২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রাম বন্দর এনসিটি চালু হচ্ছে আজ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ বিতর্কের মধ্যেই অবশেষে আজ শনিবার চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের (এনসিটি) অপারেশনাল কার্যক্রম। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করবেন। এদিকে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল অপারেশনের ক্ষেত্রে আইনী জটিলতা এখনও কাটেনি। এক্ষেত্রে আদালতের আদেশ উপেক্ষা এবং সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে দায়ের হওয়া দুটি মামলার একটিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর আদালত অবমাননা বিষয়ক মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ নবেম্বর।

এনসিটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা উন্নীত হবে প্রায় দ্বিগুণে। এনসিটির মোট ৫টি বার্থের মধ্যে একটি বার্থ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে পানগাঁও কন্টেনার টার্মিনালের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য। বাকি চারটি বার্থে অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আজ শনিবার এনসিটির এই চারটি বার্থে কন্টেনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বহুল আলোচিত এনসিটির অপারেশনাল কর্মকা- উদ্বোধন করবেন। এ সময় উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য এমএ লতিফ এমপি এবং বার্থ পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ।

চট্টগ্রাম বন্দর এনসিটির ২ ও ৩ এবং ৪ ও ৫ নম্বর বার্থে অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। মন্ত্রিসভার ক্রয় কমিটি এড়াতে একসঙ্গে দরপত্র আহ্বান না করে চারটি বাার্থকে দু’ভাগে ভাগ করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে ক্রয় কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হওয়ায় এই ব্যবস্থা। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করে মেসার্স কন্টেনার টার্মিনাল সার্ভিসেস (সিটিএস) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রেক্ষিতে ১৫ অক্টোবর বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ইজহারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে রুলনিশি জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর।

অপরদিকে, জনস্বার্থে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন এ্যাডভোকেট রিদোয়ান আহমেদ। এতে তিনি ৪ ও ৫ নম্বর বার্থে আপীল বিভাগের আদেশ লঙ্ঘন করে পছন্দের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনেন। আদালত এনসিটিতে অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ প্রদান করেছিল। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ২৫ তারিখের মধ্যেই অপারেটর নিয়োগ সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে। এ অবস্থায় আদালত অবমাননা হয়েছে অভিযোগ আনেন এ্যাডভোকেট রিদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি অপারেটর নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চান। চেম্বার জজ বিচারপতি ইমান আলী আগামী ৫ নবেম্বর হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চে আবেদনটির শুনানির দিন ধার্য করেছেন।