২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি স্মরণে গাইব- ফকির আলমগীর

জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি স্মরণে গাইব- ফকির আলমগীর

স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠসৈনিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যার গান সব সময় সোচ্চার। ভাগ্যের পরিহাসে স্বজন হারানোর বেদনায় তাঁর গান কখনও দিয়েছে প্রেরণা আবার কখনও যুগিয়েছে সাহসের আশির্বাণী। গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দেশের গুণী এই শিল্পী। আজকের পরিবেশনা ও সঙ্গীত প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা হয়।

কোন্ ধরনের গান দিয়ে সাজিয়েছেন আজকের পরিবেশনা?

ফকির আলমগীর : ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাত হলের জীর্ণ ছাদ ধ্বসে যে মেধাবী ছাত্ররা প্রাণ হারায়, আমার একক এ পরিবেশনা উৎসর্গ করব তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। সে সময় ‘শোকার্ত বাংলা’ নামে পাঠ ও গানের সমন্বয়ে আমার একটি এ্যালবাম বের হয়। শ্রোতাপ্রিয় এ এ্যালবামের কিছু গান দিয়ে শুরু হবে আমার পরিবেশনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ গান হলো ‘পড়তে ওরা এসেছিল মরতে আসে নাই’, সেদিন নাটক ছিল টেলিভিশন রূপালী পর্দায়’, ‘পূজা সারা না হইতে আগেই হলো বিসর্জন’, ‘ওরা জীবন দিয়ে জানিয়ে গেল জীবন অন্ধকার’ ও ‘কষ্টের কথা বলতে গলে তোমরা বলো রাজনীতি’। এছাড়া লালন, হাসন ও পূজার কিছু গানের পাশাপাশি আমার কিছু জনপ্রিয় গানসহ নভেরা, চে গুয়েভারা, ম্যান্ডেলা, জন হেনরি, এমনকি সুচিত্রা সেনকে নিয়েও আমার কিছু গান আছে সেগুলোও পরিবেশন করব। ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’ গানটি দিয়ে শেষ হবে অনুষ্ঠান।

গণসঙ্গীতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলুন

ফকির আলমগীর : গণসঙ্গীতের একটা সোনালী অতীত রয়েছে। ভাষা আন্দোলন, ৫৪, ৬২, ৬৬, ৬৯ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গণসঙ্গীতের সাহসী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় দুর্যোগেও এই সঙ্গীত আমাদের সঙ্গী হয়েছে। মাঝে কিছুটা সময় হতাশ ছিলাম, যেন এই সঙ্গীতের তেমন কোন প্রয়োজন নেই মনে হয়েছিল। পুনরায় বর্তমান প্রজন্ম আমার সেই হতাশা থেকে মুক্তি দিয়েছে। তার আবার গণসঙ্গীতমুখী হয়েছে।

কাছ থেকে দেখা মুক্তিযুদ্ধ...

ফকির আলমগীর : স্বাধীনতার জন্য লড়াই আমাদের শুরু হয়েছে দেশ বিভাজনের পর থেকেই। আমরা ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে এসেছি এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্যে। পরে এলো মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমার মধ্যে এক অন্যরকম অনুভূতি এনে দেয়, ঝাঁপিয়ে পড়ি মুক্তিযুদ্ধে। আমার কণ্ঠ নিয়ে যোগ দিলাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। ওই সময় গানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছি। সে সময় আমাদের এক একটি গান ছিল এক একটি অস্ত্র।

নতুন প্রজন্মের জন্য ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী ভবিষ্যতে কি অবদান রাখতে চায়?

ফকির আলমগীর : দেশের নতুন প্রজন্ম হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। আমরা চেষ্টা করছি গণসঙ্গীতের প্রতি তাদের সচেতনতা বাড়ানোর। দেশের সুন্দর সোনালী দিনের আগমনী বার্তা বয়ে আনবে গণসঙ্গীত। আমাদের চেষ্টা থাকবে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণসঙ্গীত শেখানো এবং এর প্রতি আকৃষ্ট করা।

গণসঙ্গীত নিয়ে আপনার ভাবনার কথা বলুন

ফকির আলমগীর : ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য। গণসঙ্গীতের নিজস্ব এক অহংকার আছে। সমাজের অন্যায়-অবিচার যতদিন থাকবে ততদিন গণসঙ্গীত এগিয়ে যাবে তার প্রতিবাদী প্রত্যয় নিয়ে।

-গৌতম পা-ে