২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্যা গবেষণায় কৃত্রিম ঢেউ

  • মু. আব্দুল্লাহ আলআমিন

বন্যা ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষ এখনও অসহায়। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকুতিকে জয় করার চেস্টা বিজ্ঞানীদের নিরন্তর। তারই অংশ হিসেবে বন্যা ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলায় কৃতিত্বের সাক্ষর রাখলেন নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা। সাগরের বড় ঢেউ যখন আমাদের বাঁধগুলোয় আছড়ে পড়ে তখন তার ক্ষতি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি কেমন হতে পারে, এ থেকে তার কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ডেল্টা ফ্লিউম, ডেল্টারেস ইনস্টিটিউটের গবেষকদের তিন বছরের প্রচেষ্টার ফসল এ যন্ত্র। এর সাহায্যে ৩শ’ মিটার দীর্ঘ সাড়ে ৯ মিটার গভীর একটি চ্যানেলে ৫ মিটার উঁচু ঢেউ তৈরি করা সম্ভব। চ্যানেলের এক প্রান্তে ঢেউ উৎপাদনকারী যন্ত্রটি বসানো হয়েছে। এটি মূলত একটি দেয়ালের মতো জিনিস, যা এগিয়ে গিয়ে ও পিছিয়ে এসে ঢেউ তৈরি করে থাকে। প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত একজন বিশেষজ্ঞ যন্ত্রটির কার্যকারিতার পদ্ধতি সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন। বাস হফল্যান্ড নামে উপকূলীয় বাঁধ বিশেষজ্ঞ জানান যে, নেদারল্যান্ডসে বন্যার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা তাদের এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সম্প্রতি তারা একটি যন্ত্র তৈরির পর তার পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছেন। যন্ত্রটি দিয়ে ৫ মিটার উঁচু ঢেউ তৈরি করে এর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কৃত্রিমভাবে ঢেউ তৈরির এটিই এ যাবতকালের বিশ্ব রেকর্ড। মানবসৃষ্ট সবচেয়ে বড় আকারের এই ঢেউ দিয়ে প্রকৃতির বৈরিতা মোকাবেলায় কোন উপায় বের করা সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন।

৭ মিটার উঁচু প্রাচীরসদৃশ ধাতব বোর্ডটির পেছনে রয়েছে চারটি শক্তিশালী পিস্টন। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো (২ কোটি ২৯ লাখ ডলার)। মহাসাগরীয় শক্তি কাজে লাগিয়ে সুনামির মতো অবস্থা তৈরি বন্যানিয়ন্ত্রণে উন্নত কৌশল বের করাই এর উদ্দেশ্য।

নেদারল্যান্ডসের ৩ কিলোমিটার বন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কাজ করবে ডেল্টা ফ্লিউম ঢেউ উৎপাদক যন্ত্রটি। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান এমন জায়গায় যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠ মানুষের জীবন মরণের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ দেশটির অবস্থান সমুদ্রতল থেকে নিচে। সাগরে পানির উচ্চতা একটু বেড়ে গেলেই সেখানে বন্যা হয়। ১৯৫৩ সালের ভয়াবহ বন্যায় নেদারল্যান্ডসে ১ হাজার ৮শ’ লোক মারা যায়। সেই থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও উপকূল রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশটির গবেষকরা কাজ করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য দেশটির ডেল্টারেস গবেষণা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি দুনিয়া জোড়া। এই গবেষণাগারেই যন্ত্রটি রাখা হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ৩শ’ মিটার (১ হাজার ফুট), প্রস্থ ৫ মিটার (১৬ ফুট) ও উচ্চতা ১০ মিটার (৩০ ফুট)। এর পানি ধারণ ক্ষমতা ৯০ লাখ লিটার। ১০ মিটার উঁচু বিশাল ধাতব পাত ধাক্কা দিয়ে পানির মধ্যে ঢেউ তৈরি করা হয়। ডেলারেস ছাড়াও জাপানের পোর্ট এ্যান্ড এয়ারপোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট সুনামি গবেষণার জন্য কৃত্রিমভাবে সাগরের ঢেউ তৈরি করেছে।