২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কবিতা

  • হাসান হাফিজের ৩টি কবিতা

আঁধার গাঙের নীলজোনাকি

দূরের কোনো সীমানা, ঘোর

কিংবা ছায়া, রৌদ্রজ্বালা

তপ্ত জটিল দুপুরবেলায়

হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরছি

কিন্তু তোমায় পাচ্ছি না হে।

শুধু শুধুই লুকিয়ে আছো

এই লুকানো নিষ্প্রয়োজন,

ব্যাপারটা তো ভালোই জানো

ধরা তোমায় পড়তে হবেই।

মুঠোর মধ্যে তোমায় পুরে

আদর সোহাগ অন্ধ ¯েœহ

কামতাড়িত আলিঙ্গনের

সম্ভোগেরও সজল সুধা

পান করবো তোমায় আমি

যখন তুমি পড়বে ধরা।

তুমি একটা নীল জোনাকি

আঁধার-গাঙে সাঁতার কাটো

কাটতে কাটতে সায়াহ্নকাল

কখন এসে হাজির হবে

তোমার আমার নাই তা জানা!

এই পলাতক নির্বাসনের

মজা আহ্লাদ কিচ্ছুুটি নেই।

তুমিই আমার ইচ্ছে কোরক

অম্লমধুর প্রজ্ঞা শীতল

আঁধারি ঘর অন্ধকারের

ঝিলিক দেয়া সোনার চাবি

কিংবা আমার আয়না তুমি

ফোটাও গভীর মুখচ্ছবি

তুমিই আমার আগুন পাখি

জীবন পোড়ায় ইচ্ছেডানা

ওই আকাশে তোমায় থুয়ে

নিরুদ্বিগ্ন বই কী করে?

তুমিই আমার বাঞ্ছিতা রাত

জীবনতৃষ্ণা অনন্ত জেদ

ভালোবাসার সোনার খাঁচায়

জীবন তোকে পুষছি আমি

কখন দিবি ফুড়ুৎ উড়াল

একটু জানান দিস রে আগে

তৈরি হওয়ার সময় পাবো

চাষ গোটাবো দীর্ঘশ্বাসের।

বিসর্জন ॥ নীরবে নিঝুম

তাচ্ছিল্যে ও অবহেলে ধুলোয় ফেলেছি,

তোমাকে নিক্ষিপ্ত করে আত্মগর্বে

উদ্ভাসিত হয়েছি নিলাজ,

নিজেকেই পরিত্যক্ত করেছি অজ্ঞাতে,

মূর্খ বলে এ পতন বুঝতে পারিনি।

রমণী, জীবন, প্রেম, স্বার্থবুদ্ধি, জাগতিক

সম্পদ-সমীহ, সব, সব কিছু

উপেক্ষায় পরিত্যাগ কী আশ্চর্য করেছি নীরব!

নির্বিঘœ বিস্তার

রাত্রিও তো হিং¯্র কম নয়

রয়েছে রোমশ থাবা, কেড়ে নেয় ঘুম।

বলে জেগে থাকো, গোনো কড়িকাঠ।

আন্ধারের সঙ্গে আছে নিষিদ্ধ আঁতাত

পাপচিন্তা ঢুকে পড়ে মগজের কোষে,

ঢুকে গিয়ে তৎক্ষণাৎই সক্রিয় তৎপর হয়,

ডানা মেলে ইতিউতি চারিদিকে শেকড় ছড়ায়

গ্রাস করে সবকিছু, টের পায় না ভিন্ন কেউ

এইভাবে রাত্রি গড়ে সা¤্রাজ্য সংসার

আধিপত্য বিস্তারের কোনোরূপ বাধা বিঘœ নাই!

হিংসুটে

গোলাম কিবরিয়া পিনু

তার সুখস্বপ্ন ভেঙে দিই

তাকে আলুথালু করি

অপমান করে এক শানকি ভাত দিই!

সংক্রামক রোগজীবাণু ছড়িয়ে দিয়ে

হাসপাতালের সজ্জায় নিয়ে যাই

জট পাকানো অবস্থায় সবসময়ে করুক হাইপাই!

প্রতারিত হোক-

সম্মানের পদ থেকে অপসারণ করে

ময়লা মোছার কাপড় দেই পরতে-

নড়তে যেন না পারে যেখানে সেখানে,

তার বন উজাড় করি-

সে বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ুক

তার আকার ও আকৃতি বিকৃত হোক

বিবাদ-বিরোধে জড়িয়ে পড়ে

সে নানা অংশে বিভক্ত হয়ে

আরও খ-িত হোক।

শুধুই পেটের অসুখে নয়-

অরাজক হয়ে উঠুক তার প্রতিমুহূর্ত

দুর্দশা যেন আর মেরামত না করতে পারে-

জলক্রীড়া বা সূর্যাবগাহনের কোনো সুযোগ

আর কখনো না থাকে-

এমনই হিংসুটে হয়ে পড়ি আমি।

রবীন্দ্রনাথের খোঁজে

রেজাউদ্দিন স্টালিন

শীতের শেষে এক সকালে

ধীরাগ্রহে দেখতে যাবো রবীন্দ্রনাথ

সঙ্গীসাথি চললো সবাই নিকেতনে

যেখানে খুব শান্তি এবং বৃক্ষবাদল ঐক্যবদ্ধ

গাড়ির গতি বদল করে

উত্তেজনা ছড়িয়ে গেলো দিগদিগন্তে

গুরুদেবের শান্তিরাজ্যে প্রজারা কই

রামকিংকর বেজের কাছে জানতে চাইলে

দেখিয়ে দেন

সাঁওতালদের মুখচ্ছবি অনন্তকাল

আর কিছু লোক ভিড়লো কাছে দেখিয়ে দেবে রবীন্দ্রনাথ

তাদের কথায় কান দিয়ে উদ্যোগী হই একলা চলার

পথে পথে ছড়িয়ে আছে যেসব নারী

আর পুরুষের উস্কোখুস্কো মুখ

তাদের কাছে জানতে চাইলে অনাগ্রহে বললো :

বাপু কদিন হলো রবীবাবুর মন বিষণœ

শুকিয়ে কাঠ ছাতিমতলা

খুব দামি সেই মেডেলখানা কে নিয়েছে

কেউ জানে না

এখন তিনি জোড়াসাঁকোর লাইব্রেরিতে

পাঠ করবেন ভারতবর্ষ

তার নিমিত্ত চলছে ভীষণ বাঁধাছাদা

এবার হয়তো রবীবাবুর সাক্ষাৎলাভ দুরূহ বেশ

বড় বড় সাহেবরা খুব আসছে যাচ্ছে

আপনি বরং আগামীবার দুশো বছর পূর্তি হলে

বেড়িয়ে যাবেন

নির্বাচিত সংবাদ