২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন পার্বত্য জেলায় চলে একে-৪৭ ও ২২ রাইফেলের ব্যবসা

  • আসে চীন থেকে

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ একে-৪৭ ও ২২-এর মতো ভারি অস্ত্রের ব্যবসা চলে তিন পার্বত্য জেলায়। রয়েছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটও। এসব অস্ত্র আসছে মিয়ানমার হয়ে চীন থেকে। আবার টেকনাফ ও কক্সবাজার হয়ে এসব অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গা বা উপজাতিদের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার পার্বত্য জেলা বান্দরবানে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল ও গোলাবারুদসহ গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় বান্দরবান থানায় মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব সেভেন। গ্রেফতারকৃত তিন উপজাতিকে রিমান্ডে নিলেই আরও অস্ত্র সংরক্ষণ বা চালান আমদানির তথ্য পাওয়া যাবে বলে র‌্যাবের ধারণা। তবে থানা পুলিশ র‌্যাবের মামলার ভিত্তিতে আদালত থেকে এসব অস্ত্র ব্যবসায়ীকে রিমান্ডে নিয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এদিকে, শুক্রবার র‌্যাব সেভেনের ফেনী অঞ্চলের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অগ্নেয়াস্ত্রসহ গোলাবারুদ ও অস্ত্র বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে একজনকে। শুক্রবার বিকেলে ফেনী মডেল থানার উকিলপাড়ার পেট্রোবাংলা এলাকার খুরশিদ হোসেন প্রকাশ বোরহানের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব সদস্যরা। ওই বাড়ি থেকে একটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার বিদেশী পিস্তুল, একটি বিদেশী রিভলবার, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এছাড়াও ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ২৯ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন মডেলের চারটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোঃ শাহেদ হোসেন প্রকাশ গনেশ মামুনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় ফেনী থানায় অন্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। মোঃ শাহেদ হোসেন ওরফে গনেশ মামুনের (৩২) বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এদিকে, বান্দরবান জেলার মধ্যমপাড়ার মাস্টার শপিং সেন্টারের সামনে ১৫ অক্টোবর র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এ অভিযানে র‌্যাব তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি বিদেশী পিস্তল ও পাঁচটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। এছাড়াও চার রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং চারটি মোবাইল সেট উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছেÑ বান্দরবানের রুমা বাজার এলাকার লাল পিয়ান থা বোম (৪৮), চুকনাদড়িপাড়া এলাকার বাসু বোম (৪৫) ও নাইক্ষ্যংছড়ি মধ্যম চাকবাজার এলাকার সিনথাওয়াই চাককে (৪৪)।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরা একটি সংঘবদ্ধ অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্র। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভারত, মিয়ানমার, বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে আসছে। এরা বাংলাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ী এবং দেশীয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর নিকট এসব অস্ত্র বিক্রি করে।

র‌্যাবের আরেকটি সূত্র জানায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট ১১১টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এরমধ্যে রয়েছেÑ একে-৪৭ রাইফেল ৩টি, একে-২২ রাইফেল ৯টি, বিদেশী পিস্তল ৩৫টি, রিভলবার ৫টি, দেশীয় তৈরি বন্দুক ১৬টি, এলজি ৮টি, এসবিবিএল ৫টি, থ্রি কোয়ার্টার গান ২টি, ওয়ান শূটারগান ১৭টি, শটগান ৫টি, ডিবিবিএল ১টি, পাইপগান ৫টিসহ মোট ১১২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও মোট ৫৬টি ম্যাগাজিন, ৪ হাজার ৭৮০ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি ও কার্তুজ, ৭৬টি শক্তিশালী তাজা বোমা, ৪২০ কেজি বিস্ফোরক পদার্থ, ২৪টি ককটেল, ১২টি পেট্রোলবোমা এবং ৩০ প্রকার বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে র‌্যাব সেভেনের চীফ লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, ব্যবসার উদ্দেশ্যে এসব ভারি অস্ত্র আনা হয়েছে। ক্রেতা সেজেই এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গত এক বছরে উদ্ধারকৃত অস্ত্র সংরক্ষণ বা মজুদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থানাভিত্তিক উদ্ধার ঘটনায় মামলার পর আসামিসহ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়া হয়। আমাদের কাছে কোন অস্ত্র মজুদ থাকে না।