২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলন্ত ট্রেনে ঢিল

গত তেতাল্লিশ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ে অনেকটা নিষ্প্রভ ও লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কের বাস দুর্ঘটনা, ভাঙা খোঁড়া রাস্তা, যানজট ও ব্যয়বাহুল্য ইত্যাদি বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে সাধারণ মানুষ রেলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠলেও এ খাতে খুব একটা নজর না দেয়াই ক্রমশ পেছনের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফি বছর সড়ক-মহাসড়কের উন্নয়নে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করার পাশাপাশি সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগে বছরে শত শত কোটি টাকায় বাস-মিনিবাস আমদানি করা হলেও রেলের অবকাঠামো, জনবল উন্নয়ন, লাইন বর্ধিতকরণ দূরে থাক, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রেললাইন, ইঞ্জিন, বগি ও প্রশিক্ষিত জনবল হ্রাস পেয়েছে।

তবে সরকার রেলের উন্নয়নে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ ও বাজেট বরাদ্দ করলেও রেলের সাধারণ নিরাপত্তা এবং সেবার মান নিচে নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন-তখন ছোড়া ঢিলে যাত্রী হতাহতের ঘটনা, রেলভ্রমণের প্রতি নাগরিকদের আস্থাহীন ও সন্ত্রস্ত করে তুলছে। ট্রেনে ঢিল ছুড়ে মারা নতুন কিছু নয়, এর কারণে অহরহ হতাহতের ঘটনা ঘটলেও কমেনি এর হার। এর প্রতিকার হিসেবে চলন্ত ট্রেনে ঢিল মারা বন্ধ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও ঢিল ছোড়ার এই খেলা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে হবে। শুধু একটি অঘটনের পর কিছুদিন নড়েচড়ে বসলেই চলবে না।

মেহেদী কবীর

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, সিলেট