১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দীর্ঘমেয়াদী ভিসা বাড়ালে বাংলাদেশীদের ভারত ভ্রমণ আরও বাড়বে

  • দুই সাবেক ভারতীয় কূটনীতিকের অভিমত

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশীদের বৈধ পথে ভারত ভ্রমণ বেড়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ভিসা বাড়ানো হলে বাংলাদেশীদের ভারত বৈধ ভ্রমণ আরও নিশ্চিত হবে। এছাড়া প্রতিবছর ৫ লাখ বাংলাদেশীকে ভিসা দেয় ভারত। ভারতের ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স এ্যান্ড অ্যানালাইসিসের (আইডিএসএ) সাম্প্রতিক প্রকাশিত এক নিবন্ধে এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন ভারতের কূটনীতিকরা।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সাবেক দুই কর্মকর্তা সন্দ্বীপ চক্রবর্তী ও সুমিত চতুর্বেদীর যৌথভাবে ‘ভিসা : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যেভাবে হতে পারে’-শীর্ষক ওই নিবন্ধে ভিসা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়েছে। তবে তাদের এই মতামত ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় এই দুই কূটনীতিক বলেছেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদী ভিসা দেয়া হলে জালিয়াতি ও অবৈধ অভিবাসন সমস্যার সমাধান হবে। তবে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেয়ার ফলে আবেদন প্রক্রিয়ায় চাপ কমেছে। এটা অবৈধ ভ্রমণ ঠেকাতে সহায়ক হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী ভিসা ব্যবস্থা প্রসারিত করা হলে ভিসার যোগানের ঘাটতি মোকাবেলা ও একই পাসপোর্টধারীর বারবার আবেদনের চাপ কমানো সম্ভব হবে। আর ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদী ভিসার হার ২-৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে বৈধভাবে ভ্রমণ বেড়েছে। এমনকি বিমানযোগে যাতায়াতের হারও বেড়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সন্দ্বীপ মিত্র গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, ভারতে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশীদের ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে। ভারতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের ৯ ক্যাটাগরির প্রতিটি ভিসা ব্যবস্থাই আগের চেয়ে অনেক সহজ করা হয়েছে। যার ফলে সহজেই ভিসা নিয়ে বাংলাদেশীরা ভারতে ভ্রমণ, চিকিৎসাসহ যাতায়াত করতে পারছেন। আগামীতে ভিসা ব্যবস্থা আরও সহজ করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে তিনটি আবেদন কেন্দ্র খোলার পর বাংলাদেশে মোট দশটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু হয়েছে। এখন ঢাকার গুলশান, মতিঝিল, ধানম-ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর পাশাপাশি ময়মনসিংহ, বরিশাল ও রংপুর থেকেও ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে।

ভারতের ভিসা নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলোতে প্রতিবছর পাঁচ লাখেরও বেশি ভিসা ইস্যু করা হয়। এটি বিশ্বে ভারতীয় যে কোন কূটনৈতিক মিশনে সর্বোচ্চ। উচ্চ হারে ভিসা দেয়া সত্ত্বেও ভিসা সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের চেষ্টা সত্ত্বেও চাহিদার সঙ্গে ভিসার যোগানে তাল মেলানো সম্ভব হচ্ছে না। উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ ব্যবহার করে দালালরা প্রকৃত আবেদনকারীদের সমস্যা সৃষ্টি করছে। দালালরা অনলাইন এ্যাপয়েন্টমেন্ট (ভিসা সাক্ষাতকারের তারিখ নির্ধারণ) কালোবাজারি করছে। এই অস্বাভাবিক ঘাটতি ভারতীয় মিশনগুলো সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবনা সৃষ্টি করছে। ভারতীয় এই দুই কূটনীতিকের নিবন্ধেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলেছেন, বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা প্রত্যাশীরা প্রায়ই মনে করেন যে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর সঙ্গে ওই দালালদের সম্পর্ক আছে এবং সাক্ষাতের জন্য সময় বরাদ্দ না পাওয়ার সঙ্কটটি ইচ্ছা করেই সৃষ্টি করা।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল যুক্তরাজ্য। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে ভারতে বাংলাদেশী পর্যটক যাওয়ার হার ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে যাওয়া পর্যটকদের বড় অংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। সে হিসেবে বাংলাদেশই ভারতের বিদেশী পর্যটকদের সর্ববৃহৎ উৎস।

উল্লেখ্য, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সন্দ্বীপ চক্রবর্তী ঢাকায় ভারতীয় উপ-হাইকমিশনার ছিলেন। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে তিনি পেরুতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসের কর্মকর্তা সুমিত চতুর্বেদী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।