২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটপাথে জিহাদী বই

সমকালীন বিশ্বে জঙ্গীবাদ এক কঠিনতর অসুখে পরিণত হয়েছে। জঙ্গীদের হিংস্র আক্রমণে সমগ্র পৃথিবীর মানুষই ভীতসন্ত্রস্ত। জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রতাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এই বাংলাতেই ইতোপূর্বে শীর্ষ জঙ্গী নেতাদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। কয়েকটি ধর্মীয় নামধারী জঙ্গী সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও জঙ্গীবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় জঙ্গীরা ২০০১ সালের পূর্ব থেকেই দেশে জঙ্গীপনা শুরু করে। বিএনপি-জামায়াত জোটের করপুটে থেকে তারা শেখ হাসিনাকেও হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এখনও তারা এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি। জঙ্গীবাদ অবশ্য বাংলাদেশের একক কোন সমস্যা নয়। সারাবিশ্ব জঙ্গীকবলিত। জঙ্গী সমস্যাকে ছোট করে দেখারও উপায় নেই।

জঙ্গীবাদ নির্মূলের দিকে অগ্রসর না হলে, কেবল ওপরে ওপরে জঙ্গীবাদবিরোধী প্রচার করে জঙ্গীবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা যাবে না। জঙ্গীবাদবিরোধী প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গীদের সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দলের আদর্শিক মিল রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। জঙ্গী উৎপাদন কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। জঙ্গীদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে জঙ্গী দমন কেবল কাগজে-কলমেই ঠাঁই পাবে। জঙ্গীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজটিও স্থবির। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জঙ্গীবিরোধী প্রচার জোরদার করা উচিত। এই প্রচার যেন আবার জঙ্গীকবলিত না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা উচিত। মসজিদ, মাদ্রাসাকেন্দ্রিক জঙ্গীবাদের বিকাশ দমনে জনগণের এগিয়ে আসার বিকল্প যেমন নেই, তেমনি এসব স্থানে জঙ্গীদের আনাগোনা চিরতরে বন্ধ করা অবশ্যই জরুরী। অনেক মাদ্রাসায় কী পড়ানো হয়, তার ওপর সরকারী নজরদারি থাকাটা সঙ্গত। ২০১৩ সালের মে মাসে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে তথাকথিত জিহাদের নামে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শিক্ষাদান যেমন হয়, তেমনি জঙ্গীবাদ, মৌলবাদে দীক্ষিত করার কাজটিও থেমে নেই। জামায়াত নিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসাগুলো জঙ্গী তৈরির কারখানা।

এই মাদ্রাসাগুলোকে অনিয়ন্ত্রিত রেখে জঙ্গী নির্মূল অভিযান সফল করা যাবে না। মানুষের অসহায়ত্ব, দারিদ্র্যকে পুঁজি করে ধর্ম ব্যবসায়ীরা যেন জঙ্গী বৃদ্ধি করতে না পারে সেজন্য করণীয় নির্ধারণ করা উচিত কর্তৃপক্ষের। বাংলাদেশ সরকার জঙ্গীবাদকে প্রশ্রয় দেয় না বরং তা নির্মূল করায় সচেষ্ট। কিন্তু জঙ্গী দমনের ক্ষেত্র শুধু তাদের অস্ত্র কারখানা, সরঞ্জাম উদ্ধার নয়।

জঙ্গীবাদে দীক্ষিত করার কাজে ব্যবহৃত গ্রন্থাদির বিস্তার রোধ করা হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, জঙ্গীপনায় উদ্বুদ্ধ করতে ফুটপাথে এবং বইয়ের বাজারগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে ধর্মীয় ভাবধারার আদলে জিহাদ তথা জঙ্গীবাদে আগ্রহী করে তোলার গ্রন্থাদি। এসব গ্রন্থের লেখক, প্রকাশক ও বিক্রেতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গীদের আস্তানা থেকে অস্ত্রশস্ত্রসহ জিহাদী বই উদ্ধার করে থাকে। কিন্তু এসব গ্রন্থ প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়ে থাকে নিশ্চুপ। মসজিদকেন্দ্রিক ফুটপাথ, এমনকি ঢাকার একাধিক মসজিদ সংলগ্ন বইয়ের দোকানগুলোতে জিহাদী গ্রন্থ ভরপুর। তেমনি ঢাকার বাইরেও। জঙ্গী সদস্যদের ব্রেনওয়াশ করতে এসব গ্রন্থ বেশ উপাদেয়। এগুলোকে বলা হয় ধর্মবিষয়ক গ্রন্থ। কিন্তু আড়ালে তার জঙ্গীবাদ প্রচার, এই গ্রন্থগুলো জঙ্গীদের অবশ্য পাঠ্য তালিকায় রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো এসব অগ্রাহ্য করে আসছে অপেশাদারী মনোভাব থেকেই। দেশকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য ধর্মের আড়ালে প্রকাশিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী ও জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ গ্রন্থগুলোকে শুধু নিষিদ্ধ নয়, এসবের প্রকাশনাও বন্ধ করতে হবে।