২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি

  • টিআইবির সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবেম্বর মাসে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটি বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্যা আর্থ পুরস্কার পাওয়ায় আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তাই সম্মেলনে ‘সাধারণ কিন্তু স্ব-স্ব সক্ষমতা, ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বশীলতা’ নীতির ভিত্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমিত রাখার দাবি উত্থাপনে বাংলাদেশকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানম-িতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আগামী ৩০ নবেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ১৯০টিরও বেশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কপ-২১ সামনে রেখে টিআইবি এ সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে প্যারিস সম্মেলন ঘিরে টিআইবির নেয়া অবস্থানপত্র তুলে ধরেন সংগঠনটির জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন (সিএফজি) বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মু জাকির হোসেন খান। বক্তব্য দেন টিআইবির উপ-নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া খায়ের। প্যারিস সম্মেলনে টিআইবির প্রতিনিধি হিসেবে জাকির হোসেন খান ও সুমাইয়া খায়ের যোগদান করবেন। লিখিত অবস্থানপত্রে টিআইবি জলবায়ু অর্থায়নে শিল্পোন্নত দেশের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং তহবিল ব্যবহারে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সকল দেশের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

টিআইবির অন্যান্য দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদানে উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে আইনী বাধ্যবাধকতা সংবলিত আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করা, ঋণের পরিবর্তে উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ ও ‘নতুন’ অনুদানকে অন্তর্ভুক্ত করে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণ, জলবায়ু অর্থায়নের পথ নক্সা প্রণয়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনার সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দারিদ্র্য বিমোচনে প্রয়োজনীয় তহবিলের বরাদ্দ অব্যাহত রাখা, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) ও অন্যান্য উৎস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে তহবিল প্রদানে অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উন্নত দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্ধারণ করেছে। সেখানে তারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিজেরা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। রামপাল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুত কেন্দ্র তেমনই প্রকল্প। আবার জাপান মাতারবাড়ি বিদ্যুত কেন্দ্রে তাদের বিনিয়োগকে জলবায়ু তহবিলের ঋণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টাও করেছে বলে অভিযোগ জানান ইফতেখারুজ্জামান।

নির্বাচিত সংবাদ