২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশ খাদ্যে স্বয়ম্ভর শুধু নয়, কিছুটা হলেও খাদ্য উদ্বৃত্ত

দেশ খাদ্যে স্বয়ম্ভর শুধু নয়, কিছুটা হলেও খাদ্য উদ্বৃত্ত
  • হাত নাড়ালে দেশে ভাতের অভাব নেই ॥ মতিয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, দেশে হাত নাড়লে ভাতের অভাব নেই। দেশের সর্বক্ষেত্রে খাবারের যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। কেউ একটু চেষ্টা করলেই উপার্জন করে নিজের খাবার যোগাড় করা সম্ভব। বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের প্রতি মমতা নিয়ে কাজ করায় দেশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়, দেশে কিছুটা হলেও খাদ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। মমত্ববোধ নিয়ে জনগণকে সঠিকভাবে ব্যবহার ও পরিচালনা করায় দেশে আজ কিছুটা হলেও খাদ্য উদ্বৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০১৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি’। এর আগে তিনি খাদ্যমেলার উদ্বোধন ও স্টল পরিদর্শন করেন। আগামী রবিবার মেলা শেষ হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমশক্তির অর্ধেক এখনও কৃষিতে নিয়োজিত। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। জিডিপিতে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরেই ৬ শতাংশের উপরে রয়েছে। কারণ খাদ্য উৎপাদন ভাল। তিনি বলেন, ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, দেশে ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। ৯৮ সালে দেশে বন্যা হয়, সে সময় বিবিসি পূর্বাভাসে বলেছিল দেশে খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে, দুই কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। কিন্তু জোর দিয়ে বলতে পারি, দুই কোটি মানুষ তো দূরের কথা, বিশটি পিঁপড়াও না খেয়ে মারা যায়নি। ২০০৮ সালে দেশে টাকা ছিল কিন্তু খাবার ছিল না। শেখ হাসিনার দক্ষ ব্যবস্থাপনা, মমত্ববোধ, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতায় দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন একটু হাত নাড়ালেই খাদ্যের অভাব হয় না। এ অর্জনের মূল কারিগর কৃষক। ২০০৯ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, তখনও ২৬ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করায় শ্রীলঙ্কায় চাল রফতানি করতে পেরেছি। ভূমিকম্পের সময় নেপালে চাল সহায়তা দিতে পেরেছি। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল বর্তমান সরকারের কৃষি ও কৃষকের প্রতি মমতার কারণে।

বিএনপির তিন মাসের আন্দোলনের সমালোচনা করে এ সময় মতিয়া চৌধুরী বলেন, তারা ভেবেছিল ‘উলট পালট করে দে মা, লুটেপুটে খাই’র অবস্থা করবে। মানুষের পেটে খাদ্য ছিল। তারা ৯২ দিন জ্বালাও-পোড়াও করেও কোনকিছু উলট পালট করে দিতে পারেনি। কেননা মানুষের পেটে ভাত ছিল, পরনে কাপড় ছিল; ফলে মানুষ তাদের কথায় প্রাধান্য দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা বলতে সমাজে কোন অস্থিরতা না থাকা, মানুষ পেট ভরে খেতে পারার অবস্থাকে বোঝায়। সেটার শুরু কিন্তু কৃষি দিয়েই। পেটে যদি ক্ষুধা থাকে সে মানুষ বিপ্লব করবে, এক সময় সে সমাজের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। যে স্থানে খাবারের অভাব রয়েছে সেখানে কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ দেশের মানুষ জেনে গেছে, হাত নাড়ালে দেশে ভাতের অভাব নেই। শেখ হাসিনার সরকারের শুরুর সময়ে দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল; কিন্তু তিনি মমত্ববোধ দিয়ে জনগণকে সঠিকভাবে ব্যবহার ও পরিকল্পনা করেছেন। ফলে দেশে এখন কিছুটা হলেও খাদ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের ৮০ ভাগ মানুষ এখনও কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পৃথিবীর মোট ৫ শতাংশ চাল উৎপাদন করে বাংলাদেশ। গত চার দশকে দ্বিগুণ মানুষ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও দেশে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ। মানুষের গড় আয়ু ৩৮ থেকে বেড়ে ৭০.৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। গত সাত বছরে দেশে কোন সময় ৬ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি ছিল না। দেশে দারিদ্র্যর হার কমেছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে কেবল কৃষির জন্য। তিনি আরও বলেন, কৃষিবান্ধব বাংলাদেশের সকল অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কৃষি আলাদাভাবে গুরুত্ব পাবে, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন হবে। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সারাবিশ্ব দারিদ্র্যমুক্ত হবে। আর বাংলাদেশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে তার অনেক আগেই দারিদ্র্যমুক্ত হবে। তখন দুরবিন দিয়ে খুঁজেও বাংলাদেশে গরিব মানুষ পাওয়া যাবে না।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শামসুদ্দীন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন এমপি, এফএও বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন প্রমুখ। এর আগে সকালে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি র‌্যালি বের হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সামনে গিয়ে র‌্যালিটি শেষ হয়।