১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাত বাড়ালে দেশে আর ভাতের অভাব হয় না ॥ কৃষিমন্ত্রী

হাত বাড়ালে দেশে আর ভাতের অভাব হয় না ॥ কৃষিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরি বলেছেন, এখন হাত বাড়ালে ভাতের অভাব হয় না। বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের প্রতি মমতা নিয়ে কাজ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। মমত্ববোধ দিয়ে জনগণকে সঠিকভাবে ব্যবহার ও পরিচালনা করায় দেশে আজ কিছুটা হলেও খাদ্য উদ্বৃত্ব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০১৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি’। এর আগে তিনি খাদ্য মেলার উদ্ভোদন ও স্টল পরিদর্শন করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমশক্তির অর্ধেক এখনো কৃষিতে নিয়োজিত। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের প্রাক্কলিত জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। দেশের জিডিপিতে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরেই ৬ শতাংশের ওপর রয়েছে। কারণ দেশে খাদ্য উৎপাদন ভালো, খাদ্যের দাম কম ছিল, মানুষের পেটে ক্ষুধা ছিল না। এ কারণে ৯২ দিন জ্বালাও-পোড়াও করেও মানুষের মধ্যে কোন সাড়া ফেলতে পারে নি।

তিনি আরও বলেন, ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, দেশে ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। ৯৮ সালে দেশে বন্যা হয়, তারপর বিবিসি পূর্বাভাসে বলেছিল দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিবে, দুই কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। কিন্তু জোর দিয়ে বলতে পারি দুই কোটি মানুষ কেন, ২০ পিঁপড়াও না খেয়ে মারা যায় নি। ২০০৯ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, তখনো ২৬ লাখ টন খাদ্যঘাটতি ছিল। এখন আমরা ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শ্রীলঙ্কায় চাল রফতানি করছি। নেপালে ভূমিকম্পের সময় চাল সহায়তা দিতে পেরেছি। এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের কৃষি ও কৃষকের প্রতি মমতা থাকার কারণে।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা বলতে সমাজে কোন অস্থিরতা না থাকা, মানুষ পেট ভরে খেতে পারার অবস্থাকে বুঝায়। সেটার শুরু কিন্তু কৃষি দিয়েই। পেটে যদি খুধা থাকে সে মানুষ বিপ্লব করবে, এক সময় সে সমাজের আতঙ্ক হয়ে দাড়ায়। যে স্থানে খাবারে অভাব রয়েছে সেখানে কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এদেশের মানুষ জেনে গেছে, হাত নাড়ালে দেশে ভাতের অভাব নেই। শেখ হাসিনার সরকারে শুরুর সময়ে দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল; কিন্তু তিনি মমত্ববোধ দিয়ে জনগণকে সঠিকভাবে ব্যবহার ও পরিকল্পনা করেছেন। ফলে দেশে এখন কিছুটা হলেও খাদ্য উদ্বৃত্ব রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের ৮০ ভাগ মানুষ এখনও কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পৃথিবীর মোট ৫ শতাংশ চাল উৎপাদন করে বাংলাদেশ। গত চার দশকে দ্বিগুণ মানুষ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও দেশে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ। মানুষের গড় আয়ু ৩৮ থেকে বেড়ে ৭০.৩ বছরে উন্নিত হয়েছে। গত ৭ বছরে দেশে কোন সময় ৬ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি ছিলো না। দেশে দারিদ্রতার হার কমেছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে কেবল কৃষির কারণে। এসময় তিনি আরও বলেন, কৃষিবান্ধব বাংলাদেশের সকল অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কৃষি আলাদাভাবে গুরুত্ব পাবে, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন হবে।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামসুদ্দীন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মকবুণ হোসেন এমপি, এফএও বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন প্রমুখ।