২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্যোগ সতর্কতার বিকল্প নেই ॥ আরোফিন সিদ্দিক

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, দুর্যোগ সতর্কতার কোন বিকল্প নেই। ১৫ অক্টোবরের শোকদিবস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শোকদিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলের একটি আবাসিক ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং মর্মান্তিক ওই ঘটনায় ছাত্র, কর্মচারী এবং অতিথিসহ মোট ৩৯ জন প্রাণ হারায়। এরপর থেকেই প্রতিবছর দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

এসময় উপাচার্য আরও বলেন, ১৫ অক্টোবরে যেন আমরা বিস্মৃত না হই। এই শোক দিবস আমাদের দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যপরায়ণতা, উদারতা এবং মানবিকতার তাগিদ দিয়ে যায়। সচেতনতা সৃষ্টির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই দিবসের তাৎপর্য আমাদের কাছে অত্যন্ত কার্যকর।

আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রকীব উদ্দীন আহমেদ, তৎকালীন আহত ছাত্র উপ-রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সঞ্জীব বিশ্বাস ও মোতাহের হোসেন প্রিন্স, হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া, প্রাক্তন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক ও হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীম সরকার। আলোচনা সভা সঞ্চালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমান।

এদিন সকাল থেকেই নিহতদের স্মরণে বিস্তারিত কর্মসূচী পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সকাল ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল ও প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে সাতটায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোক মিছিল বের করা হয়। এতে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। তারা জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করেন।

এছাড়া শোক দিবস উপলক্ষে উপাসনালয় ও মসজিদসমূহে প্রার্থনা সভা ও নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত, নিহতদের তৈলচিত্র ও তৎসম্পর্কিত দ্রব্যাদি প্রদর্শন, রক্তদান কর্মসূচী, সন্ধ্যায় জগন্নাথ হল উপাসনালয়ে ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান (শোক সঙ্গীত ও কবিতা আবৃত্তি) অনুষ্ঠিত হয়। শোক দিবস উপলক্ষে একটি স্মারক সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে।