২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঐতিহ্যের আলোয় উদ্ভাসিত পুরনো ঢাকার দেবী নিবাস

ঐতিহ্যের আলোয় উদ্ভাসিত  পুরনো ঢাকার দেবী নিবাস
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বুড়িগঙ্গা নদীকে ঘিরেই ভিত্তি গড়েছিল ৪শ’ বছরের পুরনো ঢাকা। প্রাচীন সেই ঢাকা বিশেষ করে পুরনো ঢাকার বুকে যেন মরীচা জমেছে। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আদি ইতিহাস ও ঐতিহ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনে অনবদ্য এক প্রয়াস দৃশ্যমান পুরনো ঢাকার ফরাশগঞ্জে । ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ছয়টা। আলোর আভায় উজ্জ্বল হলো বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ দেবী নিবাস। আর আলোকরশ্মির খেলায় উদ্ভাসিত হলো প্রতœতাত্তিক নিদর্শনের সাক্ষ্যবহ এই বাড়িটি। ঝলমলে বাতির ঔজ্জ্বল্যে জরাজীর্ণ ভবনটি যেন অতীতের আলোয় ফিরে পুরনো সেই সৌন্দর্য। পাশাপাশি গানের সুরে ও নাচের ছন্দে প্রাণের ছোঁয়া বয়ে যায় উনিশ শতকের গড়া ওই বসতভিটায়।

পুরনো ঢাকার সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত ও ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনকে সংরক্ষণের তাগিদে আলোকায়নের এ আয়োজনটি করে আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, গ্যেটে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ এবং আরবান স্টাডি গ্রুপ (ইউএসজি)। ‘পুরান ঢাকা আলোকায়ন-পাদপ্রদীপে ঐতিহ্য’ শীর্ষক এ আয়োজনে দেবী নিবাসকে আলোকায়িত করেন ফ্রান্স ও জার্মানির দুই আলোকশিল্পী ক্রিস্টফ ব্রুয়াস ও ফিলিপ গাইস্ট।

দেবী নিবাসকে আলোকায়নের আগে ছিল সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসী রাষ্ট্রদূত সোফি ওবের ও বংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় আলোকায়নের আয়োজন। প্রথমেই চারপাশের আলো নিভিয়ে শুরু হয় আয়োজন। উনিশ শতকের এক জমিদার দ্বারা ভবনটি বিভিন্ন স্থানে আলো প্রক্ষেপণ করা হয়। নিওক্লাসিক্যাল ধারায় নির্মিত ভবনটির নানা অংশের তাল বৃক্ষের মাঝেও ছিল আলোর আয়োজন। দুই তলা সুরম্য ভবনটি জুড়েই ছিল আলোর খেলা।

আলোকায়নের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। স্যাক্সোফোন আর বাঁশি বাজিয়ে শোনান রাহিন হায়দার। শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করেন স্নাতা শাহরিন। সঙ্গে ছিল পুরনো ঢাকার সাংস্কৃতিক উপকরণসমূহের একটি প্রদর্শনী।

আজ শনিবারও থাকছে এই আলোকায়নের আয়োজন। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এ আলোকায়ন চলবে।

প্রসঙ্গত, এ আয়োজনের আংশিক আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে ফ্রাঙ্কো-জার্মান ফান্ড। সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকা, গ্যেয়টে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এবং আরবান স্টাডি গ্রুপ (ইউএসজি) পুরনো ঢাকার হুমকির সম্মুখীন ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিমিত্তে আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘পুরান ঢাকা আলোকায়নÑপাদপ্রদীপে ঐতিহ্য’। ফ্রান্স ও জার্মানির দুই আলোকশিল্পী ক্রিস্টফ ব্রুয়াস এবং ফিলিপ গাইস্ট এ লক্ষ্যে ফরাশগঞ্জের দেবী নিবাস আলোকায়িত করবেন।

শুধু শুক্রবার আলোকায়নের পাশাপাশি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হবে যাতে থাকছে নৃত্য ও সঙ্গীত। সে সঙ্গে পুরনো ঢাকার সাংস্কৃতিক উপকরণসমূহের একটি প্রদর্শনী হবে। এই আয়োজনের লক্ষ্য পুরনো ঢাকার সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা।

অনুষ্ঠানসূচী ॥ ১৬ অক্টোবর, ২০১৫ শুক্রবার

সূর্যাস্তের পর : আলোকায়ন (ক্রিস্টফ ব্রুয়াস এবং ফিলিপ গাইস্ট)

সন্ধ্যা ছয়টা: আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

প্রধান অতিথি : অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশেষ অতিথি: বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসী রাষ্ট্রদূত সোফি ওবের এবং বংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ।

শিল্পীগণ ॥ ক্রিস্টফ ব্রুয়াস Ñ আলোক নির্দেশক এবং থিয়েটার পরিচালক। ফ্রান্সের লিওঁতে ফেটে ডি লুমিয়ের শীর্ষক আলোক উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ফিলিপ গাইস্ট Ñ জার্মানির এই শিল্পী চলচ্চিত্র ভিডিও এবং আলোকসজ্জায় খ্যাতিমান। তিনি ছবিও আঁকেন এবং আলোকচিত্রী। বাংলাদেশী শিল্পীদের মধ্যে রাহিন হায়দার স্যাক্সোফোন আর বাঁশি বাজাবেন। শান্তা শাহরিন নৃত্য পরিবেশন করবেন।

দেবী নিবাসের বৃত্তান্ত ॥ নদীমুখো একটি দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ দেবী নিবাস। সদরঘাটের খুব কাছে। উনিশ শতকের একজন ব্যবসায়ী এবং জমিদার ভবনটি নির্মাণ করান। দুই তলা ভবনটি নদী সংলগ্ন ঢাকার একটি স্মৃতিচিহ্ন। নিওক্লাসিক্যাল ধারায় নির্মিত ভবনটি তালবৃক্ষে আচ্ছাদিত ছিল। আহসান মঞ্জিলের কাছেই এমন একটি সুরম্য ভবন সাধারণের অগোচরেই ছিল বেশিরভাগ সময়। অনেক অযতœ এবং অবহেলার পরও ভবনটির সৌকর্য টিকে আছে।

সুবীর চৌধুরী শিল্পচর্চা বৃত্তি পেলেন ॥ চারুকলায় দীক্ষা নিয়েছিলেন সুবীর চৌধুরী। তবে শিল্পীর পরিচয়কে ছাপিয়ে নিজেকে পরিণত করেছিলেন শিল্প-সংগঠক হিসেবে। দেশের শিল্পচর্চার বিকাশে রেখেছিলেন অনন্য ভূমিকা। পালন করেছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টির দায়িত্ব। একই সঙ্গে বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টসের পরিচালক হিসেবেও রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। তরুণ ও উদীয়মান শিল্পীদের চর্চা এবং সাধনায় মাত্রা সঞ্চারের উদ্দেশে এ বছর থেকে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন প্রবর্তন করেছে সুবীর চৌধুরী শিল্পচর্চা বৃত্তি। শুক্রবার সন্ধ্যায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছরের বৃত্তিটি পেয়েছেন .....। চূড়ান্তভাবে মনোনীত দশ শিল্পীর মধ্যে নির্বাচকম-লীর রায়ের ভিত্তিতে তাকে নির্বাচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দি ডেইলি স্টার-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট এই বৃত্তির জন্য আবেদনপত্র গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়। সুবীর চৌধুরী শিল্পচর্চা বৃত্তির প্রথম বছরেই উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে। ডিজিটাল কোলাজ, ছাপচিত্র, চিত্রকলা, ড্রইং, ভিডিও আর্ট, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, স্থাপনাশিল্প মাধ্যমের শিল্পীরা তাদের কাজ জমা দেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর জমাকৃত আবেদনপত্র থেকে সাক্ষাতকার গ্রহণের জন্য শিল্পীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি কর হয় । বাংলাদেশে বসবাসকারী ৩৫ বছরের কম বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল, সক্রিয় ও উদীয়মান শিল্পীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। বৃত্তির মূল্যমান দুই থেকে চার লাখ টাকা এবং তা ২০১৫/১৬ সময়কালের জন্য প্রদান করা হয়। বৃত্তি লাভকারী শিল্পী যে শিল্পকর্ম তৈরি করবেন তা নিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

যৌথ চিত্রপ্রদর্শনী বিশ্বভাষার নন্দনরূপ ॥ ধানম-ির গ্যালারি চিত্রকে শুরু হলো সমকাল শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত যৌথ চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। ৪০ শিল্পীর অংশগ্রহণে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীর শিরোনাম বিশ্বভাষার নন্দনরূপ।

বিকেলে ১০ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারমান ও শিল্প-সমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী।

প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছেন ৪০ শিল্পীর সাম্প্রতিককালে আঁকা প্রায় ৭৫ চিত্রকর্ম। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৭

অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নাট্যশালায় মঞ্চস্থ গোমতীর উপাখ্যা ॥ শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে মঞ্চস্থ হলো কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের নাটক গোমতীর উপাখ্যান। ড. মুকিদ চৌধুরীর শিল্প নির্দেশনায় প্রযোজনাটির পরিচালনা করেছেন মোজাম্মেল হোসাইন সোহেল।

নাটকে আবর্তিত হয়েছে দুটি শ্রেণীকে কেন্দ্র করে। একদিকে রাজপরিবার আর অন্যদিকে প্রজাপরিবার। গোমতীর উপাখ্যানে আকর্ষণ ও বিকর্ষণের বলয়ে অণু-পরমাণু যেমনি একে-অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ আর মিলনের খেলায় মেতে ওঠে তেমনি শিল্পীরাও যেন একে-অপরের প্রতি আকর্ষিত ও বিকর্ষিত হয়ে এক মুহূর্তের জন্য হলেও সংঘর্ষ আর মিলনের খেলায় মেতে ওঠে। প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সম্পা রানি সিংহ, দিপা রানি দাস, মানসুরা সাথী, ফারহানা আহমদ, রাকিবা জ্যোতি, সোহেল রানা জয়, শাহতাৎ সরকার, মোর্শেদুল হাসান ভূইয়া, মোঃ আসাদুজ্জামান, আরিফুল ইসলাম মিলন।