্গে পরিচয় ঘটে জ্যাকব ডেভিসের সঙ্গে, যিনি পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। তিনি নিয়মিত লেভির কাছ থেকে কাপড় সংগ্রহ করতেন। একদিন জ্যাকব অফার করেন লেভি পার্টনারশিপ ব্যবসা শুরু করার জন্য। এবং ভিন্ন কিছু প্রোডাক্ট তৈরির জন্য। প্রথমেই মনযোগী হন প্যান্টের দিকে। মোটা কটনের কাপড় ব্যবহার করা হবে প্যান্টে যা হবে দীর্ঘস্থায়ী। এবং এই কটন কাপড় জার্মানি ভাষায় বলা হয় জিনিয়া, যা বর্তমানে জিন্স হিসেবেই পরিচিত। এই জিন্স প্যান্টের বাটন হুক এবং ব্যাক পকেট ডিজাইন লেভির করা। এবং তার দু’জনে মিলে প্যাটেন্ট কিনে ছিলেন জিন্স প্যান্ট ব্যবসার। জিন্সের পেছনে লেভেল লাগান লেভি স্ট্রস এ্যান্ড কোং। জিন্সের সেই আদি রূপ হয় যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু জনপ্রিয়তা কমেনি এতটুকু। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে জিন্স প্যান্ট খুবই জনপ্রিয় একটি পোশাক। ক্যাম্পাস কিংবা আড্ডায় জিন্স প্যান্টের যেন বিকল্প নেই। অবশ্য বিভিন্ন পার্টিতেই আজকাল জিন্সের আধিক্যতা চোখে পড়ার মতো। রুচি এবং চাহিদার প্রেক্ষিতে জিন্স প্যান্টের রয়েছে রকম ভেদ। যেমন ব্যাগি জিন্স, ন্যারো শেপ, স্ট্রেট, স্টিচ ইত্যাদি। ফ্যাশন ট্রেন্ডের অন্যতম সঙ্গী এখন জিন্স প্যান্ট। গলির মোড় থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে যেন জিন্সের বাহারি সমাহার। যে যার সাধ্যমতো সংগ্রহ করছে। ছেলেমেয়ে উভয়ের কাছে জিন্স প্যান্ট যেন প্রথম পছন্দের পোশাক। একটা সময় ছিল যখন জিন্স প্যান্ট মানেই শুধু তরুণ প্রজন্মের পোশাক। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে ততই বদল হচ্ছে ফ্যাশন ট্রেন্ড। এখন প্রয়োজন অনুসারে ছেলে বুড়ো সবাই ব্যবহার করছে জিন্স প্যান্ট। দোকানিরাও এ কারণে বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন ডিজাইনের জিন্সের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। আগে জিন্স প্যান্ট মানেই নীল রঙকে বোঝানো হতো। কিন্তু এখন জিন্সের যে কত রকমের কালার রয়েছে তা বোধহয় গুণে শেষ করা যাবে না। এখন আমাদের দেশেও প্রস্তুত হচ্ছে উন্নতমানের জিন্স প্যান্ট। আর পর্যাপ্ততার কারণে দামও হাতের নাগালে। বিভিন্ন দামে মিলবে জিন্সের প্যান্ট। যেমন ৫০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকায় যেমন পাওয়া যাবে তেমনি ১২০০ থেকে ১২০০০ টাকার জিন্সের প্যান্টও মিলবে এই শহরে। যে কোন শপিং মলে দেখা মিলবে নিত্যনতুন ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট। প্রয়োজন শুধু নিজের পছন্দের জিন্সটি সংগ্রহ করা।

মডেল : শাওন, প্রীতি, সাইফ, অপূর্বা ও নীরব

কৃতজ্ঞতা : চারুলতা কুটির