২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার বাসযোগ্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় আসছে রাজধানী

এবার বাসযোগ্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় আসছে রাজধানী
  • বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে ঢাকা ওয়াসা

ফিরোজ মান্না ॥ নগরবাসীকে বাসযোগ্য রাখতে ‘স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকা ওয়াসা ও মালয়েশিয়ার জুরুতেরা পেরানডিং জাবা এসডিএম. বিএইচডি (জেপিজেড) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পে ফরহাত কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স এ্যান্ড আর্কিটেক্টস ও এসএআরএম এ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড কারিগরি সহযোগিতা দেবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে দাতা সংস্থার সঙ্গে ওয়াসার কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়।

ওয়াসা সূত্র জানায়, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন খাতে ঢাকা ওয়াসা গত কয়েক বছরে রাজধানীবাসীর চাহিদা পূরণে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ঢাকা ওয়াসা কার্যকর কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নগরবাসী এর সুফল পাচ্ছে। ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানটি কাজ শেষ হলে ঢাকাবাসী আরও সুযোগ-সুবিধা পাবেন। শুরুতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছিল। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এটির গুরুত্ব বিবেচনা করে অনুমোদন দিয়েছে। ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজধানীকে এক শ’ ভাগ ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ কাভারেজের আওতায় আনার লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে। বর্তমানে নগরীতে শতকরা ৩০ ভাগ এলাকা স্যুয়ারেজ কাভারেজের আওতায় রয়েছে। এ মাস্টার প্ল্যানের আওতায় ঢাকা ওয়াসা সার্ভিস এরিয়া প্রায় ৪ শ’ বর্গকিলোমিটার। রাজউকের ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের (ডিএমডিপি) মোট ১৫২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের আওতায় নেয়া হবে। ডিএমপির আওতায় প্রায় ৩২ মিলিয়ন জনগোষ্ঠী বসবাস করেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ড্রেনেজ সেবার আওতায় আনা হবে। ঢাকা শহরকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ সেবা নিশ্চিত করার কাজ চলবে। আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজউকের ডিএমডিপি এরিয়া অর্থাৎ ১ হাজার ৫২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা সামনে রেখে এ মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। মাস্টার প্ল্যান প্রথম পর্যায়ে পাগলা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে আধুনিকায়ন করে শোধন ক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ঘনমিটারে উন্নীত করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৫ সালের মধ্যে দাশেরকান্দি, উত্তরা, মিরপুর, রায়েরবাজার এবং নারায়ণগঞ্জ পূর্ব ও নারায়ণগঞ্জ পশ্চিমে আলাদা আলাদা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করা হবে। আর তৃতীয় পর্যায়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে সাভার, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, পূর্বাচল ও গাজীপুরে আলাদা আলাদা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।

সূত্র মতে, ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই এ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহর বৃষ্টি বা বন্যার পানি নিষ্কাশনে পাম্প স্থাপন, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, খাল পুনরুদ্ধার ও এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষের পুনর্বাসন এবং ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। ঢাকা মহানগরে ওয়াসার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে ২৯০ কিলোমিটার এলাকায়। এই ড্রেনেজ লাইন ঘণ্টায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি ধারণ করতে পারে। এর মধ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পানি নিষ্কাশনের লাইন রয়েছে মাত্র ১৬০ কিলোমিটার এলাকায়। ঢাকা ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানির নর্দমা লাইন ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ডিসিসি ভূউপরিস্থ (সারফেস ড্রেন) প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগের বেশি ড্রেন নানা কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী। ওয়াসার ড্রেনগুলোর চিত্রও এখন বেহাল। সব কিছু মিলেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে।

জানা গেছে, নিরাপদ পানি ও ড্রেনেজ এবং স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা না গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকা বসবাসের উপযুক্ততা হারাবে। যে হারে নগরায়ন হচ্ছে সেই হারে নিরাপদ পানি, ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ সুবিধা বাড়েনি। এসব খাতে বর্তমানে দাতা সংস্থাগুলো টাকা দিলেও ভবিষ্যতে টাকা নাও দিতে পারে; তখন সরকারকেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে দাতা সংস্থা অর্থ সহযোগিতা দিচ্ছে। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ও নানা ধরনের কারিগরি সুবিধাও দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের অনুমতি দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেবে।