২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাকার ফাঁসি হলে কোন কর্মসূচী দেবে না বিএনপি

  • সমালোচনা এড়াতে কৌশলী থাকার নির্দেশ

শরীফুল ইসলাম ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে (সাকা) নিয়ে কৌশলী অবস্থানে বিএনপি। তার ফাঁসির রায় কার্যকর হলেও প্রতিবাদে কোন কর্মসূচী ঘোষণা করবে না বিএনপি। তবে পরোক্ষভাবে এ রায়ের বিরোধিতা করবে দলটি।

জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি ঠেকাতে পরিবারের সদস্যরা নানামুখী তৎপরতা চালালেও দলের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের সরাসরি কোন সহযোগিতা করা হচ্ছে না। বরং নীরব রয়েছেন সাকার এক সময়ের একান্ত অনুসারীরাও। এ নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা দলের নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষুব্দ। এদিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় ঠেকাতে নানামুখী তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ৫ বিশিষ্ট নাগরিক ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। তবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি ঠেকানোর কোন সম্ভাবনা না থাকলেও তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাবাকে বাঁচাতে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তারা।

বিএনপি সূত্র জানায়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর হলে দলের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচী পালনের নির্দেশ নেই। তবে এর আগে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর পরোক্ষভাবে যেভাবে প্রতিবাদ করা হয়েছে এবারও সেভাবেই দলের প্রতিক্রিয়া দেয়া হবে। অপর একটি সূত্র জানায়, দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হওয়ায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রতি বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহানুভূতি থাকলেও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মহলের সমালোচনা এড়াতে দলের হাইকমান্ড সবাইকে কৌশলী অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করছেন।

স্বাধীনতার আগে মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সাকা চৌধুরী পরে এনডিপি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এক পর্যায়ে এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন তিনি। এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর তিনি এ দলের পাশাপাশি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গেও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকায় তিনি সব সময় জামায়াতের সুবিধা হয় এমন কৌশল নিতেন। এ কারণে জামায়াতও তাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করত। একজন মানবতাবিরোধী অপরাধী হয়েও তিনি সব সময় দাম্ভিকতা নিয়ে কথা বলতেন। স্বাধীন দেশের মাটিতেও তিনি নিজেকে রাজাকার পরিবারের সন্তান পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনদের তিনি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন। এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েও তিনি বিভিন্ন সময় অশালীন কথা বলে সমালোচনার পাত্র হন।

জানা যায়, সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ ফাঁসির দ-প্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় বহাল রাখায় তার নিজ জেলা চট্টগ্রামের মানুষ খুবই খুশি। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি তার নির্বাচনী এলাকা রাউজানের মানুষ। চট্টগ্রামসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সারাদেশের মানুষ অবিলম্বে এ রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা সাকার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানানোর পাশাপাশি তার চট্টগ্রাম শহরের বাসভবন গুডস হিলে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করারও দাবি জানান।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা ও শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অংশ নেয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তার বাসভবন গুডস হিলেও সালাউদ্দিন কাদেরের বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন। এছাড়া একাত্তর পরবর্তী সময়েও সাকা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তার বিচারের দাবিতে চট্টগ্রাম থেকে প্রথম যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবি তুলেছিলেন নগর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাকার নিজ গ্রাম গহিড়ার অধিবাসী এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এর পর থেকে অনেকেই এ দাবি নিয়ে সোচ্চার হন।

২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাকা চৌধুরীকে হরতালে গাড়ি ভাংচুরসহ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয় ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি? তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার বিরুদ্ধে মোট ২৩টি অভিযোগের বিচার শুরু হয়? পরে তার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ওই রায়ের সময় সাকার দল বিএনপি পরোক্ষভাবে এ রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে।