২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রয় চুক্তি থেকে ইউনিটে ২৮ পয়সা কমানোয় আরপিসিএলের ক্ষোভ

  • সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিদ্যুত বিভাগে চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিদ্যুতের ক্রয় চুক্তি থেকে ইউনিটপ্রতি ২৮ পয়সা কমিয়ে দাম পুনঃনির্ধারণ করায় রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) কর্তৃপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিদ্যুত কোম্পানিটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে রুগ্ন করতে এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। আরপিসিএল এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিদ্যুত বিভাগে চিঠি দিয়েছে। ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে আরপিসিএলের ২১০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত কেন্দ্রটির ক্রয় চুক্তিতে দুই টাকা ২৫ পয়সার স্থলে এখন নতুন দাম হিসেবে প্রতিইউনিটের দর এক টাকা ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে পিপিএতে সময়ে সময়ে রিভিউ করার প্রভিশন থাকার সুযোগে এমনটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে আরপিসিএল। একই সঙ্গে মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়ায় বিদেশী মুদ্রা প্রদানের পন্থা বিলোপ করে বাংলাদেশী টাকায় মূল্য পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। একদিকে ইউনিটপ্রতি ২৮ পয়সা দর কমে যাওয়া অন্যদিকে ডলারের দামের হেরফেরে বিদ্যুত কেন্দ্রটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসচালিত বিদ্যুত কেন্দ্রে প্রতিইউনিট বিদ্যুতে এই পরিমাণ লাভ করা যায় না। যা সামগ্রিকভাবে আরপিসিএলকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আরপিসিএল যে চিঠি দিয়েছে তাতে বলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তাদের। দেশীয় একটি কোম্পানি আর্থিকভাবে সচ্ছল হলে নতুন করে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে। কিন্তু এর বিপরীতে উল্টো কোম্পানিটি রুগ্ন হলে তা পরিচালনা করাই দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে। আরপিসিএল বলছে, বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আরপিসিএলের অবস্থা বিবেচনা করে বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা জরুরী।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দেশের বিদ্যুত কোম্পানিগুলোকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে বেসরকারী বিদ্যুতকেন্দ্র যে সকল সুবিধা ভোগ করে তা সরকারী কোম্পানিকে দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারী কোম্পানিগুলোকে আর্থিকভাবে ভাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। যাতে তারা নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে। এর বাইরেও বেসরকারী বিদ্যুতকেন্দ্র বীমা সুবিধা ছাড়ও অন্যান্য যে পদ্ধতি অনুসরণ করে তা সরকারী বিদ্যুতকেন্দ্রেও অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হবে।

বিদ্যুতকেন্দ্রটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোন কোন মাসে দেখা যাচ্ছে আমাদের উৎপাদন খরচ এক টাকা ৯২ পয়সা হচ্ছে। আবার এমনও সময় রয়েছে যেখানে আমাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দুই টাকা ৭১ পয়সা হচ্ছে। এসব হিসেবের গড় করলে এক টাকা ৯৭ পয়সা দরে লভ্যাংশের পরিমাণ খুব কমে যাচ্ছে। যাতে প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে সে বিষয়ে সরকারের সুনজর প্রত্যাশা করছে আরপিসিএল। এর মাধ্যমে দেশীয় কোম্পানি লাভ করলে নতুন বিদ্যুত প্রকল্পও নির্মাণ করা যাবে। যাতে সামগ্রিকভাবে দেশের কল্যাণ হবে বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।

আরপিসিএল সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে মন্ত্রণালয়ের এক সভায় পিডিবির নিকট আরপিসিএলের পাওনার পরিমাণ নির্ধারণে অত্যধিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য চার সদস্যর একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। তখন থেকেই আরপিসিএলের উৎপাদিত বিদ্যুতকেন্দ্রটির মূল্যহার একবারে অনেকটা কমিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে পিডিবি। আরপিসিএল তাদের চিঠিতে অভিযোগ করছে গঠিত কমিটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুতকেন্দ্রটির স্থাপিত ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেয়। বিদ্যুতকেন্দ্রটি হ্রাসকৃত ক্ষমতায় (ডিরেটেড ক্যাপাসিটি) প্রতিদিন কি পরিমাণ বিদ্যুত উৎপাদন করতে পারে তা বিবেচনায় নেয়নি। যাতে করে হিসেবে গরমিল ছিল।

আরপিসিএলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারী বিদ্যুত কোম্পানিগুলো পিডিবির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়, কেবলমাত্র আরপিসিএল পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন। সঙ্গত কারণে আরপিসিএল পরিচালিত বিদ্যুতকেন্দ্রের প্রতি সুনজর নেই পিডিবির।

আরপিসিএল সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ে ট্যারিফ লেবেলাইজড করার জন্য কোম্পানিটি চিঠি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ পিডিবিকে নির্দেশ দিয়েছে আরপিসিএলের বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোর ট্যারিফ বাস্তবতার প্রেক্ষিতে নির্ধারণ করতে।

সূত্র বলছে, ১৯৯৯ সালে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি সর্বপ্রথম বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং এর আওতাধীন পল্লীবিদ্যুত সমিতির অর্থায়ন এবং এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তায় ৩৫ মেগাওয়াট করে দুটি গ্যাস টারবাইন বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ করে। পরের বছর দ্বিতীয় পর্যায়ে একই ক্ষমতার আরও দুটি ইউনিট স্থাপন করে কোম্পানিটি। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়নবোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে কোম্পানিটি পাওয়ার পারচেস এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) স্বাক্ষর করে। পরবর্তী পর্যায়ে তৃতীয় ধাপে বিআরইবি এবং সমিতিগুলোর অর্থায়নে আরও ৭০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে আরপিসিএল ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কম্ভাইন্ড সাইকেল বিদ্যুতকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়। পরে ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ পিডিবি আরপিসিএলের সঙ্গে পিপিএ স্বাক্ষর করে।

এখন এই কেন্দ্র ছাড়াও গাজীপুরের কড্ডা এবং চট্টগ্রামের রাউজানে আরপিসিএলের বিদ্যুতকেন্দ্র রয়েছে।