২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বান্দরবানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

  • অপহৃত পর্যটকের আইডি কার্ড পাওয়া গেছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ১৬ অক্টোবর ॥ বান্দরবানে অপহৃত গাইডসহ দুই পর্যটককে উদ্ধার অভিযানের সময় যৌথবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গ্রেনেড, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে জেলার রুমা উপজেলার তাংজংপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় যৌথবাহিনী ১টি মার্ক টু-এসকে রাইফেল, ১টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ৩টি ম্যাগজিন, ১টি ওয়াকিটকি ও ২০০ রাউন্ড গুলি ও অপহৃত এক পর্যটকের আইডি কার্ড উদ্ধার করে।

আরও জানা গেছে, যৌথবাহিনীর সঙ্গে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি এবং অপহৃত গাইডসহ দুই পর্যটকের কোন সন্ধান মেলেনি। হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা তাও জানা সম্ভব হয়নি।

গত ৩ অক্টোবর জেলার রুমা উপজেলার বগালেকের পরে রাইক্ষ্যং পুকুরপাড়া কাছ থেকে অপহরণের শিকার হন ঢাকার মিরপুরের পর্যটক জাকির মুন্না ও আবদুল্লাহ আল জুবায়ের এবং তাদের গাইড মাংসাই ম্রো। এ সময় অপহরণকারীরা নিজেদের আরকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) পরিচয় দিয়ে অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। জেলায় পর্যটন শিল্প বিকাশের পর পর্যটক অপহরণের ঘটনা এই প্রথম হওয়ায় জেলার প্রশাসন জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এই ব্যাপারে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, সেনা কর্তৃপক্ষ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি এখনও আমাদের জানায়নি, তাই আমরা বিশেষ কিছু বলতে পারছি না।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্দরবান জেলা শহরের মধ্যমপাড়ায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ৩টি একে ৪৭ রাইফেল, ২টি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন, ৪টি মোবাইলসহ তিন অস্ত্র বিক্রেতাকে আটক করেছে।

এদিকে আইএসপিআর জানায়, বান্দরবানের রুমা সেনা জোনের নেতৃত্বে ১৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখ গভীর রাতে একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকারী দলটি ১৫ অক্টোবর ভোরে রুমা জোনের অন্তর্গত অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানায় হানা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে আস্তানা থেকে বিভিন্ন অস্ত্র, গোলা বারুদ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র, গোলা বারুদ ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১টি সার্ক-২ রাইফেল, ৭টি ম্যাগাজিন (রাইফেল), ২২২ রাউন্ড গুলি, ২টি গ্রেনেড, ১টি ওয়াকিটকি সেট, ২টি ছুরি, ১ সেট কমব্যাট পোশাক এবং ১টি এলএমজি ম্যাগাজিন পৌচ।

উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী অবিরাম কাজ করে চলেছে। কিন্তু বর্তমানে কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারীদের কর্মকা- যেমন : চাঁদা আদায়, ছিনতাই ও অপহরণের চেষ্টা পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বান্দরবানের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে সেনা রিজিয়ন বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে।