২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন তৈরি স্থগিত

  • স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছেন সিএইচসিপিরা

নিখিল মানখিন ॥ অবশেষে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের কথা জনকণ্ঠকে নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আইনটি কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা চলে আসছিল। আইনটির ২২ (ঘ) ধারা বাতিলের দাবিতে সারাদেশে শুরু হয় আন্দোলন। সারাদেশের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) ইতোমধ্যে নিজ নিজ জেলার সিভিল সার্জনের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। জেলা ও থানা পর্যায়ে চলছে মিছিল সমাবেশ। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীতে সারাদেশ থেকে আগত কয়েক হাজার সিএইচসিপি অংশ নেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের আশ্বাস পেয়ে তারা কর্মসূচী স্থগিত করেন। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জনকণ্ঠকে জানান, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন স্থগিত করা হয়েছে। আইনটি কার্যকর করা হবে না। সিএইচসিপিদের চাকরিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে, এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ক্লিনিকের কর্মীরা অভিযোগ করেন, ট্রাস্ট আইনের কয়েকটি ধারায় ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে আঘাত হানা হয়েছে। প্রকল্পের নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিদ্যমান কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিয়োগ পেয়েছেন। বেশ কয়েক বছর কাজ করছেন। কিন্তু ট্রাস্ট আইনে (খসড়া) চাকরি রক্ষা করতে যোগ্যতার পুনঃপরীক্ষা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। যা এ প্রকল্পে কর্মরত সকলের ভবিষ্যত জীবন অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

খসড়া ট্রাস্ট আইনের ২২ (ঘ) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, “স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার অপারেশন প্ল্যানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের চাকরি অপারেশনাল প্ল্যানের মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাস্টে ন্যস্ত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্যতা পুনঃযাচাই করে উপযুক্ত পদে শর্তে ও বেতনে নিযুক্ত করার ক্ষমতা ট্রাস্ট সংরক্ষণ করবে।” কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা দাবি করেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট আইন ২০১৫-এর ২২ (ঘ) ধারা বাতিল ও কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) চাকরি জাতীয়করণের করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের চাকরি জাতীয়করণ না করে নতুন একটি প্রকল্পে স্থানান্তর করে দ্বিতীয় দফায় আরও কিছু দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। চাকরি সরকারীকরণ না হওয়ায় সারাদেশের ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) চাকরি জীবন নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং শঙ্কিত। সারাদেশে সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সাড়ে ১৩ হাজার হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বা স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর চাকরির মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।