১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেকিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশী নাদিয়া

দেশের সীমানা পেরিয়ে যুগ যুগ ধরেই বাঙালীরা নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে চলেছে। তবে বিগত কয়েক বছর ধরেই বিদেশের মাটিতে আমাদের সফল পদচারণা নিয়মিত। এবার বাংলাদেশীদের প্রতিভার প্রমাণ পাওয়া গেল ব্রিটেনের ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’-এর মঞ্চে। ২০১৫ সালের বিজয়ী বেকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাদিয়া।

‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’ একটি পৃথিবীবিখ্যাত বেকিং প্রতিযোগিতা। পৃথিবীর অনেক মানুষ বেকিংটাকেই নিজের নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যসব গতানুগতিক পেশায় না গিয়ে নিজের নেশাকে রূপান্তরিত করেছেন পেশায়। এমন সব রাঁধুনির চোখ থাকে এই প্রতিযোগিতায়। ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’কে বেশিরভাগ সময় শুধু ‘বেক অফ’ বা ‘জিবিবিও’ বলা হয়। এই প্রতিযোগিতা ২০১০ সালে বিবিসি চ্যানেলে প্রথম দেখানো হয়। প্রতিযোগীদের মাঝ থেকে সবচেয়ে দক্ষ রাঁধুনিকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে।

৩০ বছর বয়সী নাদিয়া তিন সন্তানের জননী। প্রতিযোগিতায় তার জয়ী হওয়ার পেছনের মূল কারণ ছিল তার তৈরি ‘বিয়ের কেক’। এই প্রতিযোগিতায় তিনি বিয়ের কেক তৈরি করলেন কী করে? এ বিষয়ে তিনি জানান নিজের ই”াছপূরণের কথা। ব্রিটেনের লিডস অঞ্চলে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা হলেও বিয়ের জন্য তিনি ফিরে এসেছিলেন বাংলাদেশে। এখানে বিয়ের সময়ে কেক কাটা তেমন প্রচলিত নয়। এ কারণে বিয়ের কেক কাটার ইচ্ছা কখনও পূরণ হয়নি তার। এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে তাই তিনি নিজের সব প্রতিভা ও কল্পনা ঢেলে দিয়ে তৈরি করেন ‘মাই বিগ ফ্যাট ব্রিটিশ ওয়েডিং কেক’। এটা ছিল একটা লেমন ড্রিজল কেক, আর এই কেকের স্ট্যান্ড সাজানো ছিল লাল, নীল ও সাদা রংয়ের একটি শাড়ি দিয়ে। একই সঙ্গে মাল্টিকালচারাল এবং সুস্বাদু হওয়ায় কেকটি তাকে বিজয়ীর মর্যাদা এনে দিয়েছে। ১২ বছর বয়স থেকেই বেকিং করে আসছেন নাদিয়া। পুরো প্রতিযোগিতায়ই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে এসেছেন। ফাইনালে তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী। বিজয়ী ঘোষণার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। তার কান্না দেখে আবেগী হয়ে পড়েন এই প্রতিযোগিতার নির্বাচক মেরি বেরি পর্যন্ত। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রিয় প্রতিযোগীও ছিলেন তিনি। সাক্ষাতকারে তিনি আরো বলেন, হিজাব পরলেও তিনি কখনই মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেননি। বরং তার মাথায় সর্বক্ষণ ছিল বেকিংয়ের চিন্তা।

রেডিও টাইমসকে বক্তব্য দেয়ার সময়ে নাদিয়া জানান, অন্যান্য ব্রিটিশ নাগরিকের মতো তাকে একই চোখে না দেখতে পারলেও তিনি যে তাদের মতোই বেকিং করতে পারেন, এটা যেন মানুষ বুঝতে পারে সেই আশাই করেন তিনি। এই কেক তিনি উৎসর্গ করেন নিজের স্বামীকে, যার প্রিয় কেক এই লেমন ড্রিজল। প্রতিযোগিতার শেষে এই কেক নিজের পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করেন তিনি।

অপরাজিতা ডেস্ক